846> || সম্পুর্ন দুর্গাপূজা 2021 ||
1>|| আজ মহা পঞ্চমী 2021 ||+++
<--আদ্যনাথ-->
10/10/2021 রবিবার।
পঞ্চমী–
পঞ্চমী তিথি আরম্ভ–
বাংলা– ২২ আশ্বিন, শনিবার।
ইংরেজি– ৯ অক্টোবর, শনিবার।
সময়– ভোর ৪টে ৫৭ মিনিট।
পঞ্চমী তিথি শেষ–
বাংলার– ২৩ আশ্বিন, রবিবার।
ইংরেজি– ১০ অক্টোবর, রবিবার।
সময়– রাত সওয়া ২টো।
পঞ্চমী তিথিতে দেবী স্কন্দমাতাস্বরূপে পূজিতা হন।
🌺 দেবী স্কন্দমাতা 🌺
সিংহাসনগতা নিত্যং পদ্মাশ্রিতকরদ্বয়া।
শুভদাস্তু সদা দেবী স্কন্দমাতা যশস্বিনী।।
"স্কন্দ" অর্থাৎ কার্তিকেয়।
স্কন্দের মাতা অর্থে কার্তিকেয়র মাতা।
জগদম্বা তাঁর এই স্কন্দমাতা স্বরূপে দেবসেনাপতি কার্তিকেয়র জননী।
"দেবীর প্রতিমাতেও সেই বাৎসল্যরসের পরিপূর্ণতার প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।
মা বসেছেন সিংহপৃষ্ঠে, মায়ের কোলে বসেছেন বালক স্কন্দ বা শিশু কার্ত্তিক।
মা যেমন সন্তানকে কোলে করে আগলে রাখেন, দেবী দুর্গাও তদ্রূপ স্কন্দকে নিজ অঙ্কে আগলে রেখেছেন।
মহামায়া সর্বভাবের ঊর্ধ্বে থেকেও বাৎসল্যভাবের কাছে নতি স্বীকার করেছেন, এটা তারই প্রমাণ"
"নবরাত্রের পঞ্চমদিনে, অর্থাৎ পঞ্চমী তিথিতে শ্রীঅম্বিকা তাঁর স্কন্দমাতাস্বরূপে আবির্ভূতা হন। মায়ের রূপটি অতীব মনোহর। দেবীর তিনটে নেত্র, সর্বাঙ্গে অলংকার, শীল ও সৌন্দর্যের স্কন্দমাতা। সিংহবাহিনী মায়ের চারটে হাত,
কিন্তু হাতে নেই কোন অস্ত্র। অস্ত্রের বদলে ওপরের দুই হস্তে রয়েছে পদ্মযুগল, নিচের বামহস্তে অভয় বিতরণ করছেন ও ডান হস্ত দিয়ে শৌর্যবান কার্ত্তিককে ধারণ করে আছেন। আগেই বলেছি, মায়ের এই রূপটি মমতা ও সন্তানবাৎসল্যে ভরপুর, তাই হাতে অস্ত্রশস্ত্র না থাকাটাই স্বাভাবিক।"
"দেবী কখনো কখনো পদ্মাসনাও হন। কোন কোন শাস্ত্রে দেবীকে "অগ্নিরূপিণী" বা অগ্নির অধিষ্ঠাত্রী দেবতারূপেও উল্লেখ করা হয়েছে। কথিত আছে, দেবী প্রখর সূর্যমণ্ডলের অন্দরে বাস করেন।
পুরাণ অনুযায়ী ব্রহ্মা থেকে সৃষ্ট চার ঋষিকুমার- সনক,সনন্দন,সনাতন ও সনৎ জন্মলাভ করেই পরমতত্ত্বে মনোনিবেশ করেন। পিতা ব্রহ্মার মুখ হতেই তাঁরা ভগবতী আদ্যাশক্তির অপ্রাকৃত লীলাবিলাস সম্বন্ধে জ্ঞাত হন। ব্রহ্মময়ী মায়ের মহিমা শ্রবণ করে সর্বকনিষ্ঠ ঋষিবালক সনৎকুমারের বাসনা জাগে বিশ্বমাতার সন্তান হয়ে মাতৃস্নেহসুধা পান করার। নিষ্কলুষ সনৎকুমারের এই ইচ্ছা পূরণ করতেই কল্পতরু মহামায়া জ্যোতির্ময়ীমূর্তিতে প্রকট হয়ে সনৎকুমারকে কোলে তুলে নিয়ে সিংহে বসেছিলেন। সনৎকুমারের অপর নাম ছিল স্কন্দ, তাই তাঁকে অঙ্কে ধারণ করে মা হলেন স্কন্দমাতৃস্বরূপিণী।
অনেকের মতে, স্কন্দ বা কার্তিক এখানে রূপক। স্কন্দ এখানে সমগ্র বিশ্বের প্রতীক বা প্রতিনিধিস্বরূপ। মা বিশ্বপ্রসবিনি, প্রাণীমাত্রেই সেই জগন্মাতার সন্তান। মা সমদৃষ্টিপরায়ণ, সন্তানে ভেদাভেদ করেন না। তাই, কোন একটি বিশেষ সন্তানকে অঙ্কে ধারণ করে বসে অবশিষ্টদের বাৎসল্য থেকে বঞ্চিত রাখা মায়ের পক্ষে অসম্ভব। তাই, কোলে বসা স্কন্দের মধ্যেই সম্পূর্ণ জগত নিহিত, আর সেই জগতেই আমরা সবাই বাসরত। অতএব, আমরা নিজেদের অজান্তেই মাতৃক্রোড়ে বসে রয়েছি।"
"মায়ের আরাধনা সন্তানপ্রাপ্তি ও পুত্রের সুরক্ষাহেতু বিশেষ ফলদায়ী।"
<--©➽--আদ্যনাথ-->
======================
2>|| আজ মহাষষ্ঠী 2021 ||
11/11/2021
আজ দেবীদুর্গা কাত্যায়নী রূপে পূজিতা হন।
আজ ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে খুলে যাবে
মাদুর্গার স্নিগ্ধ শান্ত চোখ।
জেগে উঠবেন দশভুজা।
চক্ষু দান ও চন্ডি পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসবের।
দেবীকাত্যায়নী হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিশেষ রূপ এবং মহাশক্তির অংশবিশেষ। তিনি নবদুর্গা নামে পরিচিত দুর্গার নয়টি বিশিষ্ট রূপের মধ্যে ষষ্ঠ।
মহিষাসুর বর প্রাপ্ত ছিলো যে তাকে একমাত্র সেই নারীই মারতে পারবে যে নারীর মাতৃ গর্ভে জন্মহয় নি।
সেই কারনে মহিষাসুর বধের উদ্যেশ্যে----
"দেবগণ চরম দুরবস্থায় বিষ্ণুর নিকট সহায়তা প্রার্থনা করলে, বিষ্ণু,শিব, ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেবগন মিলিতরূপে দেবী পার্বতীর অংশ নিয়ে তাকে কায়া রূপ দেন। সকলের দেহ হতে দিব্য তেজ নির্গত হয়ে এক জ্যোতিপর্বতের সৃষ্টি করল। সেই জ্যোতিপর্বত ধীরে ধারণ করল অষ্টদশভূজা, কৃষ্ণকেশী, ত্রিনয়না ও সহস্র সূর্যের প্রভাযুক্তা একদেবী।
তিনিই দেবীকাত্যায়নী।
তারপরে সকল দেবতা নিজের নিজের
শক্তি ও অস্ত্র দান করলেন দেবীকে।
শিব দিলেন ত্রিশূল । বিষ্ণু দিলেন সুদর্শন চক্র, বরুণ দিলেন শঙ্খ, অগ্নি দিলেন শক্তি, বায়ু দিলেন ধনুক, সূর্য দিলেন তীরভরা তূণীর, ইন্দ্র দিলেন বজ্র, কুবের দিলেন গদা, ব্রহ্মা দিলেন অক্ষমালা ও কমণ্ডলু, কাল দিলেন খড়্গ ও ঢাল এবং বিশ্বকর্মা দিলেন কুঠার ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র। এইভাবে অস্ত্রসজ্জিতা হয়ে দেবী গেলেন বিন্ধ্যাচলে।
সেখানে করার বিবকরার অসুরদ্বয় তাঁকে দেখে তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে তাদের রাজা মহিষাসুরের নিকট দেবীর রূপ বর্ণনা করেন। মহিষাসুর দেবীকে লাভ করবার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সে দেবীর পাণিপ্রার্থনা করে। দেবী জানান, তাঁকে লাভ করতে হলে তাঁকে যুদ্ধে পরাস্ত করতে হবে। মহিষাসুর যুদ্ধ করতে এলে দেবী সিংহপৃষ্ঠে আরোহণ করে যুদ্ধ করেন। মহিষাসুর মহিষের রূপ ধরে দেবীকে আক্রমণ করলে, দেবী তাঁকে তীব্র পদাঘাত করেন। দেবীর পদাঘাতে মহিষাসুর অচৈতন্য হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে দেবী তার মস্তক ছিন্ন করেন। এইভাবে দেবী কাত্যায়নী মহিষাসুরমর্দিনী নামে অভিহিতা হন।
তন্ত্র অনুসারে, শিবের ছয় মুখের মধ্যে উত্তর মুখ থেকে দেবী কাত্যায়নীর উদ্ভব। এই মুখ নীলবর্ণ এবং ত্রিনয়ন।
যোগশাস্ত্র ও তন্ত্র মতে, কাত্যায়নী আজ্ঞা চক্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী এবং এই বিন্দুতে মনোনিবেশ করতে পারলে তার আশীর্বাদ পাওয়া যায়।
কালিকা পুরাণে বলা হয়েছে, উড্ডীয়ন বা ওড্রদেশ (ওড়িশা) দেবী কাত্যায়নী ও জগন্নাথের ক্ষেত্র।
কাত্যায়নী পূজা অতি প্রাচীন কাল থেকেই প্রচলিত।
<--©➽--আদ্যনাথ-->
=========================
3>|| আজ মহাসপ্তমী 2021 ||
12/11/2021
আজ মঙ্গলবার মহাসপ্তমী।
মহা সপ্তমীতে মা দুর্গা তাঁর কালরাত্রি রূপে পূজিত হন।
কালরাত্রি রূপে দেবী কৃষ্ণবর্ণা। আলুলায়িত কেশে তিনি ধাবিত শত্রুর দিকে। তার কণ্ঠে বিদ্যুতের মালিকা। ত্রিনয়নী দেবীর শ্বাস প্রশ্বাসে বেরিয়ে আসে আগুনের হলকা। ভীষণদর্শনা দেবীর তিন হাতে অস্ত্র। এক হাতে ভক্তদের প্রতি বরাভয়। এই রূপই উপাসিত হয় কালিকা রূপে।
দেবীর বাহন গর্দভ।
সপ্তমীর ভোর হতেই একটি কলা গাছকে স্নান করিয়ে, লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে গণেশ মূর্তির পাশে রাখা হয় কলা বউ হিসাবে।
তারপরে হয় মহা স্নান।
এই মহাস্নানের মধ্যবিয়েই দুর্গোৎসবের মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
দুর্গা ঠাকুরের সামনে দর্পন (আয়না) রেখে তাতে প্রতিফলিত প্রতিবিম্ব শুদ্ধ জল দিয়ে স্নান করানো হয়।
দুর্গা পূজার এক বিশেষ অনুষ্ঠান, আচার বা নিয়ম হলো "কলাবউ"।
এই কলা বউ নিয়ে নানা মুনির নানান মত ও ভাবনা । সেই কারণে এখানে জেনে রাখা উচিত যে এই কলাবউ আসলে কী?
দুর্গাপূজার সপ্তমীর সকালে সুন্দর পাতা সমেত একটি কলা গাছকে স্নান করিয়ে লালপাড় সাদা শাড়ি পড়িয়ে কলা বউ সাজিয়ে ঘোমটা ঢাকা দিয়ে মন্ডপে গণেশের পাশে স্থাপন করা হয়।
অনেকেই এই কলাবউ টিকে গণেশের স্ত্রী বলে মনে করেন।
কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এটি আদৌ গণেশের স্ত্রী নয়।
এটি হোল 'নবপত্রিকা' ।
এটি ও মা দুর্গার রূপ বলাচলে গণেশের জননী।
আর গণেশের স্ত্রীদের নাম রিদ্ধি ও সিদ্ধি। নবপত্রিকার আক্ষরিক অর্থ বোঝায় নয়টি পত্রিকা বা পাতা। এই নব পত্রিকা নয়টি উদ্ভিদ দিয়ে গঠন করা হয়।
এই নয়টি উদ্ভিদ মা দুর্গার নয়টি শক্তির প্রতীক। এই নয়টি উদ্ভিদ হল কদলী বা রম্ভা (কলাগাছ), কচু, হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব(বেল), দাড়িম্ব(ডালিম), অশোক, মান ও ধান।
একটি সম্পূর্ন সুন্দর পাতা সহ কলাগাছের সঙ্গে উপরক্ত নয়টি উদ্ভিদকে সাদা অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে
স্নান করিয়ে ঘোমটা দিয়ে বধূর আকার দেওয়া হয়। তারপর তাতে সিঁদূর দিয়ে দুর্গা ও গণেশের দেবীর ডানপাশে রাখা হয়।
এই নয়টি ( ৯টি) উদ্ভিদের অধিষ্টাত্রী দেবী গণ যথা ক্রমে----
১। কলা (রম্ভা)গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী ব্রহ্মাণী।
২। কচুগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কালিকা।
৩। হরিদ্রা(হলুদ),গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী উমা।
৪। জয়ন্তীগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কার্তিকী।
৫। বিল্বগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী শিবা।
৬। দাড়িম্ব(ডালিম) গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী রক্তদন্তিকা।
৭। অশোকগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী শোকরহিতা।
৮। মানগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী চামুণ্ডা।
৯। ধানগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী লক্ষ্মী।
সপ্তমীর সকালে পুরোহিত নবপত্রিকাকে কোনও নদী বা পুকুরে স্নান করাতে নিয়ে যান। সঙ্গে মহিলারা উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনি করতে করতে যান।
শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী স্নান করানোর পর নবপত্রিকাকে নতুন লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরানো হয়। তারপর পূজামণ্ডপে নিয়ে এসে নবপত্রিকাকে মা দুর্গার ডানদিকে স্থাপন করা হয়।
পূজা মণ্ডপে নবপত্রিকার প্রবেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল অনুষ্ঠানটির প্রথাগত সূচনা হয়। নবপত্রিকা প্রবেশের পর দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। এরপর বাকি দিনগুলিতে নবপত্রিকা প্রতিমাস্থ দেবদেবীদের সঙ্গেই পূজিত হতে থাকেন। বিশেষ ভাবে লক্ষ্যণীয় হল, নবপত্রিকা প্রবেশের আগে পত্রিকার সামনে দেবী চামুণ্ডার আবাহন ও পূজা করা হয়।
<--©➽--আদ্যনাথ-->
========================
4>|| আজ মহাঅষ্টমী 2021 ||
13/10/2021
মহা অষ্টমী 13 অক্টোবর বুধবার 2021 ।
মহা অষ্টমীতে মা মহা গৌরী রূপে পূজিত হন।
মহা গৌরী, হিমায়লকন্যা ছিলেন গৌরবর্ণা। শিবের তপস্যা করে রৌদ্রে পুড়ে তিনি কৃষ্ণ বর্ণা হন। মহাদেব গঙ্গাজল দিয়ে তাকে স্নান করলে তাঁর কৃষ্ণ বর্ন দূর হয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ফর্সা।
তখন তাঁর এই রূপের নাম হয় মহাগৌরী।
||-অষ্টমীর আরাধনা-||
<----আদ্যনাথ--->( © )
শারদীয়া দুর্গা পূজার আজ অষ্টমী,
মহা অষ্টমী পূজার আয়োজন।
নির্মল আকাশ, উজ্জ্বল কিরণে,
আজ তোমারে স্বরণ করি আকুল হৃদয়ে।
সকল হৃদয়ে অনাবিল আনন্দের লহর,
নুতন পোশাক পরে মন উচাটন।
"মা" দশভূজা তোমারে করি আহ্বান,
প্রনমি মাগো তোমার শ্রী চরণে বার বার।
সমগ্র দেব দেবীর শক্তি তোমাতে নিহিত,
সমগ্র ব্রহ্মান্ড তোমার পদ তলে দলিত।
তুমি মাগো সর্বভূতে সনাতনী,
মর্ত বাসীর হৃদয়ে তুমি আনন্দ দায়িনী।
মহা অষ্টমী ও মহা নবমীর সন্ধিক্ষণে,
সন্ধি পূজার শুভ লগ্নে হর্ষিত মনে,
তোমার মাহাত্ম গাই উল্লসিত মনে।
তোমার বিরাট রূপেতে জগৎ মথিত,
তোমার আশীষে জগৎ সৃজিত।
নানান উপাচারে আজ পূজিব তোমায়,
ব্যাকুল হৃদয়ের আনন্দ অর্ঘ দিয়ে।
সৃষ্টির করুণাবৎসলা রূপে তোমায়,
জগৎ বাসী মাতা রূপে পূজিবে তোমায়।
তুমি মাগো দশ হাতে দশ দিগ শাসাইছ,
সর্ব অসুর বিনাশিনী ব্রহ্মান্ড জিয়াইছ।
তোমার করুণা ধারায় আপ্লুত মর্ত বাসী,
তোমার আশীষে আহ্লাদিত জগৎ বাসী।
হে জগৎ মাতা তোমারে প্রনাম ।
" নমঃ মহিষগ্নি মহামায়ে চামুন্ডে মুন্ডমালিনী
আয়ুরারোগ্য বিজয়ং দেহি দেবী
নমোস্তুতে ||"
"সর্বমঙ্গল্য মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে,
শরণ্যে ত্রম্বকে গৌরি নারায়ণী নমোহস্তুতে|"
"নমঃসৃষ্টিস্তিতিবিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনী,
গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণী নমোস্তু তে ||"
"নমঃ শরণাগতদীর্নাত পরিত্রাণপরায়ণে |
সর্বস্যাতিহরে দেবী নারায়ণী নমোস্তু তে ||"
যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু চ্ছাযারূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মীরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু দযারূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা,
যা দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা,
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমঃ নমঃ।
"এষ সচন্দন-পুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমঃ
দক্ষযঞ্জ বিনাশিন্যে মহাঘোরায়ৈ যোগিনী
কোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ ||"
"জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী |
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোস্তু তে ||"
"নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমঃ নমঃ "
______××_______
প্রচলিত বিশ্বাস, নবরাত্রির অষ্টম রাতে মহাগৌরীর পুজো করলে সব পাপ ধুয়ে যায়। দেবী সাদা পোশাক পরিহিতা, চার হাত বিশিষ্টা দেবীর বাহন ষাঁড়। দেবীর এক হাত শোভিত বরাভয় মুদ্রায়। বাকি তিন হাতে থাকে পদ্ম, ত্রিশূল এবং ডমরু |
দেবী এই গৌরী রূপে অষ্ট বর্ষি বালিকা রূপে শিব কে নৃত্য করে প্রমোদ দেন পরে শিব তার পরিচয় জানতে চাইলে দেবী পার্বতী নিজের রূপ প্রকাশ করেন
এই মহা অষ্টমীতে দেবী দুর্গার সঙ্গে মহিষাসুরের ভীষণ সংগ্রাম আরম্ভ হয়। মহিষাসুর ক্ষণে ক্ষণে রূপ পরিবর্তন করতে লাগলেন।
এরপরেই দেবী মহিষাসুরকে ত্রিশূল দিয়ে বধ করলেন। আর এই ক্ষণটিকেই বলা হয় সন্ধিক্ষণ ।
এই সন্ধিক্ষণেই হয় সন্ধি পূজা।
অষ্টমী তিথি শেষ হয়ে যাওয়ার শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথি শুরু হওয়ার প্রথম ২৪ মিনিটকে বলা হয় সন্ধিক্ষণ । ঠিক এই সময়েই দেবী দুর্গা চন্ড ও মুন্ড নামে দুই ভয়ঙ্কর অসুরের নিধন করেছিলেন। এই ঘটনাটি মনে রাখার জন্যই প্রতি বছর অষ্টমী এবং নবমীর সন্ধিক্ষণে এই সন্ধিপূজা করা হয়। চান্দ্রমাস ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই সময়টি প্রতিবছরই পরিবর্তিত হয়।
সন্ধিপুজোর নৈবেদ্য- সন্ধিপুজোয় অন্যতম উল্লেখযোগ্য নৈবেদ্য হল পদ্ম। এই পুজোয় মা-কে ১০৮টি পদ্ম অর্পণ করা হয়, ১০৮ টি বেলপাতা এবং ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়। নৈবেদ্যয় দেওয়া হয় গোটা ফল, জবা ফুল, সাদা চাল, শাড়ি, গহনা, এবং সাজ-সজ্জার দ্রব্যও থাকে। এছাড়া সন্ধিপুজোর সঙ্গে বিভিন্ন আচার ও প্রথা জড়িয়ে আছে। আগে রাজপরিবার ও জমিদার পরিবারের দুর্গা পুজোয় সন্ধিপুজোর সময়ে কামান দেগে তোপধ্বনি করা হত। এখনও সন্ধিপুজোয় বিশেষ ঢাক বাদ্য যন্ত্র বাজানোর হয়।
এদিন পুষ্পাঞ্জলী দিয়ে দেবী দুর্গাকে মনের বাসনা ব্যক্ত করা হয়। এদিন চামুণ্ডারূপে দেবীর পুজো করা হয়। চালকুমড়ো, আখ বলি দেওয়ার রীতি আছে এদিন। এদিন কিশোরীদের দেবীর আসনে বসিয়ে পুজো করা হয়, যা কুমারী পুজো নামে খ্যাত।
"কুমারী পূজা":::---
মহাষ্টমীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হল 'কুমারী পূজা'।
যেখানে একজন বালিকাকে দেবী দুর্গারূপে আরাধনা বা পূজা করা হয়। যেসব বালিকারা বয়:সন্ধিতে পৌঁছায়নি এদিন সকালে তাদের দেবীরূপে পুজো করা হয়। ১৬টি উপকরণ দিয়ে পূজার সূত্রপাত হয়। শুরুতেই গঙ্গাজল ছিটিয়ে কুমারী মা-কে শুদ্ধ করে তাঁর চরণযুগল ধুয়ে তাঁকে বিশেষ অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। অর্ঘ্যের শঙ্খপাত্রকে সাজানো হয় গঙ্গাজল, বেল পাতা, আতপ চাল, চন্দন, পুষ্প ও দূর্বাঘাস দিয়ে। দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। এরপর অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস- এই পাঁচ উপকরণ দেওয়া হয় 'কুমারী' পূজাতে।
কুমারী পূজার সম্বন্ধে কিছু লিখছি
পরের অংশে।
<--আদ্যনাথ-->
==========================
4/a> || কুমারী পূজা কি? ||
-- 13/20/2021
মহাষ্টমীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হল 'কুমারী পূজা'।
যেখানে একজন বালিকাকে দেবী দুর্গারূপে আরাধনা বা পূজা করা হয়।
স্বামী বিবেকানন্দ 1901 সালে
কুমারী পুজোর প্রচলন করেন।
শাস্ত্রকাররা নারী জাতিকে শ্রদ্ধা-সম্মান
জানাতে এই পুজোর পক্ষে মত দিয়েছেন,
এবং এমনটাই এই কুমারী পুজোর মূল লক্ষ্য।
স্বামীজী বিশ্বাস করতেন যে সমাজ ও দেশ নারী জাতিকে শ্রদ্ধা-সম্মান করেনা সেই সমাজ ও দেশ কোনদিন উন্নতি করতে পারেনা।
সনাতন ধর্মে তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে
কুমারী পূজা হলো এক বিশেষ পূজা অনুষ্ঠান, যেখানে ষোলো বছরের কম বয়সী অরজঃস্বলা কুমারী মেযে়কে দেবী রূপে পূজা করা হয়। শারদীয় দুর্গাপূজার অংশ হিসেবে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে ।
এই পুজোর আচার রীতি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের। চেন্নাইয়ের মাদুরাইতে মীনাক্ষি দেবী মন্দিরেও এই পুজো সম্পন্ন হয়। পুজো আচার অনুষ্ঠানে ভিন্নতা থাকলেও , কুমারী পুজোর ইতিহাস ও মাহাত্ম্য একই। এর নেপথ্যে যে পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে তাও একই।
(এছাড়াও কালীপূজা, জগদ্ধাত্রীপূজা এবং অন্নপূর্ণা পূজা উপলক্ষে এবং কামাখ্যাদি শক্তিক্ষেত্রেও কুমারী পূজার প্রচলন রয়েছে।)
শাস্ত্র অনুসারে সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।
যোগিনীতন্য, কুলার্ণবতন্য, দেবীপুরাণ, স্তোত্র, কবচ, সহস্রনাম, তন্যসার, প্রাণতোষিণী, পুরোহিতদর্পণ প্রভৃতি ধর্মীয় গ্রন্থে কুমারী পূজার পদ্ধতি এবং মাহাত্ম্য বিশদভাবে বর্ণিত হযে়ছে।
আমি এখানে সামান্য কিছু বর্ণনা করছি।
কুমারী পুজোর বিভিন্ন প্রকার----
শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, যে কোনও শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্য দিয়েই ভগবতীর প্রকাশ হয়। আর সেই প্রকাশ পর্বেই বিশ্বের মধ্যে মমত্ব ও মানবিকতা বোধ জাগ্রত হয় বলে মনে করেন বহু মনীষী। রামকৃষ্ণদেবের সেই ভাবনা থেকে বেলুড়ে প্রবর্তিত হয় কুমারী পুজো।
শ্রী দুর্গা পুজো বৎসরে দুইবার হয় চৈত্রমাসে এবং আশ্বিনমাসে।
মাসের শুক্লপক্ষের প্রতি পদ থেকে নবমী তিথি পর্যন্ত।
চৈত্র মাসের নবরাত্রিকে " বার্ষিক নবরাত্র"।
এবং অশ্বিন মাসের নবরাত্রিকে "শারদীয় নবরাত্র" বলাহয়।
এই দুই নবরাত্রে শাস্ত্র অনুসারে কন্যা তথা কুমারী পূজা করা হয়।
যেমন------
1>এক জন কন্যাকে পুজো করলে
ঐশ্বর্য প্রাপ্তি হয়।
2>দুইজন কন্যাকে পুজো করলে
ভোগ এবং মোক্ষ প্রাপ্তি হয়।
3>তিনজন কন্যাকে পুজো করলে
ধর্ম,অর্থ,কাম প্রাপ্তি হয়।
4>চারজন কন্যাকে পুজো করলে
রাজ্ পদ প্রাপ্তি হয়।
5> পাঁচজন কন্যাকে পুজো করলে
বিদ্যা প্রাপ্তি হয়।
6> ছয়জন কন্যাকে পুজো করলে
ছয় প্রকার সিদ্ধি প্রাপ্তি হয়।
7> সাতজন কন্যাকে পুজো করলে
রাজ্য প্রাপ্তি হয়।
8> আটজন কন্যাকে পুজো করলে
ধন সম্পদ প্রাপ্তি হয়।
9> নয়জন কন্যাকে পুজো করলে
পৃথিবীর প্রভুত্ব প্রাপ্তি হয়।
এই প্রকারে কুমারী পূজো তে কেবল দশ (10 ) সৎসর বয়সী পর্যন্ত কন্যাদেরই পূজো করার রীতি।
এছাড়া নব রাত্রির পুজোতে অষ্টমী বা নবমীর দিন কুমারী কন্যার পুজো হয়।
সামর্থ অনুসারে এই নয় দিন নবরাত্রির পুজো হয়।
কেউ কেউ এই নয়দিন কুমারী দের পূজন করেন বা ভোজন করান।কেউ কেউ অন্তিম দিনেই কুমারী কন্যাদের ভোজন করান।
এক থেকে দশ (10) বৎসরের কন্যা কেই পূজো করতে হয়। এর থেকে অধিক বয়সের কন্যা শাস্ত্র অনুসারে উপযুক্ত নয়।
কন্যার সংখ্যা নয় হলে এটি উত্তম,আথবা
কমসে কম দুইজন তো অবশ্যই চাই।
এক কন্যকে ভোজন করানোর কোন বিধান নাই।
1>দুই বৎসরের কন্যা কুমারী রূপে গণ্য। ।
কুমারী পূজনে দুঃখ দারিদ্র দূর হয়।
2>তিন বৎসরের কন্যা ত্রিধা রূপে গণ্য।
ত্রিধামুর্তি পূজন করলে ধর্ম,অর্থ,কাম
প্রভিতির সিদ্ধি প্রাপ্তি হয়।
3>চার বৎসরের কন্যা কল্যাণী রূপে গণ্য।
কল্যাণী পূজনে বিদ্যা,বিজয় তথা
সর্বপ্রকার কামনার পূর্তি হয়।
4>পাঁচ বর্ষরের কন্যা রোহিনী রূপে গণ্য।
রোহিনী পূজন করলে সুস্বাস্থ,
সর্বরোগ থেকে মুক্তি লাভ।
5>ছয় বৎসরের কন্যা কালিকা রূপে গণ্য।
কালিকা পূজনে শত্রু দমন,তথা
বিরোধী কে পরাস্ত করবার জন্য
বিশেষ উপযোগী।
6>সাত বর্শীয় কন্যা চন্ডিকা রূপে গণ্য,
চন্ডিকা পূজনে ধন সম্পত্তির প্রাপ্তি
হয়।
7>আটবর্শীয় কন্যা শাম্ভবি রূপে গণ্য,
শাম্ভবি পূজনে নির্ধনতা দূর হয়।
ঝগড়া বিবাদে বিজয় প্রাপ্ত হয়।
8>নয় বর্শীয় কন্যা দুর্গা রুপে গণ্য,
দুর্গা পূজনে ভক্তকে সর্ব প্রকার সঙ্কট
থেকে রক্ষা করে। কঠিন কার্যে সিদ্ধি
প্রদান করে, সর্ব ভয় দূর হয়।
9>দশ বর্শীয় কন্যা সুভদ্রা রুপে গণ্য,
সুভদ্রা পূজনে ভক্তের ইহলোক
পরলোক , অর্থাৎ উভয় লোকের সুখ
প্রাপ্তি হয়।
এহেন নয় কন্যা নব দুর্গার প্রতিমূর্তি।
বর্ণনানুসারে কুমারী পূজায় কোন জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যে-কোন কুমারীই পূজনীয়, এমনকি বেশ্যাকুলজাত কুমারীকে ও পূজা করা যেতে পারে।
তবে সাধারণত ব্রাহ্মণ কুমারী কন্যার পূজাই সর্বত্র প্রচলিত। এক্ষেত্রে এক থেকে ষোলো বছর বয়সী যে কোনো কুমারী মেযে়র পূজা করা যায়। বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে এই সকল কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।
এক বছরের কন্যা--- সন্ধ্যা,
দুই বছরের কন্যা--- সরস্বতী,
তিন বছরের কন্যা--- ত্রিধামূর্তি,
চার বছরের কন্যা--- কালিকা,
পাঁচ বছরের কন্যা ---সুভগা,
ছয় বছরের কন্যা --- উমা,
সাত বছরের কন্যা --- মালিনী,
আট বছরের কন্যা-- কুষ্ঠিকা,বা কুব্জিকা,
নয় বছরের কন্যা --- কালসন্দর্ভা,
দশ বছরের কন্যা --- অপরাজিতা,
এগারো বছরের কন্যা --- রূদ্রাণী
বারো বছরের কন্যা --- ভৈরবী,
তেরো বছরের কন্যা --- মহালক্ষ্মী,
চৌদ্দ বছরের কন্যা --- পীঠনাযি়কা,
পনেরো বছরের কন্যা --- ক্ষেত্রজ্ঞা,
ষোলো বছরের কন্যা --- অন্নদা বা
অমিবকা বা অম্বিকা।
কুমারী পূজায় নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা। ঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চারদিক মুখরিত হয় শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে।
আর এভাবেই সম্পন্ন হয় কুমারী পূজা।
<--আদ্যনাথ-->
===========================
5>|| আজ মহানবমী 2021 ||
14/10/2021বৃহস্পতিবার।
14 অক্টোবর বৃহস্পতিবার 2021 ।
মহানবমীতে মা সিদ্ধিদাত্রী রূপে পূজিত হন।
সিদ্ধিদাত্রী: নবদুর্গার নবম তথা শেষ রূপ হল সিদ্ধিদাত্রী। সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে আশীর্বাদী মুদ্রা। তিনি সিদ্ধি দান করেন। অর্থাৎ তার উপাসনায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি। সবাইকে বরাভয় দেন এই মাতৃকামূর্তি। দেবী ভগবত্ পুরাণে আছে, স্বয়ং মহাদেব দেবী পার্বতী কে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পুজো করেছিলেন। এবং তার ফলে মহাদেব সকল সিদ্ধি লাভ করেন। সিদ্ধিদাত্রীর আশীর্বাদেই সর্ব সিদ্ধি লাভ করেন মহাদেব |
নবমী তিথি শুরু হয় সন্ধিপূজা দিয়ে। পুরাণ মতে, অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী শুরুর ২৪ মিনিট অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিট সময়কে সন্ধিক্ষণ বলা হয়। আর এই সন্ধিক্ষণেই আয়োজিত হয় সন্ধি পুজো। এই সময়ই নাকি চিন্ময়ী দুর্গা পূজিতা হন মুণ্ডমালিনী চতুর্ভূজা চামুণ্ডারূপে। কারণ ঠিক ওই সময় দেবী দূর্গার ললাট থেকে জন্ম নেওয়া চামুণ্ডা, অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন বলে পুরাণে বর্ণিত আছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে সন্ধিপুজোর রীতি বহু প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে।
এই নবমী পূজার আছে বিশেষ মাহাত্ম্য। এই দিন অগ্নিকে প্রতীক করে সব দেবদেবীকে আহুতি দেওয়া হয়। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। শাস্ত্র অনুযায়ী মহানবমী তিথি অন্যান্য তিথির তুলনায় ‘শুভ’। তাই এই শুভ তিথিতে দেবীর আরাধনা করলে পূণ্য লাভ হয়। নবমীর শুভ পূণ্য তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে পৃথিবীতে শুভ শক্তির প্রকাশ ঘটান দেবী দুর্গা।
নবমী পুজোর পরেই দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে যাত্রার ক্ষণ।
একদিকে মাতৃপুজোর শেষদিনের আনন্দ, অন্যদিকে আর একদিন পরেই ভক্তদের বিদায় জানিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে যাত্রার ক্ষণ।
আসলে এই মহানবমীর দিনে
মর্ত্য বাসীর হৃদয়ে, মনের গভীরে বেজে ওঠে বিসর্জনের বাঁশি।
শারদ বিসর্জনের প্রাক্কালে ধুনোর গন্ধের মত আকাশে বাতাসে,চারিদিকে ছড়িয়ে যায় গভীর নিস্তব্ধতার করুন হাতছানি।
সকলের অন্তর্নিহিত মনে একই সুর বাজে
'নবমী-নিশিরে,না হইও ভোর'
নবমীর দিন ভক্তরা গভীর আগ্রহ নিয়েই
দিনটি পালন করেন, কারণ আর একদিন পরই বিজয়া দশমী! অর্থাৎ মাকে বিদায় দেবার পালা।
তারপরেই আবার এক বৎসরের অপেক্ষা।
এই এক বৎসর "মা" কে হৃদয়ে ধারণ করে তাঁর পদকমল যুগল চিন্তন করে আনন্দে দিন গুলি এগিয়ে চলে।
" দশকর ধারিণী শঙ্করী শুভদে,
হরি-হর-বিধিনুত-মঙ্গল-বরদে।
জয় জগদীশ্বরি শাম্ভবি বিমলে,
মম নতিরেষা তব পদকমলে।।"
<--©➽-আদ্যনাথ--->
===========================
5/a> || আজ শুভ নবমী 2021 ||
<----আদ্যনাথ--->
শোকবিহ্বল মেনকা,
নবমী নিশি গো তুমি আর হয়োনা ভোর,
রাত পোহালেই উমাও চলে যাবে মোড়।
উমা চলে গেলে প্রাণ আর বাঁচবেনা মোড়।
নবমী নিশি রেখো এইটুকু মিনতি মোড়।
চার দিন আমি ছিলাম মনের সুখেতে
ওরে নবমীনিশি তুই কেন এলি আময় কাঁদতে।
ওরে নিশি জানি তুই রাখবিনা আমার মিনতি,
আজহতে আবার আগামী বৎসরের অপেক্ষায় বসে থাকি।
সকলকে শুভ মহানবমীর শুভেচ্ছা জানাই।
<----আদ্যনাথ--->
=========================
6>|| আজ বিজয় দশমী 2021 ||
অর্থাৎ আজ বিজয়া
15/10/2021
১৫ অক্টোবর শুক্রবার দশমী।
দিকে দিকে বাজে বিদায়ের বাজনা,
ঢাকের কাঠিতেও তাই বিদায় বেদনা।
ঢোলের সাথে বাজে কাশর ঘন্টা,
এমন দৃশ্যে বেদনায় ভরেজায় মনটা।
সকলের মুখে এক বুলি,
করোনার কারণে হবেনা কোলাকুলি।
দূর থেকে মিষ্টি মধুর হাসি আর বুলি,
শুভ বিজয়ায় লুপ্ত আজ কোলা কুলি।
মন্ডপে মন্ডপে সিঁদুর খেলা,
চলছে এয়োদের সিঁদুর খেলা।
বিজয়ার আনন্দে মন রাঙিয়ে,
একে অন্যের মুখ দিচ্ছে রাঙিয়ে।
ভুলে গেছি কোলা কুলির পালা,
দেখি এয়ো'দের মন রাঙানোর খেলা।
সকলে ব্যস্ত সেলফি নিতে,
সিঁদুর রাঙা মুখে,বরণ ডালা হাতে।
বরণের পালা শেষে জয় মা দুর্গা বোলে
প্রতিমা নিয়ে যাওয়া গঙ্গার ঘটে।
চারদিন মর্তে মায়ের সাথে আনন্দ করে,
উমা চললেন কৈলাশে নিজের ঘরে।
আজ মা চলেছেন কৈলাসের পথে,
রেল পথ তো নাই কৈলাস পর্বতে।
বই রোড,পথে তো ব্রিজ ভাঙার ভয়,
অসুর সিংহ নিয়ে প্লেনে এলাউ নয়।
সুগম পথ গঙ্গাই চিরদিনের ভরসা,
সেখানেও আছে বাঁধ গুলোর সমস্যা।
এবারের যাওয়াতো দোলায় চড়ে,
পৌঁছতে হবে কৈলাশে নিজের ঘরে।
ভলেনাথ বসে নন্দী-ভৃঙ্গির সাথে
নেশায় বিভোর চিলিম হাতে।
সকলে মিলে নেশায় বিভোর আজ,
উমার চিন্তায় বসে অঘোর নাথ।
মাদুর্গার পরিবারকে ট্রাকে চাপিয়ে,
লাইন দিয়ে সকলে চলেছে গঙ্গার ঘটে।
কর্পোরেশন করেছে সুচারু ব্যবস্থা,
গঙ্গার ঘাটে আছে ক্রেনের ব্যবস্থা।
আজকাল ক্রেনে করেই হয় বিসর্জন,
গঙ্গার পারে দাঁড়িয়েই দেখার নিয়ম।
প্রতিমাকে জলে চুবিয়েই তুলে আনে,
গঙ্গার জলে রঙে ও দূষণের ভয়ে।
চারিদিকে বাড়ন্ত করোনার প্রকোপ,
তবুও মানেনা মন আনন্দের ঝোঁক।
আজ জানাই সুস্থ থাকার বার্তা,
দিকে দিকে চলছে নানান সতর্কতা।
এবার হোক করোনা মুক্ত শুভ বিজয়া,
আশাকরি করোনা মুক্ত হবে দুনিয়া।
ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন,
সুস্বাস্থ্যর জন্য আনন্দে নাচুন।
হৃদয়ে হাসিটুকু ধরে রাখুন,
রোজ হাঁ হাঁ হাঁ করে হাসুন।
জোরে জোরে উচ্চ স্বরে হাসুন,
হাসিই বেঁচে থাকার শ্রেষ্ঠ গুন।
<--©--আদ্যনাথ--->
==========================
আজ 'দশমী'
আজ শারদ দশমী অর্থাৎ আবেগ ও মনবেদনার মিশ্রিত এক অনুভূতি।
দুর্গা পূজার নবমীরাত্রির পরেই শুরু হয়
মনখারাপের আবেগ অর্থাৎ
"বিজয়া দশমী"।
আর এই দশমী মানেই সপরিবারে মায়ের কৈলাসে ফিরে যাওয়া।
সেই কারণেই 'দশমী' কথাটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আমাদের আবেগ পূর্ন
মনখারাপের মিশ্রিত এক অনুভূতি।
এই মনবেদনার অনুভূতিই মনকে ভাবিয়ে তোলে আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে। আর এই তিথিতেই দেবীদুর্গা পিতৃ গৃহ ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে পাড়ি দেন।
তাইতো এই তিথিকে 'বিজয়া দশমী' বলা হয়।
এই দশমীকে 'বিজয়া' বলার কারণ পৌরাণিক কাহিনীতে আছে,
"মহিষাসুর বধ" কাহিনীতে বলা হয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে মা দুর্গা
বিজয় লাভ করেছিলেন মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
এই বিজয়ের কারণেই 'বিজয়া' বলা হয়।
উত্তর ও মধ্য ভারতের কোন কোন স্থানে এই দিনে পালিত হয় দশেরা উৎসব । তবে সেটির তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। 'দশেরা' শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ 'দশহর' থেকে।
যার অর্থ দশানন রাবণের মৃত্যু। বাল্মীকি রামায়নে বলা হয়েছে, আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতেই লঙ্কেশ্বর রাবণকে বধ করেছিলেন পুরুষোত্তম রামচন্দ্র।
তবে দুর্গাপুজোর শেষ দিন হিসাবে দশমী শোকের ছায়া বহন করলেও শাস্ত্রে এই বিষয়টিকে সেই ভাবে দেখা হয়নি।
"এপ্রসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের একটি কাহিনী উল্লেখযোগ্য। রানী রাসমণীর জামাতা মথুরবাবু একসময় আবেগপ্রবন হয়ে দশমীর দিনেও মা দুর্গাকে বিসর্জন দেবেন না বলে জেদ ধরে বসেন। তখন রামকৃষ্ণদেব তাঁকে বোঝান, বিজয়ার অর্থ দেবীমা ও সন্তানের বিচ্ছেদ নয়। তিনি আরও বলেন যে, মা কখনও তার সন্তানের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেন না। এতদিন মা দালানে বসে পুজো নিয়েছেন এরপর মা হৃদয়মন্দিরে বসে পুজো নেবেন। এরপরেই মথুর শান্ত হন এবং বিসর্জন হয় মা দুর্গার প্রতিমা।"
15/10/2021 শুক্রবার।
দোলায় দেবীর কৈলাশে গমন, ফল– মড়ক।
" দশকর ধারিণী শঙ্করী শুভদে,
হরি-হর-বিধিনুত-মঙ্গল-বরদে।
জয় জগদীশ্বরি শাম্ভবি বিমলে,
মম নতিরেষা তব পদকমলে।।"
<--©➽-আদ্যনাথ--->
===========================
বিজয়ায় আন্তরিক শুভেচ্ছা৷
বিজয়া দশমী বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও শান্তি,পূর্ন হোক সকল মনকামনা।
শুভ হোক আগামী দিন গুলি।
ঈশ্বরের নিকট এই প্রার্থনা করি।
========================