803/1> ||জাগো মা সরস্বতী ||
803/2>|| দেবী সরস্বতীও আমরা বাঙালি ||
803/3> || আমাদের স্বরস্বতী পুজো 2025 - 02/02/2025
============================+
803/1> ||জাগো মা সরস্বতী ||
<--©➽--আদ্যনাথ-->
তোমার পূজা হোল সাঙ্গ,
" নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে।।
জয় জয় দেবী চরাচর সারে,
কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে,
ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।"
এমন সুন্দর মন্ত্র দিয়ে হোয়েছিল
পূজার আয়োজন।
সকালে স্নান করে, উপবাস থেকে,
কি সুন্দর ছোট ছোট মেয়েরা শাড়ি পরে ।
বয়স নির্বিশেষে সকল মেয়েরাই শাড়ি পরে।
মনেহয় শাড়ি পরার উৎসব।
ছোট ছোট পড়ির মতন শিশু সব।
একসাথে অঞ্জলী দেওয়া,
তারপরে খিচুড়ি ভোগ খাওয়া।
বন্ধুদের সাথে একটু ঘুরে আসা।
আসলে সরস্বতী পূজা মানে,
এক বাৎসরিক প্রেম পার্বন।
ভালোলাগা মনেধরা
ভালোবাসার সূচনা।
মাগো সকলি হোল সমাপন,
এবার হোক তোমার জাগরণ দেখি।
সকল মিটলেও তোমার পূজার
আসোল টুকুই হয়েগেল ফাঁকি।
জাগো মা জাগো,
তোমার পূজার নামে,
হচ্ছে কি তা দেখ।
বিদ্যা তো অনেক হোল,
প্রকৃত শিক্ষা হলো কই।
পুঁথি পরে সার্টিফিকেট নিয়ে,
ভাবছি নিজেকে কেউ কেটা নিশ্চই।
মাগো এক বার তুমি জাগো,
এ কেমন শিক্ষা দীক্ষা দেখো।
মানুষ কেবল করছে নিজের বরাই,
শুধু স্বার্থ আর অর্থের জন্য লরাই।
মানুষ গুলো পাল্টে গেছে,
সকলের বোধই পাল্টে গেছে।
মানুষ কেমন যেন বন্য বন্য,
স্বভাবে কেমন যেন গন্ধ।
চরিত্র গুলো পাল্টে গেছে,
মানুষ গুলো অদ্ভুত লাগে,
কেবল ভাবি মানুষ কি আর আছে,
পড়ে লিখে কেমন যেন বদলে গেছে।
মাগো একবার তোমার বাজাও বীনা,
সমাজের হোক শুভ সূচনা।
বিদ্যার নামে পুঁথি গতো বিদ্যা,
শুধু প্রশংসা পত্রের চাহিদা।
শিক্ষা যাক জাহান্নামে,
পরীক্ষায় পাশ করলেই হবে।
এমনি করে আর কতদিন চলবে,
মাগো এবার তুমি জাগো,
বিদ্যা বুদ্ধি না দিলে কি আর চলবে।
মা গো বাড়ছে তোমার পূজার পরিসর।
প্রকৃত শিক্ষা গেলো রসাতল।
পূজার নামে নাচ গান আর ডী জে,
ছেলে মেয়েগুলোর হোল কি জে।
অঞ্জলী দিতে, ছিলো কতো ভক্তি,
তার পরেই চলে দিনভর মস্তি।
ডেন্স আর ডী জে র চোটে প্রাণ যায়,
ঘরে বাইরে রস্থায় টেকাই দায়।
মা গো এবার তুমি জাগো।
আমাদের একটু বিদ্যা বুদ্ধি দিও।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
===========================
803/2>|| দেবী সরস্বতীও আমরা বাঙালি ||
<--©➽-আদ্যনাথ--->
সবকিছুতেই থাকে আমাদের এক বিশেষ মাত্রা।
আজ এমনই এক বিশেষ মাত্রার দিন,
আজ আমাদের সরস্বতী পূজোর দিন,
আজ আমাদের প্রেম নিবেদনের দিন।
বসন্ত পঞ্চমী অর্থাৎ সরস্বতী পূজো,
ওই সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালির প্রেম নিবেদনের দিন।
মনেপরে সেই স্কুলের দিন,
আমাদের সরস্বতী পূজোর দিন ।
কত পরিকল্পনা কত মন্ত্রণা
রাত ভর প্যান্ডেল সাজাবার ধুম।
মাস্টার মশায়ের সাথে কুমোর পাড়ায়
বেছে বেছে ঠাকুরের বায়না দেওয়া।
বসন্ত পঞ্চমীর একদিম আগে
বাজার করা, স্কুল পরিষ্কার করা,
প্রত্যেক স্কুলকে নিমন্ত্রণ করা,
পুজোর আয়োজন করা।
পুজোর দিন সকাল থেকেই ব্যস্ততার ধুম,
সকালেই স্নান সেরে সেজে গুঁজে
উপবাস থেকে অঞ্জলি দেবার ধুম।
অঞ্জলি দেবার পরে সবার আগে
নারকেলি কুল খাওয়ার ধুম।
সরস্বতী পুজো মানেই হলুদ শাড়ি
আর হলুদ রঙের বিশেষ গুরুত্ব ।
বিদ্যারম্ভ ও অন্যান্য শুভকর্মের জন্য এদিন শুভ।
আমাদের স্কুলে খিচুড়ি ও আলুর দম,
আজও মনে পরে,
আমরা ভীষণ আনন্দে খেতাম
সেই খিচুড়ি ও আলুর দম।
সরস্বতীকে নিয়ে পুরাণ অনেক কথাই বলে,
ব্রহ্মা সরস্বতীকে সৃষ্টি করেন,
জগৎ সংসার সৃষ্টির কালে,
সরস্বতীর বীণা বাদনের সঙ্গে সঙ্গে সংসারের সকল স্বরের সঞ্চার হয়।
বসন্ত পঞ্চমী দিনেই সরস্বতীর আবির্ভাব ।
সে সময় থেকেই দেবলোক ও মৃত্যুলোকে সরস্বতী আরাধনা শুরু হয়।
দেবী সরস্বতীর আরাধনা ঘিরেও মিশে থাকে পবিত্রতার এক স্নিগ্ধতা,
থাকে বাঙালিয়ানার পরশ আর
ভালোবাসার ছোঁয়া।
সবমিলিয়ে এই দিনের জন্য বছরের প্রথমের থেকেই অপেক্ষা হয় শুরু।
ধ্যান বা স্তোত্রবন্দনায় উল্লেখ না থাকলেও দেবী সরস্বতী ক্ষেত্রভেদে
কোথাও দ্বিভূজা কোথাও চতুর্ভূজা
এবং মরালবাহনা অথবা ময়ূরবাহনা।
উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে দেখেছি
ময়ূরবাহনা চতুর্ভূজা সরস্বতী পূজিত হন।
ইনি অক্ষমালা, কমণ্ডলু, বীণা ও বেদপুস্তকধারিণী।
আমাদের দেবী সরস্বতী দ্বিভূজা ও রাজহংসের পৃষ্ঠে আসীনা।
আমাদের দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতীর পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্রঃ-------
ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমোঽস্তুতে।।
নমঃভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।।
প্রনাম মন্ত্রঃ----
নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোঽস্তুতে।।
জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।
সরস্বতীর স্তবঃ ------
শ্বেতপদ্মাসনা দেবী
শ্বেত পুষ্পোপশোভিতা।
শ্বেতাম্ভরধরা নিত্যা শ্বেতাগন্ধানুলেপনা।। শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চ্চিতা। শ্বেতবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালঙ্কারবভূষিতা বন্দিতা সিদ্ধগন্ধর্ব্বৈর্চ্চিতা দেবদানবৈঃ। পূঝিতা মুনিভি: সর্ব্বৈঋষিভিঃ স্তূয়তে সদা।।
স্তোত্রেণানেন তাং দেবীং জগদ্ধাত্রীং সরস্বতীম্।
যে স্মরতি ত্রিসন্ধ্যায়ং সর্ব্বাং বিদ্যাং লভন্তি তে।।
সরস্বতী পূজার পরের দিনটি বাংলায় শীতলষষ্ঠী।
কোনো কোনো পরিবারে এদিন অরন্ধন পালন ও 'গোটা-সেদ্ধ' খাওয়ার প্রথা আছে।
আজ বসে দেখলাম,
সময় আমাকে নিয়েগেল
সেই আমার শিশু কালে।
আজ সত্যি ছিলাম
শিশু মন নিয়ে শিশুদের সাথে,
ফিরে গিয়ে সেই শিশু কালে।
অনুভব করলাম শিশু মনে,
আহা কি আনন্দ আজ বসন্ত পঞ্চমীতে।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
16/02/2021; 11: 40am
======================
803/3>||আমাদের স্বরস্বতী পুজো 2025 ||
- 02/02/2025
<----আদ্যনাথ---->
নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে।।
ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনা-পুস্তক রঞ্জিত হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।
নমঃভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ||
মনেপড়ে ছোটবেলার সরস্বতীপূজা
ভোর বেলা উঠেই স্নান করে অঞ্জলি দেবার তারা।
ভোরবেলায় মায়ের আদেশ যাবেনা অমান্য করা।
একটু শীত মাখা ভোরের আলোতে,
উঠোনে কাঠের উনুনে গরম জলে,
ঝপাঝপ দুই চার মগ জল ঢেলে,
অঞ্জলীর প্রস্তুতি ফিট ফাট সেজে।
সেজে গুঁজে অঞ্জলি দিয়ে।
মা এর কাছে প্রার্থনা ছিল
পাশ করিয়ে দেবার তারা ছিল।
সব ভক্তি ভাব ক্লাসে পাশ করার জন্য,
আর ছিলো ভালো কিছু পাবার জন্য।
ঘরের পুজো শেষ হলেই
প্রসাদ হাতে মোয়া নাড়ু নিয়ে,
দে-ছুট দে-ছুট স্কুলের মন্ডব ঘরে।
স্কুলের পুষ্পাঞ্জলি একটু দেরীতেই হয়
পুজোর কদিন আগেই স্কুলে
পুজোর তোড়জোড়,
বাংলার মাস্টার,
নন্দীসার ও ফিজিক্সের কৃষ্ণ সার,
খুব উৎসাহী ছিলেন পুজো নিয়ে,
ওনাদের সাথে কুমরপাড়ায় গিয়ে
বেছে বেছে ঠাকুর বায়না করা।
কদিন আগেথেকেই স্কুলে পুজোর তোড়জোড়,
আসেপাশের স্কুল গুলিকে নিমন্ত্রণ করা,
বিশেষ করে মেয়েদের স্কুলে নিমন্ত্রণ করা,
মেয়েদের স্কুলে যাবার জন্য দল বাঁধা,
নিমন্ত্রেন অজুহাতে মেয়েদের একটু দেখা,
অনেক সাহসে ভর করে পছন্দের মেয়েটির সাথে কথা বলা।
পুজোর আগের দিন সকালে রিক্সায় করে
ভীষণ উৎসাহে ঠাকুর নিয়ে আসা।
পুজোর জন্য রাত জেগে মন্ডপ সাজানো,
ভোর বেলা ফুল বেলপাতা জোগাড় করা।
স্কুলে অঞ্জলি দিয়ে,
পাশ করিয়ে দেবার জন্য প্রার্থনা করা।
সেদিন আমাদের বসন্ত কাল ছিল
স্কুলের এনুয়াল পরিক্ষার সময়।
তখন পাশ ফেল ব্যাপারটাই
সরস্বতী পুজোর সাথে জড়িত।
তাইতো ভক্তি ভরে অঞ্জলী দেওয়া ছিল।
আজ আর কেউ পাশ ফেল নিয়ে চিন্তিত নয়,
আজ সরস্বতী পুজোর দিন মানেই
প্রেমদিবসের দিন।
যুগের সাথে সবকিছুই পাল্টে গেছে।
তাই বুঝি অঞ্জলীর সেই পাশ ফেলের নিবেদনে কেউ করেনা ক্রন্দন।
আজ সকলে প্রেমনদীতে ভেসে চলে
প্রেমের ডিঙিতে, রঙিন স্বপ্ন নিয়ে।
আর সেদিনও প্রেম ছিল,
অনেক সাহসেভর করে,
সুযোগ বুঝে আড়ালে আবডালে,
ভালোলাগা মেয়েটির সাথে,
কখনো তার বন্ধুদের সাথে একটু খুনসুটি করা।
কে কার পছন্দ সেই নিয়ে চলতো কথা।
পুজোর দিন কে কে আসলো,
সে বিষয়ে নজর রাখা,
কিছু নুতন বান্ধবীর সাথে আলাপ হওয়া,
সে এক বীরত্বের বাহবা পাওয়া।
সোদিন অনেক কিছুই জানা ছিলনা,
প্রেম দিবসও বোধহয় ছিলনা,
আমাদের আরাধ্য সরস্বতী পুজো ছিল,
রঙিন স্বপ্নে নয় ভক্তির প্রার্থনা ছিল।
আজ সরস্বতীর দেখিনা আদোর,
শুধুই ভ্যালেন্টাইনের বাড়ন্ত কদর।
আজ মা সরস্বতীর বিদ্যা ভেনিস,
দেখি আজকাল মা বাজান প্যানিশ।
ছেড়ে শুভ্র বসন,
পরিধানে জিন্স আর কটন।
কি হবে নিয়ে ডিগ্রি,
কোথায় পাবো চাকুরী,
করতে হবেতো আলুর চপ বিক্রি।
স্কুল কলেজ মানেই মিটিং
শিখতে হবে আন্দোলনের ট্রেনিং।
জানতে হবে পোস্টারের বুলি
নেতা গিরির কিছু বুলি।
নেতা গিরির টিকিট নিতে,
জেলের সাটিফিকেট লাগে।
আজ সরস্বতী ব্যাকডেটেড,
প্রেমের গোলাপ আউট অফ মারকেট।
সরস্বতী ভাগে ভাগে,
বিদ্যা ফেসবুকের কবলে।
জ্ঞান, বুদ্ধির জন্য ইন্টারনেট আছে,
প্রেম জন্য ভ্যালেন্টাইনডে আছে।
<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
========================