Saturday, December 25, 2021

868> || বন্ধু ||

           868> || বন্ধু ||

               <----আদ্যনাথ--->

খুঁজেছি তোমায় অনেক খুঁজেছি,

হেথায় হোথায়,

অনেক কথা বলতে মনচায়।

নিরালায় বসে মনেরসুপ্ত জানালায়,

খুঁজেছি সুপ্রভাতের পাতায় পাতায়।


ব্যাকুলহৃদয়ে খুঁজছি স্মৃতির পাতায়,

ব্যাকুল হয়ে একান্ত মনের কোঠায়।

দিন রাত খুঁজে চলেছি উদাসমনে,

জানিনা কোথায় পাবো খুঁজে কিভাবে।


শরতের প্রভাতে শিশিরের পরশে,

মনেপরে সায়াহ্নে হিমের পরশে।

মনেপরে সূর্যাস্তের সন্ধিক্ষণে,

মনেপরে পাখিদের কলকাকলিতে।


অতিথি পাখির কলতান গাছে গাছে,

একটু উষ্ণতার খোঁজে ওরা ফিরে আসে।

ওরা ঘর বাঁধে দূরদিগন্ত থেকে এসে,

চেনা পথেই যেন বার বার ফিরে আসে।


আমি পথ চেয়ে খুঁজে চলি তোমাকে,

ওই বিলের কিনারায় খুঁজি মনের আয়নায়।

পরিযায়ী আর অতিথি পাখিদের ভিড়ে,

দুচোখ দিনভর তোমাকে খুঁজে বেড়ায়।


বন্ধু বলে ভেবেছিলাম যারে,

এ জীবনে ভোলা কি সম্ভব তারে?

সেদিন যেমন ছিলাম তোমার পাশে,

আজওথাকতে চাই তেমনি ভালোবেসে।

         <----আদ্যনাথ--->

=====================


867>|| পুরানো স্মৃতি ||

          

     867>|| পুরানো স্মৃতি ||

                   <---আদ্যনাথ--->


বন্ধু রূপে হৃদয়ে রেখেছিলাম যারে

এ জীবনে ভোলা কি সম্ভব তারে?

সেদিন যেমন ছিলাম বন্ধুর পাশে,

আজও থাকতে চাই তেমনি ভালোবেসে।


তুমি গ্রহণ করবে কিনা, 

সেতো তোমার একান্ত ভাবনা।

দূরে ছিলাম তাই স্বাক্ষাৎ হয়নি বহুদিন,

আজও তোমার স্থান কেউ দখল করেনি।


পুরানো স্মৃতি গুলিই স্বপ্ন আমার,

সেই প্রথম শপথের স্মৃতি চারন।

আজ অলস মন অনেক ভাবায়

সেদিনের সেই অন্তরঙ্গতার কারন।


ভাবি তোমাকে স্বপ্নে ঘুম ভেঙে,

ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্য হয়।

পথপানে তাকিয়ে থেকেই সন্ধে হয়,

ভাবনা গুলি সব জটপাকিয়ে যায়।


কেন জানিনা মন ভুলতে পারেনা,

গ্রীষ্মের দুপুরে পুকুরে দাপা দাপি,

মনেপরে তোমার সেই ভূতের ভয়,

সন্ধ্যায় বাদুড় গুলি দেখেও ভয়।


কলেজের ছুটির পরে হেদুয়ায় 

কফিহাউজে পকড়া, কফির আড্ডা।

হাসি তামাশায় ঘন্টার পর ঘন্টা,

শীত,গ্রীষ্ম,বর্ষা,বারমাস চলতো আড্ডা।


আজ শুধু স্মৃতি নিয়েই বেঁচে থাকা,

তবুও পথে ঘাটে চোখ ঘোরে একা।

যদি একবার বন্ধুর পাই দেখা,

দিন যায় মাস যায় তবুও পাইনা দেখা।


ছিলোনা কোন দাবি,কোন চাওয়া পাওয়া

শুধু ছিলো ভালো লাগার অশ্রু বেদনা।

জানিনা বন্ধু আমায় ভুলে গেছে কিনা

বিনিদ্র রজনী কাটে বন্ধুর কুশল বিনা।

         <---আদ্যনাথ--->

==========================


866>|| দৃষ্টি সুন্দর হলে ||

    866>|| দৃষ্টি সুন্দর হলে ||

             <---আদ্যনাথ--->

          দৃষ্টি সুন্দর হলে

          মনে আনন্দ লহরে।

দৃষ্টি সুন্দর হলে

প্রকৃতি সুন্দর লাগে।

          দৃষ্টি সুন্দর হলে

          পরিবেশ কথা বলে।

দৃষ্টি সুন্দর হলে

গৃহের শোভা বাড়ে।

           দৃষ্টি সুন্দর হলে

           সদা শান্তি বিরাজে।

দৃষ্টি সুন্দর হলে

হৃদয় কথা বলে।

             দৃষ্টি সুন্দর হলে

     জগৎ সংসার সুন্দর লাগে।

           <---আদ্যনাথ-->

========================


865>|| শীত এলো ||

       865>|| শীত এলো ||                         

               <----আদ্যনাথ--->

শীত শীত শীত,

শীত এলো তাই শিহরণ জাগে মনে,

শীত এলো তাই আনন্দ জাগে মনে,

শীত এলো তাই সর্বদা খাইখাই মনে,

শীত এলো তাই একটু উরু উরু মনে।


শীত এলো তাই অলসতা ভরে মনে,

এবার সোয়েটার কম্বল বার হবে।

এতদিন ওরা বাক্স বন্ধি হয়ে ছিল,

শীত আসতেই রোদে দেওয়া হল।


শীত আসতেই নুতন খাবারে লোভে

লালাইতো মন,

পিঠেপুলি খাবার জন্য ব্যাকুল প্রাণ মন।

শীতের সকালে খেজুরের রসে অমৃতের আশ্বাস।

মনে জাগে পিঠেপুলির মনভোলা স্বাদ।


শীতেই  নিত্য নুতন ব্যঞ্জনের খোঁজ,

শীতে মনের আনন্দে ভুঁড়ি ভোজ।

শীতের রকমারি সবজি ও মিষ্টান্ন,

শীত মানেই ভোজ ও নিদ্রায় আনন্দ।


এতো আনন্দের মাঝেও কষ্টের ছোঁয়া লাগে,

কতো দুঃখী জন, শীতে কতো কষ্ট ভোগে।

ভোর বেলা স্টেশনে দেখেছি ছেলেটিকে

উদম গায়ে,

ঘুমিয়ে আছে চটের বস্থা জড়িয়ে 


দুটি কুকুরের বাচ্চাও ছিল ওর সাথে,

রাত ভর ওরা ঘুমিয়ে ছিল এক সাথে।

ছেলেটি রাতভর স্বপ্ন দেখেছে হয়তো,

নিশ্চই ওর বাবা মা ছিলো হয়তো।


কাঠ পাতায় আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটে,

শীতের রাতে এমনি করেই কুঁকড়ে থাকে।

শীত ও বর্ষার প্রচন্ড দাপটে ওরা অসহায়,

পথকুকুর আর ওরা একে অপরের সহায়।


প্রচন্ড বর্ষার পরেই শীত জাঁকিয়ে বসে,

বারমাস ওদের এমনি করেই দুঃখে কাটে।

তবুও ওরা বেঁচে থাকে,হাসে প্রাণ খুলে,

প্রকৃতি বোধহয় ওদের বাঁচিয়ে রাখে।


শীত গ্রীষ্ম বারমাস ওদের সমান কাটে,

প্রকৃতির সাথে ওরা মিলে মিশে থাকে।

আমরা দেখেও দেখিনা,তেমন করে ভাবিনা,

ওরাও বেরেচলে পথের ধরে, আমরা ভাবিনা।


আমরা কোট প্যান্ট সোয়েটার চাপিয়ে

বাবু সেজেও শীতে ঠান্ডার ভয় লাগে।

সকাল হলেই ওরা রোদপোহায় সকলে,

সূর্যের তাপেই ওরা আনন্দে সুস্থ থাকে।

            <----আদ্যনাথ--->

===========================


864>|| এস হে সুন্দর ||

      864>|| এস হে সুন্দর ||

                 <--আদ্যনাথ-->

এস হে সুন্দর এসো এসো,

ব্যাকুল মন খুঁজছে তোমায়।

তোমার আগমনেই আনন্দ

অশান্ত মন বুঝি হারায় ছন্দ।


তুমি চির সুন্দরের প্রতিমূর্তি।

হৃদয় মাঝে তোমাকেই খুঁজি,

শেষের তরীতে যেন পাই ঠাঁই,

মনে মনে তোমাকেই খুঁজে বেড়াই।


আমি সুন্দরের পূজারী,

সুন্দরকেই ভালোবাসি।

নানান অজুহাতে সকাল সন্ধে,

সুন্দরকে খুঁজি প্রকৃতির মাঝে।


শীতের কুয়াশা ভেজা সকালে,

ফুলের পাপড়িতে শিশির বিন্দু জমে। 

মৌমাছিরা নেচে চলে ফুলে ফুলে,

প্রজাপতির পাখায় ফুলের রেনু মেখে।


প্রভাতে ফুল ফোটার অপেক্ষায়,

বৃক্ষ লতা ঊষার আলো চায়।

মৌমাছি আর ভ্রমরেরা ডানা ঝাপটায়,

শিশিরের বিন্দু ঝেড়ে ফেলতে চায়।


মধু-গন্ধে ভরা বনাঞ্চল আজি,

প্রভাতে ছায়া শীতল বনরাজি।

তোমার স্নেহ পরশের তরে ব্যাকুল মন,

এসো সুন্দরের শ্রষ্ঠা প্রকৃতি ছায়া শীতল।


কিজানি কেন আজ তোমাকেই চায়

বারে বারে ব্যাকুল মন উদাস হয়ে যায়।

হে সুন্দর তোমার স্নিগ্ধ নীল আঁচলে,

কত অজস্র গান আদর আছে লুকায়ে।

               <--আদ্যনাথ-->


=========================

863>|| শীতের সমারোহ ||

   863>|| শীতের সমারোহ ||

                     <--আদ্যনাথ-->


বর্ষার পরেই শীত আসে ধীরে,

প্রকৃতি সেঁজে ওঠে নুতন করে।

বৃক্ষ লতা পাতায় শিশিরের পরশ,

প্রকৃতিতে শান্ত শীতল আনন্দ হরষ।


শীত আগমনের প্রস্তুতির বেলা,

শুরু হয় গাছে গাছে পাতাঝরা।

চিনারের পাতা তাই রঙিন হলো,

ঝড়েপড়ার আগে সেঁজে উঠলো।


শীতের হিমেল হাওয়ায় আনন্দ বাহার, 

 ফুলের সমারোহ যেন আনন্দ বিহার।

মন ব্যাকুল ফুলের  সমারোহ দেখে,

নূতনের গন্ধে মনে শিহরণ জাগে।


শীতে অজস্র রঙিন ফুলের সমারোহ,

প্রকৃতি যেন সুন্দরের পসরা সাজিয়ে,

বসে আছে মেঘের আঁচল বিছিয়ে,

কলঙ্ক রূপ কালমেঘ তবু থাকে ঘিরে।


দক্ষিণায়নের হেলেপরা সূর্য রশ্মি, 

উত্তরের হিমেল হওয়ায় বাড়ন্ত শীত।

কুয়াশার কালো মেঘ আকাশকে ঢাকে

শীতকে ফিরিয়ে দিতে চায় বারে বারে।


কুয়াশা আজ সূর্যকে রেখেছে ঢেকে

প্রকৃতি মায়াময় আবরণে আছে ঘিরে।

শিউলিদের কপালে চিন্তার ঘাম জমে, একটু ভালো সাজোখেজুর রসের সন্ধানে।


শীতে জিরেনকাটের নলেন গুড়,

একটু ভালো খৈএর জন্য চাই কনকচুড়

তাই শীতে শিউলিদের বাড়ন্ত উৎসাহ 

সাজো রসের গুড়ের সেই স্বাদের জন্য।


শীতের পিঠে পুলি জয়নগরের মোয়া

নলেন গুড়ের মিঠে গন্ধের ছোঁয়া।

বোধহয় শীতেই সর্বসুন্দর প্রকৃতি,

হৃদয়ের মাঝে তাই সুন্দরকেই খুঁজি।


শীতের মায়াময় রূপেই নানা ছন্দ

ফুলে ফুলে দেখি মধুকরের আনন্দ

নানান ফুলে সজিয়ে রঙিন ডালি।

শীতের সকাল যেন সুন্দরীপরি।

                   <--আদ্যনাথ-->

======================

শীতের সময়ে খেজুর গাছ বিশেষ পদ্ধতিতে চেঁছে তা থেকে রস নামানো হয়। এ পেশায় নিয়োজিত বলা হয় ‘গাছি’ বা শিউলি।

সাধারণত সপ্তাহে তিন দিন গাছ কাটা হয়। এর মধ্যে সপ্তাহের প্রথমে যে রস নামানো হয় সেটিই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। সপ্তাহের প্রথম দিন নামানো রসকে ‘জিরান কাটের রস’ বলে, দ্বিতীয় দিনেরটিকে বলে ‘দো কাটের রস’ আর তৃতীয় দিনের রসকে বলে ‘ঝরা রস’। প্রথদিনের রস থেকে ভালো মানের গুড় ও পাটালি তৈরি হয়। ঝরা রস থেকে হয় ‘তোয়াক গুড়’ ও ‘ঝোলা গুড়’।




Friday, December 24, 2021

862>|| মুর্গা,মুরগী সাবধান ||

 


 862>|| মুর্গা,মুরগী সাবধান ||

            <----আদ্যনাথ--->

ওরে ভয়নাই ভয়নাই

সিটিজেন হলে ভয়নাই।

বয়লারেরা সাবধান,

তোমাদেরই হবে নিধন।

যদিও নিধনের তরে ই সৃষ্টি ওদের,

তাই ওই বয়লার দের নিধন হবে।


31 ডিসেম্বর ও 1লা জানুয়ারি

চলবেনা কারুর কোন জারি জুড়ি।

একবৎসর সকল পিকনিক ছিল বন্ধ,

এবার হবে পিকনিক নাই কোন দ্বন্দ।


করোনা আশীর্বাদ মুর্গা,মুরগী দের জন্য,

হয়নি পিকনিক, বাজার ছিল বন্ধ।

এখনতো সবকিছু হয়েছে চালু,

তাই তো মুর্গা,মুরগী দের বুক দুরু দুরু।


এবার আর চলবেনা কোন জারি জুড়ি

চলবে মুরগী মুর্গাদের জবাই ভুঁড়ি ভুঁড়ি।

দেশীদের ছেড়ে বয়লারদের হবে বলি,

দেশির দাম বেশি তাইতো দাম্ভিক ভারী।

              <----আদ্যনাথ--->

==========================



861>||EMPTY

   Empty

860> || EMPTY

  860> || EMOTY

Wednesday, December 22, 2021

859>|| জিরেনকাট ||

     859>|| জিরেনকাট ||

                   <---আদ্যনাথ-->

শীত যখন আসে জাঁকিয়ে

জিভে জল আসে হাঁকিয়ে।

হরেকরকম সুখাদ্যের লোভ 

শাক সবজি ও নানান মিষ্টান্নের ভোগ।


শীতে জিরেনকাটের নলেন গুড়,

আর বাহারি কনকচুড়ের খৈ।

রকমারি খাবারের আনন্দে,

খাওয়ার আগেই মন ভরেজায় গন্ধে।


গ্রাম গঞ্জে শিউলিদের বাড়ন্ত উৎসাহ, 

হাড়ি ভরা খেজুরের রসের সমারোহ।

রসের জন্য শিউলিদের উৎসাহ বাড়ে

খেজুরের সাজো রসেই স্বাদ নলেন গুড়ে।


নলেন বা নুতন গুড়ের মিষ্টি ও মোয়া

গুড়ের স্বাদে,গন্ধে জিভে জল খাসা।

শীতের সকালে খেজুরের রসে চুমুক,

সে এক বিভৎস ভালোলাগার হুজুক।


যে খায় সেই জানে খেজুর রসের স্বাদ,

এক চুমুকেই স্বর্গীয় আনন্দের আশ্বাস।

সকালের রস যেমন মিষ্টি তেমনি মধুর,

দুপুরের পরেই সেই রসেই নেশার ধুম।


শীত মানেই নানা সুখাদ্যের রমরমা,

শীত মানেই দুপুরে অলস দিবা নিদ্রা,

আর রাতে লেপ কম্বলের নীচে সুখ নিদ্রা,

দুবেলা পেটপুরে মন্ডা মিঠাই খাওয়া।


মনেপড়ে ছোটবেলার হাড় কাঁপানো শীত,

সেই শীত আজ আর নাই।

সকালে মাদুর বিছিয়ে উঠোনে বসে

একসাথে পড়াশুনা ভাই বোন মিলে।


শীতের দুপুরে পুকুরে স্নানের মজা,

গামছা ছুড়ে ফেলে জলে ঝাঁপিয়ে পড়া।

গামছা ডুবে যাবার ভয়ে লাফিয়ে পড়া,

শীতের ঠান্ডা জলে দাপাদাপি করা।


শীতের জল কেলির সেই আনন্দ,

ছিলনা বাদ বিবাদ ভালো মন্দ।

ছিল শিশুমনে অনাবিল ছন্দ,

হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার সেই আনন্দ।

           <---আদ্যনাথ-->

=========================

শীতের সময়ে খেজুর গাছ বিশেষ পদ্ধতিতে চেঁছে তা থেকে রস নামানো হয়। এ পেশায় নিয়োজিত বলা হয় ‘গাছি’ বা শিউলি।

সাধারণত সপ্তাহে তিন দিন গাছ কাটা হয়। এর মধ্যে সপ্তাহের প্রথমে যে রস নামানো হয় সেটিই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। সপ্তাহের প্রথম দিন নামানো রসকে ‘জিরান কাটের রস’ বলে, দ্বিতীয় দিনেরটিকে বলে ‘দো কাটের রস’ আর তৃতীয় দিনের রসকে বলে ‘ঝরা রস’। প্রথদিনের রস থেকে ভালো মানের গুড় ও পাটালি তৈরি হয়। ঝরা রস থেকে হয় ‘তোয়াক গুড়’ ও ‘ঝোলা গুড়’।



Sunday, December 12, 2021

858>|| জীবন-সঙ্গী ||

 


       858>|| জীবন-সঙ্গী ||

                  <----আদ্যনাথ--->

শরীরই আমাদের একমাত্র জীবন-সঙ্গী,

শরীর নাথাকলে কেউআর রবেনা সঙ্গী ।

শরীর যেদিন দেবেনা আর সারা

সকলেই যাবে দূরে কাছে ছিলো যারা।


আমার শরীরের দায়িত্ব আমাতেই বর্তায়,

কেউ নিতে পারেনা আমার কষ্ট আমার বেদনায়।

সুখাদ্য পানীয় সকলি শরীর সুস্থ রাখতে,

শুভ চিন্তা, মন ও ভাবনা সুন্দর রাখতে।


জপ ধ্যান তো মস্তিষ্কের বিকাশের কারণে,

ব্যাম,যোগা তো শরীর সুস্থ রাখার প্রয়োজনে।

শুভ কর্মে গড়ে ওঠে সুন্দর জীবন,

শুভ চেতনায় সুন্দর হয় সমাজ জীবন।


জন্ম থেকে মৃত্যু শরীরই সঙ্গে থাকে,

অর্থ,ধন সম্পদ মরনে সকলি পরে রবে।

মিথ্যা অহঙ্কার রাগ হিংসা দ্বেষ,

এ সকল মিলে জীবনকে করে শেষ।


সার্থক জীবন-সঙ্গী নিজের শরীর,

জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ নিজের শরীর।

মানুষই ঈশ্বর হন শরীকে নির্ভর করে,

অসীম শক্তি নিহিত শরীরের ভিতরে।


পঞ্চভূতে নির্মিত শরীর প্রকৃতির সৃষ্টি,

স্থূল শরীর অন্যময় কোষের সমষ্টি।

শরীর নিশ্চিত একদিন শেষ হয়ে যাবে,

শুভ কর্ম,শুভ চিন্তায় জীবন অমর হবে।

          <----আদ্যনাথ--->

==========================



857>কেউ বলে

 857>কেউ বলে 

"জীবননিয়ে আমরা

যতই পরিকল্পনা করি না কেনো

অবশেষে ভাগ্যে যা আছে 

ঘটবে তো সেটাই।"


কিন্তু আমি বলতে চাই--


ভাগ্যের দোহাই দিয়ে জীবন

কাটানোর মতন অহেতুক গড্ডালিকায় জীবনকে ভাসিয়ে দেবার বিশ্বাসে বিশ্বাসী আমি নই।

ভাগ্য গরেওঠে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা,একাগ্রতা ও মনবলের গুনে।

কর্মই ধর্ম ও শক্তির বর্ম।

যে কর্মের বর্ম একাগ্রতা ও নিষ্ঠার দ্বারা আবৃত, সততা যেখানে পাথেয় ,সে ভাগ্য উচ্চ শিখর স্পর্শ করবেই তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

এবং সেটাই প্রকৃত সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ জীবন।

856>শ্রীমান শ্রীমতি শঙ্কর ও প্রণতি

 856>শ্রীমান শ্রীমতি শঙ্কর ও প্রণতি


শ্রীমান শ্রীমতি শঙ্কর ও প্রণতি

সাইত্রিশ বিবাহ বার্ষিকীর পূর্তি।

আনন্দ মুখরিত ক্ষণের সুকীর্তি,

চিরসুন্দর আনন্দিত যুগল মূর্তি।


37 বৎসরের পাঁকা পোক্ত দুটি মন,

উভয়ে সুন্দর একে অপরের কারণ।

এমন জুটি দেখে সকলের গর্ব হয়,

এমন বন্ধন দেখে অনেক উপলব্ধি হয়।


সত্যি ভাবতে ভালো লাগে 

আজও এমন প্রেমের বন্ধন আছে।

এমন সুখী বিবাহ বন্ধন এখনো বিদ্যমান,

একে অপরের পরিপূরক আয়ুষ্মান।


বিবাহ বার্ষিকী শুধু নয় একটি অনুষ্ঠান,

এ হোল এক সার্থক জীবনের মেল- বন্ধনের অনুষ্ঠান।

এক সার্থক খুশি ও আনন্দের অনুষ্ঠান,

অনেক ভালোলাগা মুহূর্তের অনুষ্ঠান।


 বিবাহিত দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন 

অনেক ভালোলাগার সুন্দর জীবন।

দুটি মন একসাথে টিকে থাকার মিলন, 

অনেক প্রতিশ্রুতি পূর্ণ আনন্দপূর্ণ

জীবন।


37 বৎসরের স্মৃতিতে তৈরী প্রেমের মন্দির

শুধু দুটি মনের নয় মিলন দুটি পরিবারের।

তাই তো বিবাহ বার্ষিকী এক আনন্দ কানন 

অনেক সুখ দুঃখ ও ভালোলাগার ক্ষণ।


ববিবাহিত জীবন এক সম্মানের বন্ধন

যুগল প্রেম টিকেথাকে সম্মানের কারণ।

স্বামী স্ত্রীর প্রেম স্বর্গীয় সুন্দর জীবন

একের মান বারে অন্যের সম্মানের কারন।


জীবন অনেক শিখেছে আপনাদের দেখে

সুন্দরকে খুঁজে নিতে হয় প্রকৃতির সাথে।

স্বার্থক সুন্দর আপনাদের দ্যম্পত্য জীবন

বোধহয় এমনি হয় বুঝি আনন্দ নিকেতন।


সর্বস্তরে সুন্দর স্বার্থক হোক আপনাদের দাম্পত্য জীবন।

ঈশ্বর নিশ্চই দেবেন আপনাদের দীর্ঘ জীবন।

সকলেই মুগ্ধ আনন্দিত আপনাদের দেখে,

স্বার্থক এমন যুগলবন্ধি জীবন।

<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================




37 টি বসন্ত পারের সৌজন্যে -


 37 বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে -------


শ্রীমান শ্রীমতি শঙ্কর প্রণতি---

37 টি বৎসর অর্থাৎ

37 টি বসন্ত =444 টি মাস,

=13505 টি দিন,

=324,120 টি ঘন্টা, 

=19,447,200 টি মিনিট, 

=1,166,832,000 টি সেকেন্ড, 

কম তো নয় ? 

কাটালেন কেমন ? 

ভাবলেন না হয় একটু 

দোষ তাতে কি হবে,

একটু ভাবলে????

--------------

আজ কেমন আসছেন আপনি?

মনে পরে কি সেই রজনী!

জীবনের প্রথম, 

সেই সুন্দর মধুর অপার্থিব মিলন। 

সেই দিন টি নিশ্চই 

আজও আছে স্বরণ। 

সেই অটুট বন্ধনের--

অঙ্গীকারের অপূর্ব মিলন। 

আজ মনে হয়নাকি--

একবার ফিরে যেতে সেই দিনটিতে!

মনে আছে কি সেই অপূর্ব সেদিনটি!

প্রকৃতিও যেন সেজে ছিল, 

তাঁর অপূর্ব রূপে রসে গন্ধে, 

সেদিনের সেই প্রথম প্রেমের সন্ধে। 

কত দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কি জানি , 

মধুর মিলনের প্রথম সেই রজনী। 

মনে পরে কি? 

মনমুগ্ধ করা নানা পুষ্প ঘ্রাণে,

প্রকৃতিও যেন মেতে ছিল সেদিন 

সেই নিবিড় রাত্রির ক্ষণে!

প্রকৃতির একান্ত আপন গোপন ছলে,

দুটি মন প্রাণের একান্ত গভীর মিলনে,

ভরে ছিল বোধ হয় মন প্রাণ,

সেই রজনীর একান্ত নিবিড় ক্ষণে।


আজ 37 টি বসন্ত হলো পার, 

তাই হয়তো মনে পরে বার বার। 

সেদিনের সেই মিলন অপূর্ব অপার, 

বর্ণাতীত দেহ গন্ধ মিলনে, 

ফুলের রেণু মেখে দুটি শরীরে,

মনে পরেকি আজ আবার !


দূরে রেখে সকল লজ্জা ভয়, 

নিঃশেষ করে সকল যুক্তি, 

মন খুঁজে পেয়ে ছিল পূর্ণ মুক্তি। 

বর্ণাতীত সেদিনের সেই স্পন্দন, 

ভুলে থাকা কি করে সম্ভব?

সেই হতে বার বার প্রতিটি রাতে, 

নিঃস্বাসের প্রতিটি কম্পন মনে পড়ে কি 

হৃদয়ের সেই প্রবল স্পন্দন। 

কিদারুন অপূর্ব সেই প্রকৃতির লীলা, 

নিবৃত্তি হয় শেষ ভোরের পাখির করলবে। 

মধুর মিলনের সেই নিশি, 

গগণে ছিল বুঝি পূর্ণ শশী। 

জানিনা , যদি থেকে থাকে তবে, 

তাঁর স্নিগ্দ্ধ আলোয় ভেসেছিল কি? 

লেগেছিলো কি,

আবেগের পূর্ন জোয়ার দুটি মনে!

উত্থাল সমুদ্রের উথাল পাথাল করা, 

প্রচন্ড ঢেউয়ের আবেগ পূর্ন মনে, 

নিশ্চয় ভরে ছিলো পরম তৃপ্তির স্বাদ মনে। 

কি দারুন সেই ক্ষণ ,

মনেকি পড়েনা অনুক্ষণ?

ফিরে যেতে চায় নাকি মন,

সেদিনের প্রতিক্ষণ!

মুখে লাজ মনে ইচ্ছা 

তবুও মনে মনে সেই ক্ষণের 

গোপন ইচ্ছা। 


লেগেছে মনে নুতন বসন্তের ছোঁয়া,

জীবন ভোলে না তার লীলা,

কে জানে কোথায় কোন বেলা

চলে তাঁর নিত্য নুতন খেলা। 

মন পৌঁছে যায় সেই খেলা ছলে

আমকুড়োনোর দিনে , 

দুপুরে উদাল হয়ে,

ছোটা ছুটি আপন মনে। 


আজ লেগে হওয়া বসন্তের, 

মনে পরে কি সেই দিগন্তের, 

যার ছিলোনা দিগ্ না অন্ত,

এখনো বোধ হয় হয়নি অন্ত। 

আছে অনেক বাকি,

থাকে থাক একটু বাকি,

আজ এখানেই  থামি। 

আপনাদের ভরুক মন ,

আনন্দে করুক চন মন। 

আমি আবার নুতন ভাবনা ভাবি।

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================







Wednesday, December 8, 2021

855> || জয়নগরের মোয়া ||

 


    855> || জয়নগরের মোয়া ||

                     <-----আদ্যনাথ---->

খোঁজ নিলাম জয়নগর ও বাহারু স্টেশনের কাছের সেই দোকান গুলিতে যেখানে তৈরি হয় প্রকৃত আসল জিআই ( জিয়োগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন) তকমা পাওয়া জয়নগরের মোয়া।

( শিয়ালদহ-- লক্ষিকান্তপুর  লাইনে বাহারু স্টেশনের পরের স্টেশন জয়নগর মজিলপুর হল্ট।)

জানলাম----

জয়নগরের মোয়ার মূল উপাদান

খাঁটি কনকচুড় ধানের খৈ ও জিরেনকাটের নলেন গুড় দিয়েই 

তৈরি হয় খাঁটি জয়নগরের মোয়া।

সেই কনকচুড় ধানের খৈ এখনো বাজারে আসেনি বা এখনো সময় হয়নি। 

আর সকালের বাতাসে এখনো কুয়াশা আছে তাই জিরেনকাটের নলেন গুড়ের রসেরও সময় হয়নি।

সেই কারণে প্রকৃত জয়নগরের মোয়াও

এখনই তৈরি হচ্ছে না , আরো সাতদিন

পরে হয়তো পাওয়া যাবে। প্রকৃত আসল জয়নগরের মোয়া।

তবে বাজারে নকল জয়নগরের মোয়ার ছড়া ছড়ি। যেগুলি নকল খৈ ও নকল গুড়ের এসেন্স দিয়ে তৈরি নকল মোয়া।

তবে একথা সত্য যে আসল ও নকল বুঝতে পারার একমাত্র উপায় আসল মোয়া খেয়ে দেখা।

একবার আসল মোয়া খেলেই বোঝা যাবে নকল মোয়া কতটা ফেক ও বিচ্ছিরি।

তাই বলছি আসল মোয়া খান ও দিনভর এক সুন্দর গন্ধে ও স্বাদে মেতে থাকুন।

       <-----আদ্যনাথ---->

===========================




 আসল জয়নগরের মোয়া।

যে মোয়ার স্বাদে গন্ধে মন মেতে ওঠে।

এমন সুন্দর গন্ধ ও অপরূপ স্বাদ, ভোলা যায়না, মন খেতে চাইবে বার বার।

যে মোয়া মুখে দিলেই যায় গেলে শুধু স্বাদ আর গন্ধই মুখে লেগে থাকে।

এখন বলতে পারেন কেমন স্বাদ।

সেই স্বাদ বুঝতে গেলে মনে করতে হবে প্রথম প্রেমের প্রথম পরশের স্বাদ।

সেই শিহরণ জাগানো স্বাদ,

সাথে কিছু মিষ্টি গন্ধের আশ্বাস।     

            <-----আদ্যনাথ---->

==========================


854> || ভালো থাকার ঠিকানা ||

   854> ||  ভালো থাকার ঠিকানা ||

                  <--আদ্যনাথ-->


বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ শরীরে

করোনার চোখ রাঙানিতে

ভয়ের কিবা আছে?

করোনারুপি অসুরের 

বারবার অস্ত্র বদল,

রণকৌশল এতো রকম ফের,

বাড়িয়ে চলেছে চিন্তার জের,

তবুও ভালোই আছি,

ভয় আর কিসের?

মনচায় অনেক আনন্দে থাকতে

তাইতো ভালো থাকতেই হবে।

আসলে ভালো থাকা, না থাকা 

সকলি মনের ব্যাপার।

মন চাঙ্গা তো শরীরও চাঙ্গা,

আর চাঙ্গা মানেই থাকেনা

কোন দুঃচিন্তা, দুঃভাবনা,

দুঃখবেদনা,

নিজেই খুঁজেনিতে হয় নিজের 

আনন্দের ঠিকানা।

আসলে-------


জীবনতো ক্ষনিকের,

কিন্তু জীবনী সুদীর্ঘ সময়ের।

ভালোবাসার বন্ধন,

সমাজে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস।

ঘরে বাইরে প্রেমবন্ধনের বিশ্বাস

    নিজের নিজের আত্মবিশ্বাস।

অনেক মনোমালিন্য, কলহের পরেও

 যে প্রেম টিকে থাকে 

সেইতো প্রকৃত ভালোবাসা।

সকলে ভালো থাকলে

ঘর ও সমাজ সুন্দর হবে।

সুস্থ থেকে একে অপরকে আনন্দ দেবে

প্রাণখোলা হাসিতে রোজ সকালে হবে,

এভাবেই সকলে ভালো থাকবে।                   

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================

Tuesday, November 30, 2021

853>|| বিশ্বস্ত জন ||

    853>|| বিশ্বস্ত জন ||


মানুষ তো অনেক পেলাম কিন্তু

মনুষ্যত্ব খুঁজতেই বেলা বয়ে গেলো।

বন্ধুও অনেক পেয়েছিলাম,

বিশ্বস্ত জন কেউ কি ছিলো?


বিশ্বস্ত জন কে?

বিশ্বস্ত ব্যক্তি এমন একজন মানুষ যিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি সর্বদা পালন করেন।

বিশ্বস্ত ব্যক্তির উপর আস্থা রাখা যায়, তিনি একজন সৎ ও ন্যায়বান ব্যক্তি; 

বিশ্বস্ততা হয়তো আনুগত্যের প্রতিশব্দ।

নৈতিক মূল্য হিসাবে বিশ্বস্ততা ব্যক্তির সুন্দর গুণকে প্রতিফলিত করে। 

বিশ্বস্ততার মান লঙ্ঘিত হলে, 

তাকে বেইমানি রূপে গণ্য করা হয়।

            <---আদ্যনাথ--->

==========================


Wednesday, November 17, 2021

852>|| শীতের সকাল ||

       852>||  শীতের সকাল  ||

                 <----আদ্যনাথ--->

শীতের সকালে খেজুড়ের রস,

ভাবলেই মন প্রাণ হয়ে ওঠে চঞ্চল।

গ্রামের ওই বড় দীঘির পারে,

সারি সারি খেজুর গাছে হাড়ি ঝোলে।


শীতের শুরুতেই শিউলিদের আনা গোনা,

রোজ খেজুর গাছের রস জোগাড় করা।

প্রতি বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে গাছের মাথার সাদা অংশ পরিষ্কার করে গাছে হাড়ি ঝুলিয়ে দেওয়া। 

সকাল হলে সেই হাড়ি নামিয়ে আনা।


খেজুরের রস ভর্তি  মাটির হাড়ি,

টাটকা রসের স্বাদে মজাভারী।

খেজুর রসের ফিরনি, পুলি,

গাঢ় রসে মাখা চিড়ে, খই, মুড়ি,

আর জয়নগরের মোয়ারও নাই জুড়ি।


রসের গুড় আর নানান পিঠা পায়েস।

সাথে চিতই পিঠার মজারই বেশ।

শীতের সকালে মনে ফুর্তির যোগানে

খেজুর রসের জুড়ি নাই ভুবনে।


শীতের সকালে ঠান্ডায় কাঁপুনির সাথে,

খেজুর রসের ওপরে মুড়ি ছড়িয়ে,

আদরে চুমুক দিয়ে, আহা কি মজা।

ছোটবেলার সেই ছবি, স্মৃতি তে ভাসে,

মনেপড়লেই শিহরণ জাগে।


সেই শীত, সেই খেজুরের রস  সবই যেন হারিয়ে গেছে।

আজ সেই শীতও নাই সেই খেজুরের রস ও নাই।

তাইতো শিউলির অভাব,

আমরা ভুলতে বসেছি খেজুর রস ও গুড়ের স্বাদ।


আজ প্রদুশনের কারণে লুপ্ত প্রায় খেজুরগাছ।

লুপ্ত প্রায় শীতের সকালের সেই সুন্দর মেজাজ।

লুপ্ত প্রায় আমাদের সেই 

গ্রাম বাংলার শীতের সকালে

রোদ পোহান চাদয় মুরিদিয়ে।


সকালে ঘুম থেকে উঠে উঠানে রোদে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে। 

দুপুরে পুকুরে স্নানের পর একটু রোদ না পোহালে কেমন যেন কাঁপুনি লাগে।


তাই শীতের সকালের রোদের একটু মিষ্টি আমেজ গায়ে মেখে সুখে মেতে ওঠা।

শীতের সকালে চায়ের কাপ হাতেনিয়ে  বারান্দার রোদে একটু উষ্ণতার খোঁজে বসে থাকা।

আজ মনেহয় সকলি যেন রূপকথা।

           <----আদ্যনাথ--->

=========================


Sunday, November 7, 2021

851>|| সুন্দর সাজ ||

 


       851>|| সুন্দর সাজ ||

                        <--আদ্যনাথ-->

সাজাও সাজাও নিজের চরিত্রকে

সাজাও তারে মনের মতন করে।

চরিত্র সুন্দর হলে সে অমর হবে,

শরীর তো একদিন মাটিতে মিশে যাবে।


কিহবে এই নশ্বর শরীরকে সাজিয়ে,

মৃত্যুরপরে শরীরকে কে মনে রাখে।

গুণবান হলে সেই গুণের আদর হবে,

চরিত্র আর গুণ ছাড়া মানুষ অমর নহে।


প্রকৃতিকে ভালো বাসলে মন সুন্দর হয়,

সুন্দর মনে জগৎকে সুন্দর মনে হয়।

জীবন ক্ষনিকের কিন্তু আশা অন্তহীন,

সচ্চরিত্র ও গুণবান সর্বত্র আদরণীয়।


মানুষ সুন্দর সৎ-স্বভাবও সচ্চচরিত্র গুণে,

শরীর ও রূপের সৌন্দর্যকে কে মনে রাখে!

গুণকে ধরে রাখতে হয় সারা জীবন ভরে,

স্বভাব,চরিত্র নষ্ট করতে এক মুহূর্ত লাগে।


মনভরে সাজাও তারে যে চিরদিন রবে,

কি হবে সাজিয়ে এই নশ্বর শরীরটিকে?

সুন্দর কে জিওতে হয় বহু কষ্ট করে,

তাকে কাদায় ঢাকতে এক মুহূর্ত লাগে।

             <--আদ্যনাথ-->

==========================

Wednesday, November 3, 2021

850>|| আসন্ন ভয় ||

      850> || আসন্ন ভয় ||

                 <---আদ্যনাথ-->               

আসন্ন ভয়, কে জানে কি হয়,

শীতের কুয়াশা,পরিবেশের ধোঁয়ার ভয়।

এবার তারসাথে মিশবে বাজির ধোঁয়া,

তাইতো ভয়, সবকিছু বুঝেও না বোঝা।

টিকা নেওয়া আছে দুটি, 

তথাপি আছে করোনার ভ্রুকুটি।


তারসাথে মিশেবাজির ধোঁয়ার জুটি,

বেঘোরেই মরবে জীবনটি বুঝি।

কি হবে ভেবে শব্দ দূষণে,

পটাকার সাথে ডি,জের পরিবেশনে।

ভাবার কিছুই নাই ডিজিটাল সমাজে,

সবাই চলে যে যার নিজের মেজাজে।


তাইতো ভয়, কে জানে কি হয়!

প্রকৃতির আসন্ন প্রহার কেমন হয়?

কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে,

প্রকৃতি সকল কিছুই ফিরিয়ে দেবে।

কে জানে কি হয়, সেটাই ভাবায়,

প্রকৃতি যদি তার রুদ্র রূপ দেখায়?

      <---আদ্যনাথ-->

         03/11/2021

=========================

Tuesday, October 19, 2021

849>|| শারদ পূর্ণিমা ||

   849>|| শারদ পূর্ণিমা ||

সারদপুর্ণিমার আকাশ,

আজ সন্ধ্যায় চন্দ্রের পূর্ন প্রকাশ।

যেন অমৃত পূর্ন হৃদয়ের প্রকাশ,

পূর্ন হোক সকলের জীবনের আশ।


বিজয়া দশমীর ঠিক পাঁচ দিন বাদে 

পূর্ন চাঁদ নিয়ে শারদ পূর্ণিমা আসে।

শারদ পূর্ণিমা আসে অমৃত পূর্ণিমা রূপে,

অর্থ-সম্পত্তি আর সুস্বাস্থ্য দিয়ে 

সকল দুর্ভাগ্য দূর করে।

          <---আদ্যনাথ-->fb



Saturday, October 16, 2021

848>|| সুপ্রভাত ||

    848>|| সুপ্রভাত ||

             <--আদ্যনাথ-->

প্রভাতের শুভেচ্ছা গুলি ভাবায়

ভালোবাসা গুলি মনে আনন্দ যোগায়।

সকালের 'সুপ্রভাত' গুলি স্বপ্ন দেখায়

সামাজিক দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়।


বিছানায় শুয়েই পেয়েজাই ছবি,

কখনো ধোয়া ওঠা চায়ের ছবি,

কখনো ভোরের সূর্যোদয়ের ছবি,

কখনো কোন ঠাকুর দেবতার ছবি।


সকাল হবার আগেই সুন্দর কোনও ছবি, 

কিছু উক্তি সহ একরাশ ফুলের ছবি,.

নয়তো শুধুই 'গুড মর্নিং' বা 'সুপ্রভাত',

বন্ধু লিস্টে থাকার দৌলতে সুন্দর প্রভাত।


কাছে দূরের বন্ধুদের মনে রাখতে,

আজ এমনটাই অভ্যেস হয়ে গেছে।

মোবাইলের কন্ট্যাক্ট লিস্টে যারা আছে

রোজের পরিচয় খোঁজ খবর মনে রাখতে।


 শুরু করেছিলাম দুই চার জনকে দিয়ে,

এখন মোটামুটি কন্ট্যাক্ট লিস্ট ভরে গেছে।

আজ কোভিডের কারনে এমনটাই অভ্যাস

হয়ে গেছে।

বন্ধুদের সঙ্গে এইভাবেই যোগাযোগ হচ্ছে 

 দৃঢ় বন্ধনে।


সুপ্রভাত','গুড আফটারনুন' 'গুড নাইট

সকাল দুপুর বিকেল ও রাত্রে এমন টাই,

কেউ ফোনে কথা বলে হয়তো কখনো,

মনে করিয়ে দেয় বন্ধুত্ব আছে এখনো।


অনেক শিখিয়েছে কোরোনা ভাইরাস,

দূরে থেকে ও কাছের থাকার আশ্বাস।

বাড়ছে ইন্টারনেটের প্রতি বিশ্বাস,

বেড়েছে নীরবে বেঁচে থাকার আশ।

        <-----আদ্যনাথ--->

========================

Friday, October 15, 2021

847>|| নবরাত্রি/নবদুর্গার চর্চিত কাহিনি ||

 


 847>|| নবরাত্রি/নবদুর্গার চর্চিত কাহিনি ||

নব দুর্গার নয়টি রূপ----

1>যথাক্রমে - শৈলপুত্রী, 2>ব্রহ্মচারিণী, 3>চন্দ্রঘণ্টা, 4>কুষ্মাণ্ডা, 5>স্কন্দমাতা, 6>কাত্যায়নী, 7>কালরাত্রি, 8>মহাগৌরী এবং 9>সিদ্ধিদাত্রী ৷ 

প্রতি শরৎকালে নবরাত্রির নয় দিনে প্রতিদিন দেবী পার্বতীর দুর্গা রূপের এই নয় রূপের এক একজনকে পূজা করা হয় ৷আসলে এই নয়টি রূপের সগুন বর্তমান দেবী পার্বতীর দুর্গা রূপএ যেই রূপে দেবী পার্বতী বধ করেন দুর্গম অসুর কে

নবদুর্গা আদ্যাশক্তিরই অন্যরূপ। মাতা পার্বতীও আদ্যাশক্তি। আদ্যাশক্তি ঈশ্বরের মাতৃরূপের প্রকাশ।

1>07/10/2021= 7অক্টোবর- প্রতিপদ,  ঘটস্থাপনা এবং শাইলপুত্রী পুজো

১. শৈলপুত্রী: মা শৈলপুত্রীর বাহন বৃষ। এঁনার দক্ষিণ হস্তে ত্রিশূল আর বাম হস্তে কমল আছে তাই দেবীর অপর নাম শুল ধরিনি। ইনি পূর্ব জন্মে দক্ষ নন্দিনী সতী দেবী ছিলেন। দক্ষের অমতে তিনি শিব কেই বিবাহ করেন। প্রতিশোধে দক্ষ এক শিব হীন যজ্ঞের আয়োজন করেন। বিনা নিমন্ত্রণে সতী দেবী পিত্রালয়ে গিয়ে অনেক অপমানিত হলেন ও সতী রূপে আবির্ভূত মহামায়া দেহত্যাগ করলেন। এরপর ভগবান শিব দক্ষ যজ্ঞ ধ্বংস করেন। এই দেবী মহামায়া পর জন্মে হিমালয় কন্যা পার্বতী রূপে জন্ম নেন। শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা হবার জন্য দেবীর এক নাম শৈলপুত্রী। এবং পরজন্মে তিনি দেবাদিদেব শিবকেই পতি রূপে বরন করলেন। নবরাত্রির প্রথম দিনে মা শৈলপুত্রীর আরাধনা করা হয়। ইনি শুল ধরিনি

এই দেবী হৈমবতী রূপে দেবতা দের গর্ব চূর্ণ করেছিলেন।


2>08/10/2021=8 অক্টোবর- দ্বিতীয়া, ব্রম্ভচারিণী পুজো

২. ব্রহ্মচারিণী: মা পার্বতীর নবশক্তির দ্বিতীয় রূপ ব্রহ্মচারিণী। এখানে ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ হল তপস্যা। ব্রহ্মচারিণী অর্থাৎ তপশ্চারিণী--- তপ আচরণকারী। কথিত আছে যে---‘বেদস্তত্ত্বং তপো ব্রহ্ম’---বেদ, তত্ত্ব এবং তপ হল ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ। দেবী ব্রহ্মচারিণীর রূপ- জ্যোতিতে পূর্ণ, অতি মহিমামণ্ডিত। তিনি ডান হাতে জপের মালা এবং বাঁ হাতে কমণ্ডলু ধারণ করে আছেন।

পূর্বজন্মের সতী যখন হিমালয়ের কন্যারূপে মহামায়া আদি শক্তি পার্বতী রূপে জন্মেছিলেন তখন তিনি নারদের পরামর্শে ভগবান শঙ্করকে পতিরূপে লাভ করার জন্য কঠিন তপস্যা করেন। সেই কঠিন তপস্যার জন্য তাকে তপশ্চারিনী বা ব্রহ্মচারিণী বলা হয়। তিনি সহস্র বর্ষ ধরে মাত্র ফল-মূলের আহার করে জীবন ধারণ করেছিলেন। শতবর্ষ তিনি শাক আহার করে জীবন নির্বাহ করেছিলেন তাই তার নাম হয় পটল বতি। কিছুকাল কঠিন উপবাসে থেকে খোলা আকাশের নিচে বর্ষা ও গ্রীষ্মের দাবদাহে কাটিয়েছেন। এই কঠোর তপশ্চর্যার পরে তিন সহস্র বছর শুধুমাত্র গাছ থেকে মাটিতে ঝরে পড়া বেলপাতা আহার করে অহর্নিশ ভগবান শঙ্করের আরাধনা করেছেন। তারপর তিনি সেই শুষ্ক বেলপাতা আহার করাও পরিত্যাগ করেন। অতঃপর কয়েক সহস্র বছর নির্জলা, নিরাহারে থেকে তপস্যা করতে লাগলেন। পাতা (পর্ণ) খাওয়া পর্যন্ত পরিত্যাগ করায় তার অন্য একটি নাম হয় ‘অপর্ণা’। কয়েক সহস্র বছর এই তপস্যা করায় ব্রহ্মচারিণী দেবীর শরীর কৃশ-একদম ক্ষীণ হয়ে গেল। তিনি অতি কৃশকায় হয়ে গিয়েছিলেন। তার এই দশা দেখে মা মেনকা অত্যন্ত দুঃখিত হলেন। তিনি তাকে এই কঠিন তপস্যা থেকে বিরত করার জন্য বললেন, ‘উ মা, না ওরে আর না!’ তখন থেকে দেবী মহামায়ার আর এক নাম হয় ‘উমা’। তার তপস্যার কঠোরতায় ত্রিলোকে হাহাকার পড়ে গেল দেবতা, ঋষি, সিদ্ধগণ, মুণি সকলেই ব্রহ্মচারিণী দেবীর এই তপস্যাকে অভূতপূর্ব পুণ্যকাজ বলে তাকে প্রশংসা করতে লাগলেন। অবশেষে পিতামহ ব্রহ্মা তাকে সম্বোধন করে প্রসন্ন হয়ে আকাশবাণীর মাধ্যমে বললেন, হে দেবী! আজ পর্যন্ত কেউ এরূপ কঠোর তপস্যা করে নি। তোমার দ্বারাই এরূপ তপস্যা সম্ভব। তোমার এই অলৌকিক কাজে চতুর্দিকে ধন্য ধন্য রব উঠেছে। তোমার মনোষ্কামনা সর্বতোভাবে পূর্ণ হবে। ভগবান চন্দ্রমৌলি শিবকে তুমি পতিরূপে পাবে। এবার তুমি তপস্যায় বিরত হয়ে গৃহে ফিরে যাও। তোমার পিতা শীঘ্রই তোমাকে নিতে আসবেন।’ মা পার্বতীর এই দ্বিতীয় রূপ ভক্ত এবং সিদ্ধদের অনন্ত ফল প্রদান করে। তাঁর উপাসনা দ্বারা মানুষের স্বভাবে তপ, ত্যাগ, বৈরাগ্য, সদাচার, সংযম বৃদ্ধি পায়। জীবনের কঠিন সংঘর্ষেও তাঁর মন কর্তব্যে বিচলিত হয় না। মা ব্রহ্মচারিণী দেবীর কৃপায় তাঁর সর্বদা সিদ্ধি ও বিজয় প্রাপ্তি হয়। দুর্গাপূজার দ্বিতীয় দিনে এঁর স্বরূপেরই আরাধনা করা হয়। এই দিন সাধকের মন ‘স্বাধিষ্ঠান চক্রে’ স্থিত হয়। এই চক্রে চিত্ত-প্রতিষ্ঠ যোগী তার কৃপা ও ভক্তি লাভ করে।

3>09/10/2021=9 অক্টোবর- তৃতীয়া ও চতুর্থী, চন্দ্রঘটা 

৩. চন্দ্রঘণ্টা: দেবীর এই স্বরূপ পরম কল্যাণকারী। এঁনার মস্তকে অর্ধচন্দ্র থাকে , তাই দেবীকে চন্দ্রঘণ্টা নামে ডাকা হয়। এঁনার শরীরের রং স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল। এই দেবী দশভুজা। এঁনার হাতে কমণ্ডলু , তরোয়াল , গদা , ত্রিশূল , ধনুর্বাণ , পদ্ম , জপ মালা থাকে। এঁনার বাহন সিংহ। দেবী তার ঘণ্টার ন্যায় প্রচন্ড চন্ড ধবনিতে দুরাচারী রাক্ষস , দানব , দৈত্য দের প্রকম্পিত করেন। শিব পার্বতীর বিবাহের সময় হঠাৎ তারোকাসুর প্রেত পিশাচ দৈত দানব সহ আক্রমণ করে তখন দেবী পার্বতী এক দশ ভুজ রুপী মঙ্গলময় দেবী রূপে চন্দ্র সম বিশাল শুভ ঘণ্টা বাজিয়ে সকল অশুভ শক্তি কে নিরস্ত্র করেন দেবী উগ্র রূপ ধারণ করেন নি কারণ জন্মের পর দেবী পার্বতী নিজের দশ মহাবিদ্যা ও বিশ্ব রূপ হিমবান ও রানী মেনকা কে দর্শন করালে মা মেনকা দেবী পার্বতী কে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ করেন যে তাদের কাছে থাকা অবস্থায় পার্বতী নিজের কোনো উগ্র রূপ প্রকাশ করবেন না ও তৃতীয় নয়ণ কে লুকিয়ে রাখবেন

৪. কুষ্মাণ্ডা: দেবী পার্বতী তার চতুর্থ স্বরূপে "কুষ্মাণ্ডা" নামে পরিচিতা। নবরাত্রের চতুর্থদিনে, অর্থাৎ চতুর্থী তিথিতে মাতৃপ্রাণ ভক্তগণ এই কুষ্মাণ্ডারূপেই আদ্যাশক্তিকে আহ্বান করে থাকেন।

কারুণ্যে ভরপুর মায়ের সৌম্যপ্রতিমা। দেবী সিংহবাহিনী, ত্রিনয়নী ও অষ্টভুজা। আটটি হাতে সুদর্শনচক্র, ধনুর্বাণ, রক্তপদ্ম, কমণ্ডলু, ইত্যাদি দৃষ্টিগোচর হয়। মায়ের বামহস্তে একটি অমৃতপূর্ণ কলসও রয়েছে। এখানে অমৃত ব্রহ্মের রূপক, দেবী ভগবতী পার্বতী অমৃতপূর্ণ কলস অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞানের আধার হাতে নিয়ে বসে রয়েছেন। যোগ্য সাধক আপন তপোবল ও কৃচ্ছ্রতা দ্বারা মহামায়াকে প্রসন্ন করতে পারলে তবেই মা সেই অমৃতভাণ্ডের অমৃতধারায় সাধককে স্নান করিয়ে তৃপ্ত করবেন, ব্রহ্মজ্ঞান প্রদানে কৃতার্থ করবেন।

মায়ের হাতে আরও একটি বস্তু রয়েছে, সেটি হল জপমালা। সেই জপমালা সিদ্ধমন্ত্রে মন্ত্রিত, তাহা অষ্টসিদ্ধি ও নবনিধি দান করতে সমর্থ। এবার যে ভক্ত রুচি অনুযায়ী যা চাইবে, কল্পতরু মা সেই অনুসারেই বাঞ্ছা পূর্ণ করবেন। যে সিদ্ধি ও সিদ্ধাই চাইবে, মা তাকে তাই দিয়ে ভোলাবে। আর যে পার্থিব সম্পদে অনীহা প্রকাশ করে ওই অমৃতপূর্ণ কলস, অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞান চাইবে, মা তাকেও তাই দিয়েই সন্তুষ্ট করবেন।

এবার আসি মায়ের নাম বিশ্লেষণে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, বলিদানের মধ্যে কুমড়ো বলি মায়ের অধিক প্রিয়। কুমড়োকে সংস্কৃতে "কুষ্মাণ্ড" বলে, কুষ্মাণ্ডপ্রিয় দেবী তাই কুষ্মাণ্ডা নামে স্তুতা। এ তো গেল সহজ একটি ব্যাখ্যা, কিন্তু এর সুগভীর অর্থও রয়েছে। যেমন-

"কুৎসিত উষ্মা সন্তাপস্তাপত্রয়রূপো যস্মিন সংসারে। স সংসারে অণ্ডে উদর রূপায়াং যস্যাঃ।।"

সংসার তাপযুক্ত, ত্রিবিধ তাপে জরজর। সেই সংসারকে যিনি ভক্ষণ করেন, তিনিই কুষ্মাণ্ডা। কু- কুৎসিত, উষ্মা সন্তাপত্রয়ে পূর্ণ জগৎ যাঁর অণ্ডে (উদরে) বিদ্যমান, তিনিই কুষ্মাণ্ডা।

দেবী কুষ্মাণ্ডার যেহেতু আটটি হাত, তাই তিনি "অষ্টভুজা" নামেও পরিচিতা। এনাকে "কৃষ্ণমাণ্ড" নামেও ডাকা হয়। মহাপ্রলয়ের পরে যখন সর্বত্র শুধু নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ছেয়ে রয়েছে, তখন এই ভগবতী কুষ্মাণ্ডা "ঈষৎ হাস্য" করে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন। তাই আদ্যাশক্তি বলতে আমরা যাঁকে বুঝি, তিনিই ইনি। দেবীর বাসস্থান সৌরমণ্ডলে। ভীমাপর্বতেও দেবী নিবাস করেন বলে উল্লেখ আছে।দেবী পার্বতী সৃষ্টির রচয়িতা ব্রহ্মা ও তার স্ত্রী সরস্বতীকে চিন্তিত দেখে জিজ্ঞাসা করেন তাদের চিন্তার কারণ তখন তারা বলেন তারা বুঝতে পারছেনা সঠিক কি ভাবে সৃষ্টি কে সম্পূর্ণ রচনা করবেন দেবী তাদের চিন্তার তাপ হরণ করেন তাদের আশ্বাস দেন একদিন মহা শূন্যে উপবিত দেবী পার্বতী একাকী বসে আছেন হঠাৎ সেখানে শিবের আগমন ঘটে স্বামী কে পেয়ে দেবী মহামায়া আনন্দে হেসে ফেলেন ও সেই হাস্য তাপে সৃষ্টি হয় সূর্যাদি সৃষ্টির।

5>10/10/2021

10 অক্টোবর- পঞ্চমী, স্কান্ডমাতা পুজো

৫. স্কন্দমাতা: আমরা যেমন দেবীকে গণেশজননী হিসেবে বেশি পুজো করি, পশ্চিম ভারতে আবার দেবী মান্যতা পান কার্তিকেয়র মাতা হিসেবে। কার্তিকের অরা এক নাম স্কন্দ। নবরাত্রির পঞ্চম রাতে দ পার্বতী পূজিত হন স্কন্দমাতা রূপে। ত্রিনয়নী দেবী চার হাতবিশিষ্টা। ডানদিকের উপরের হাতে ধরে আছেন শিশু কার্তিককে। প্রস্ফুটিত পদ্ম থাকে আর এক দক্ষিণ হস্তে। বাঁ দিকের একটি হাত বরাভয় দিচ্ছে। আর এক হাতে ধরে আছেন পদ্ম। এই রূপে দেবী দুর্গা সিংহ বাহনে উপবিষ্ট হন। তিনি বসে থাকেন ফুটে থাকা কমলে। পূজিত হন নবরাত্রির পঞ্চমদিনে |শিবের তেজ যখন পার্বতীর গর্ভে ধারণ করতে যাবেন সেই সময় রতির অভিশাপের প্রভাবে সেখানে অগ্নি দেব চলে আসেন শিব তেজ দেবী পার্বতী ধান করতে পারেন না ও ক্রুদ্ধ হন তারপর অগ্নি শিবের তেজ বহন করে নিয়ে গেলে দেবগণ অনুরোধে পার্বতিও গর্ভের তেজ প্রদান করেন কারণ একা পুরুষের তেজে সন্তান জন্ম হয়না পরে উভই তেজ গঙ্গা ধারণ করতে চাইলে সেও অক্ষম হয়ে সেটি পার্শ্ববর্তী সর বনে নিক্ষেপ করে ও এক পুত্রের জন্ম হয় খুদার্ত সেই শিশুকে কৃতিকা রা স্তন্য পান করালে সে কার্তিক নামে অভিহিত হয় পরে সেই শিশু কে পার্বতী নিতে চাইলে কৃতীকা গণ অস্বীকার করে দেবী রাগে বগলা মুখী রূপ ধারণ করে কারণ তার তেজে সন্তান জন্ম হোয়েছে তিনি কোনো তাকে ছাড়বেন দেবী শিশু স্কন্দ কে কৈলাসে নিয়ে আসেন তার ৬ বছর বয়সী কার্তিক মায়ের কাছে অস্ত্র শিক্ষা নিয়ে তারকা সুর বধ করে পুত্রকে অসুরের হাত থেকে রক্ষা করতে দেবী ভীষণ রূপ ধারণ করে। অসুর বধে মা ছেলে তাই একত্রে পূজিত।

১১ অক্টোবর- ষষ্ঠী, কাত্যায়নি পুজো

১২ অক্টোবর- সপ্তমী, কলারাত্রি পুজো

১৩ অক্টোবর- অষ্টমী, মহা গৌরি পুজো

১৪ অক্টোবর- নবমী, সিদ্ধিধাত্রি পুজো

১৫ অক্টোবর- দশমী,  নবরাত্রি পড়না/ দুর্গা বিসর্জন

★11অক্টোবর ষষ্ঠী, সোমবার।

★১২ অক্টোবর সপ্তমী, মঙ্গলবার।

★১৩ অক্টোবর অষ্টমী,বুধবার ও 

★১৪ অক্টোবর নবমী, বৃহস্পতিবার।

★১৫ অক্টোবর দশমী, শুক্রবার।


6>11/10/2021=11অক্টোবর ষষ্ঠী, সোমবার।

৬. কাত্যায়নী: এই নাম এবং রূপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক পৌরাণিক কাহিনি। বৈদিক যুগে কাত্যায়ন নামে এক ঋষি ছিলেন। এক পুত্রের পিতা কাত্যায়নের ইচ্ছে হয় একটি কন্যসন্তান লাভের। দেবী পার্বতী র তপস্যা করে তিনি অভীষ্ট পূর্ণ করেন। তার স্তবে তুষ্ট হয়ে স্বয়ং দেবী পার্বতী জন্ম নেন মহারিশি কাত্যায়নের কন্য রূপে। তখন তার নাম হয় কাত্যায়নী। নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে আরাধিতা হন ভক্তদের কাছে |দেবী পার্বতী এই রূপ নিয়ে মহিষাসুর কে বধ করেন

7>12/10/2021=11 অক্টোবর সপ্তমী, মঙ্গলবার।

৭. কালরাত্রি: এখানে দেবী কৃষ্ণবর্ণা। আলুলায়িত কেশে তিনি ধাবিত শত্রুর দিকে। তার কণ্ঠে বিদ্যুতের মালিকা। ত্রিনয়নী দেবীর শ্বাস প্রশ্বাসে বেরিয়ে আসে আগুনের হলকা। ভীষণদর্শনা দেবীর তিন হাতে অস্ত্র। এক হাতে ভক্তদের প্রতি বরাভয়। এই রূপই উপাসিত হয় কালিকা রূপে। তবে এই রূপেও দেবী ভক্তের শুভ করেন। তাই অন্যদিকে তিনি শুভঙ্করী। দেবীর বাহন গর্দভ। ভক্তরা তার পুজো করেন নবরাত্রির সপ্তম রাতে |

8>13/10/2021=13অক্টোবর অষ্টমী,   বুধবার 

৮. মহা গৌরী: হিমায়লকন্যা ছিলেন গৌর বর্ণা। শিবের তপস্যা করে রৌদ্রে তিনি কৃষ্ণা হন। মহাদেব যখন গঙ্গাজল দিয়ে তাকে স্নান করান, তখন তিনি হয়ে ওঠেন ফর্সা। তার এই রূপের নাম হয় মহাগৌরী। প্রচলিত বিশ্বাস, নবরাত্রির অষ্টম রাতে তার পুজো করলে সব পাপ ধুয়ে যায়। সাদা পোশাক পরিহিতা, চার হাত বিশিষ্টা দেবীর বাহন ষাঁড়। দেবীর এক হাত শোভিত বরাভয় মুদ্রায়। বাকি তিন হাতে থাকে পদ্ম, ত্রিশূল এবং ডমরু |দেবী এই গৌরী রূপে অষ্ট বর্ষি বালিকা রূপে শিব কে নৃত্য করে প্রমোদ দেন পরে শিব তার পরিচয় জানতে চাইলে দেবী পার্বতী নিজের রূপ প্রকাশ করেনকক

9>14/10/2021=14 অক্টোবর নবমী, বৃহস্পতিবার।

৯. সিদ্ধিদাত্রী: নবদুর্গার নবম তথা শেষ রূপ হল সিদ্ধিদাত্রী। সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে আশীর্বাদী মুদ্রা। তিনি সিদ্ধি দান করেন। অর্থাৎ‍ তার উপাসনায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি। সবাইকে বরাভয় দেন এই মাতৃকামূর্তি। দেবী ভগবত্‍ পুরাণে আছে, স্বয়ং মহাদেব দেবী পার্বতী কে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পুজো করেছিলেন। এবং তার ফলে মহাদেব সকল সিদ্ধি লাভ করেন। সিদ্ধিদাত্রীর আশীর্বাদেই সর্ব সিদ্ধি লাভ করেন মহাদেব |

10>15/10/2021=15 অক্টোবর দশমী, শুক্রবার।

====================


নবরাত্রিতে দেবী পার্বতীর দুর্গা পুজোয় যোগসাধনার যোগপদ্ধতি অত্যন্ত উচ্চ মার্গের সাধনক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। যথা এই নবরাত্রির প্রথম দিনের পুজোয় যোগীগণ তাদের মনকে ‘মূলাধার’ চক্রে স্থিত করেন। যা মানুষের শরীরের অভ্যন্তরেই প্রতিষ্ঠিত ‘কুলকুণ্ডলিনী’ রূপে – যিনি স্বয়ং মহাশক্তি, দৈবী ও ঐশী শক্তি, মহামায়া, মহাদুর্গা। 

নবদুর্গা রূপের প্রথম দিনের রূপটি হল ‘ ‘শৈলপুত্রী’, দ্বিতীয়ায় দ্বিতীয় রূপটি হল ‘ব্রহ্মচারিণী’। বেদ-এ এর উল্লেখ আছে। 

এদিন যোগী সাধক তার মনকে ‘স্বাধিষ্ঠান’ চক্রে স্থিত করেন যোগসাধনার মাধ্যমে। 

নবরাত্রি আরাধনার তৃতীয় দিনে মা দুর্গার তৃতীয় শক্তির নাম ‘চন্দ্রঘণ্টা’, উপাসনায় যোগী তার মনকে ‘মণিপুর’ চক্রে প্রবিষ্ট করান। 

মা দুর্গার চতুর্থ রূপের নাম হল ‘কুষ্মাণ্ডা’, এই চতুর্থী তিথিতে সাধকের মন ‘অনাহত’ চক্রে অবস্থান করে। 

মহাপঞ্চমীতে দেবী দুর্গা ‘স্কন্দমাতা’ রূপে পূজিতা হন। এই দিনে সাধক তার মনকে ‘বিশুদ্ধ’ চক্রে স্থাপন করেন। 

দেবী দুর্গাকে প্রথম আরাধনা করেন মহর্ষি কাত্যায়ন – কন্যারূপে। তাই দেবী দুর্গা মহাষষ্ঠীতে ‘কাত্যায়নী’ রূপে পূজিতা হন। শ্রীকৃষ্ণ-সহ সমস্ত গোপ ও গোপী দেবী কাত্যায়নীর পূজা করেন, এর উল্লেখ মহাভারতে পাওয়া যায়। 

দেবী কাত্যায়নীর আরাধনায় সাধক ‘আজ্ঞা’ চক্রে তার মনের উত্তরণ ঘটান। 

দুর্গাপূজার সপ্তম দিনে মহাসপ্তমীতে দেবী দুর্গাকে ‘কালরাত্রি’ রূপে পূজা করার বিধান। সে দিন সাধকের মন ‘সহস্রার’ চক্রে অবস্থান করে।   

মহাষ্টমীতে দেবী দুর্গার রূপ হয় ‘মহাগৌরী’ – সন্ত তুলসীদাস এই দেবীর উপাসনা করতেন। এই দিন সাধকের সাধনা ‘সন্ধিচক্র’-এ অধিষ্ঠিত হয়। 

নবদুর্গার শেষ রূপটি হল ‘সিদ্ধিদাত্রী’। ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’-এ ‘সিদ্ধিদাত্রী’ অষ্টভুজা, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের শ্রীকৃষ্ণজন্ম খণ্ডে ‘সিদ্ধিদাত্রী’ অষ্টাদশভুজা। ‘সিদ্ধিদাত্রী’ চতুর্ভুজা রূপেও দেখা যায়। সেখানে তিনি শিবের আরাধ্য। এই হল নবদুর্গার চর্চিত কাহিনি।

====================



কুমারী পূজা,


 স্বামী বিবেকানন্দ 1901 সালে

কুমারী পুজোর প্রচলন করেন।

শাস্ত্রকাররা নারী জাতিকে শ্রদ্ধা-সম্মান

জানাতে এই পুজোর পক্ষে মত দিয়েছেন,

এবং এমনটাই এই কুমারী পুজোর মূল লক্ষ্য।

স্বামীজী বিশ্বাস করতেন যে সমাজ ও দেশ নারী জাতিকে  শ্রদ্ধা-সম্মান করেনা সেই সমাজ ও দেশ কোনদিন উন্নতি করতে পারেনা।

========================



846>|| সম্পুর্ন দুর্গাপূজা 2021 ||

 846> || সম্পুর্ন দুর্গাপূজা 2021 ||



 1>|| আজ মহা পঞ্চমী 2021 ||+++

          <--আদ্যনাথ-->

      10/10/2021 রবিবার।


পঞ্চমী–

পঞ্চমী তিথি আরম্ভ–

বাংলা– ২২ আশ্বিন, শনিবার।

ইংরেজি– ৯ অক্টোবর, শনিবার।

সময়– ভোর ৪টে ৫৭ মিনিট।


পঞ্চমী তিথি শেষ–

বাংলার– ২৩ আশ্বিন, রবিবার।

ইংরেজি– ১০ অক্টোবর, রবিবার।

সময়– রাত সওয়া ২টো।



পঞ্চমী তিথিতে দেবী স্কন্দমাতাস্বরূপে পূজিতা হন।


🌺 দেবী  স্কন্দমাতা 🌺


সিংহাসনগতা নিত্যং পদ্মাশ্রিতকরদ্বয়া।

শুভদাস্তু সদা দেবী স্কন্দমাতা যশস্বিনী।।


"স্কন্দ"  অর্থাৎ কার্তিকেয়। 

স্কন্দের মাতা অর্থে কার্তিকেয়র মাতা।

জগদম্বা তাঁর এই স্কন্দমাতা স্বরূপে দেবসেনাপতি কার্তিকেয়র জননী। 


"দেবীর প্রতিমাতেও সেই বাৎসল্যরসের পরিপূর্ণতার প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। 

মা বসেছেন সিংহপৃষ্ঠে, মায়ের কোলে বসেছেন বালক স্কন্দ বা শিশু কার্ত্তিক। 

মা যেমন সন্তানকে কোলে করে আগলে রাখেন, দেবী দুর্গাও তদ্রূপ স্কন্দকে নিজ অঙ্কে আগলে রেখেছেন। 

মহামায়া সর্বভাবের ঊর্ধ্বে থেকেও বাৎসল্যভাবের কাছে নতি স্বীকার করেছেন, এটা তারই প্রমাণ"


"নবরাত্রের পঞ্চমদিনে, অর্থাৎ পঞ্চমী তিথিতে শ্রীঅম্বিকা তাঁর স্কন্দমাতাস্বরূপে আবির্ভূতা হন।  মায়ের রূপটি অতীব মনোহর। দেবীর তিনটে নেত্র, সর্বাঙ্গে অলংকার, শীল ও সৌন্দর্যের স্কন্দমাতা। সিংহবাহিনী মায়ের চারটে হাত, 

কিন্তু হাতে নেই কোন অস্ত্র। অস্ত্রের বদলে ওপরের দুই হস্তে রয়েছে পদ্মযুগল, নিচের বামহস্তে অভয় বিতরণ করছেন ও ডান হস্ত দিয়ে শৌর্যবান কার্ত্তিককে ধারণ করে আছেন। আগেই বলেছি, মায়ের এই রূপটি মমতা ও সন্তানবাৎসল্যে ভরপুর, তাই হাতে অস্ত্রশস্ত্র না থাকাটাই স্বাভাবিক।"


"দেবী কখনো কখনো পদ্মাসনাও হন। কোন কোন শাস্ত্রে দেবীকে  "অগ্নিরূপিণী"  বা অগ্নির অধিষ্ঠাত্রী দেবতারূপেও উল্লেখ করা হয়েছে। কথিত আছে, দেবী প্রখর সূর্যমণ্ডলের অন্দরে বাস করেন।


পুরাণ অনুযায়ী ব্রহ্মা থেকে সৃষ্ট চার ঋষিকুমার- সনক,সনন্দন,সনাতন ও সনৎ জন্মলাভ করেই পরমতত্ত্বে মনোনিবেশ করেন। পিতা ব্রহ্মার মুখ হতেই তাঁরা ভগবতী আদ্যাশক্তির অপ্রাকৃত লীলাবিলাস সম্বন্ধে জ্ঞাত হন। ব্রহ্মময়ী মায়ের মহিমা শ্রবণ করে সর্বকনিষ্ঠ ঋষিবালক সনৎকুমারের বাসনা জাগে বিশ্বমাতার সন্তান হয়ে মাতৃস্নেহসুধা পান করার। নিষ্কলুষ সনৎকুমারের এই ইচ্ছা পূরণ করতেই কল্পতরু মহামায়া জ্যোতির্ময়ীমূর্তিতে প্রকট হয়ে সনৎকুমারকে কোলে তুলে নিয়ে সিংহে বসেছিলেন। সনৎকুমারের অপর নাম ছিল স্কন্দ, তাই তাঁকে অঙ্কে ধারণ করে মা হলেন স্কন্দমাতৃস্বরূপিণী। 


অনেকের মতে, স্কন্দ বা কার্তিক এখানে রূপক। স্কন্দ এখানে সমগ্র বিশ্বের প্রতীক বা প্রতিনিধিস্বরূপ। মা বিশ্বপ্রসবিনি, প্রাণীমাত্রেই সেই জগন্মাতার সন্তান। মা সমদৃষ্টিপরায়ণ, সন্তানে ভেদাভেদ করেন না। তাই, কোন একটি বিশেষ সন্তানকে অঙ্কে ধারণ করে বসে  অবশিষ্টদের বাৎসল্য থেকে বঞ্চিত রাখা মায়ের পক্ষে অসম্ভব। তাই, কোলে বসা স্কন্দের মধ্যেই সম্পূর্ণ জগত নিহিত, আর সেই জগতেই আমরা সবাই বাসরত। অতএব, আমরা নিজেদের অজান্তেই মাতৃক্রোড়ে বসে রয়েছি।"


"মায়ের আরাধনা সন্তানপ্রাপ্তি ও পুত্রের সুরক্ষাহেতু বিশেষ ফলদায়ী।"         

 <--©➽--আদ্যনাথ-->

======================


     2>|| আজ মহাষষ্ঠী 2021  ||

             11/11/2021

আজ দেবীদুর্গা কাত্যায়নী রূপে পূজিতা হন।


আজ ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে খুলে যাবে 

  মাদুর্গার স্নিগ্ধ শান্ত চোখ। 

   জেগে উঠবেন দশভুজা।

 চক্ষু দান ও চন্ডি পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসবের।


দেবীকাত্যায়নী হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিশেষ রূপ এবং মহাশক্তির অংশবিশেষ। তিনি নবদুর্গা নামে পরিচিত দুর্গার নয়টি বিশিষ্ট রূপের মধ্যে ষষ্ঠ। 


 মহিষাসুর বর প্রাপ্ত ছিলো যে তাকে একমাত্র সেই নারীই মারতে পারবে যে নারীর মাতৃ গর্ভে জন্মহয় নি।

সেই কারনে মহিষাসুর বধের উদ্যেশ্যে----

"দেবগণ চরম দুরবস্থায় বিষ্ণুর নিকট সহায়তা প্রার্থনা করলে, বিষ্ণু,শিব, ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেবগন মিলিতরূপে দেবী পার্বতীর অংশ নিয়ে তাকে কায়া রূপ দেন। সকলের দেহ হতে দিব্য তেজ নির্গত হয়ে এক জ্যোতিপর্বতের সৃষ্টি করল। সেই জ্যোতিপর্বত ধীরে ধারণ করল অষ্টদশভূজা, কৃষ্ণকেশী, ত্রিনয়না ও সহস্র সূর্যের প্রভাযুক্তা একদেবী। 

তিনিই দেবীকাত্যায়নী।

তারপরে সকল দেবতা নিজের নিজের 

শক্তি ও অস্ত্র দান করলেন দেবীকে।

 

শিব দিলেন ত্রিশূল । বিষ্ণু দিলেন সুদর্শন চক্র, বরুণ দিলেন শঙ্খ, অগ্নি দিলেন শক্তি, বায়ু দিলেন ধনুক, সূর্য দিলেন তীরভরা তূণীর, ইন্দ্র দিলেন বজ্র, কুবের দিলেন গদা, ব্রহ্মা দিলেন অক্ষমালা ও কমণ্ডলু, কাল দিলেন খড়্গ ও ঢাল এবং বিশ্বকর্মা দিলেন কুঠার ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র। এইভাবে অস্ত্রসজ্জিতা হয়ে দেবী গেলেন বিন্ধ্যাচলে। 


সেখানে করার বিবকরার অসুরদ্বয় তাঁকে দেখে তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে তাদের রাজা মহিষাসুরের নিকট দেবীর রূপ বর্ণনা করেন। মহিষাসুর দেবীকে লাভ করবার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সে দেবীর পাণিপ্রার্থনা করে। দেবী জানান, তাঁকে লাভ করতে হলে তাঁকে যুদ্ধে পরাস্ত করতে হবে। মহিষাসুর যুদ্ধ করতে এলে দেবী সিংহপৃষ্ঠে আরোহণ করে যুদ্ধ করেন। মহিষাসুর মহিষের রূপ ধরে দেবীকে আক্রমণ করলে, দেবী তাঁকে তীব্র পদাঘাত করেন। দেবীর পদাঘাতে মহিষাসুর অচৈতন্য হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে দেবী তার মস্তক ছিন্ন করেন। এইভাবে দেবী কাত্যায়নী মহিষাসুরমর্দিনী নামে অভিহিতা হন।


তন্ত্র অনুসারে, শিবের ছয় মুখের মধ্যে উত্তর মুখ থেকে দেবী কাত্যায়নীর উদ্ভব। এই মুখ নীলবর্ণ এবং ত্রিনয়ন। 


যোগশাস্ত্র ও তন্ত্র মতে, কাত্যায়নী আজ্ঞা চক্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী এবং এই বিন্দুতে মনোনিবেশ করতে পারলে তার আশীর্বাদ পাওয়া যায়।


কালিকা পুরাণে বলা হয়েছে, উড্ডীয়ন বা ওড্রদেশ (ওড়িশা) দেবী কাত্যায়নী ও জগন্নাথের ক্ষেত্র। 

কাত্যায়নী পূজা অতি প্রাচীন কাল থেকেই প্রচলিত।

             <--©➽--আদ্যনাথ-->

=========================


   3>|| আজ মহাসপ্তমী 2021  ||

             12/11/2021


আজ মঙ্গলবার মহাসপ্তমী। 

মহা সপ্তমীতে মা দুর্গা তাঁর কালরাত্রি রূপে পূজিত হন।

কালরাত্রি রূপে দেবী কৃষ্ণবর্ণা। আলুলায়িত কেশে তিনি ধাবিত শত্রুর দিকে। তার কণ্ঠে বিদ্যুতের মালিকা। ত্রিনয়নী দেবীর শ্বাস প্রশ্বাসে বেরিয়ে আসে আগুনের হলকা। ভীষণদর্শনা দেবীর তিন হাতে অস্ত্র। এক হাতে ভক্তদের প্রতি বরাভয়। এই রূপই উপাসিত হয় কালিকা রূপে।

দেবীর বাহন গর্দভ। 


সপ্তমীর ভোর হতেই একটি কলা গাছকে  স্নান করিয়ে, লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে গণেশ মূর্তির পাশে রাখা হয় কলা বউ  হিসাবে।

তারপরে হয় মহা স্নান।

এই মহাস্নানের মধ্যবিয়েই দুর্গোৎসবের মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। 

দুর্গা ঠাকুরের সামনে দর্পন (আয়না) রেখে তাতে প্রতিফলিত প্রতিবিম্ব শুদ্ধ জল দিয়ে স্নান করানো হয়।


দুর্গা পূজার এক বিশেষ অনুষ্ঠান, আচার বা নিয়ম হলো "কলাবউ"।

এই কলা বউ নিয়ে নানা মুনির নানান মত ও ভাবনা । সেই কারণে এখানে জেনে রাখা উচিত যে এই কলাবউ আসলে কী?


দুর্গাপূজার সপ্তমীর সকালে সুন্দর পাতা সমেত একটি কলা গাছকে স্নান করিয়ে লালপাড় সাদা শাড়ি পড়িয়ে কলা বউ সাজিয়ে  ঘোমটা ঢাকা দিয়ে মন্ডপে  গণেশের পাশে স্থাপন করা হয়।

অনেকেই এই কলাবউ টিকে গণেশের স্ত্রী বলে মনে করেন।

কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এটি  আদৌ গণেশের স্ত্রী নয়। 

এটি হোল  'নবপত্রিকা' । 

এটি ও মা দুর্গার রূপ বলাচলে গণেশের জননী। 

আর গণেশের স্ত্রীদের নাম রিদ্ধি ও সিদ্ধি। নবপত্রিকার আক্ষরিক অর্থ বোঝায় নয়টি পত্রিকা বা পাতা। এই নব পত্রিকা নয়টি উদ্ভিদ দিয়ে গঠন করা হয়। 


এই নয়টি উদ্ভিদ মা দুর্গার নয়টি শক্তির প্রতীক। এই নয়টি উদ্ভিদ হল কদলী বা রম্ভা (কলাগাছ), কচু, হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব(বেল), দাড়িম্ব(ডালিম), অশোক, মান ও ধান।


একটি  সম্পূর্ন সুন্দর পাতা সহ কলাগাছের সঙ্গে  উপরক্ত  নয়টি উদ্ভিদকে সাদা অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে

স্নান করিয়ে ঘোমটা দিয়ে বধূর আকার দেওয়া হয়। তারপর তাতে সিঁদূর দিয়ে দুর্গা ও গণেশের দেবীর ডানপাশে রাখা হয়। 

এই নয়টি ( ৯টি) উদ্ভিদের অধিষ্টাত্রী দেবী গণ যথা ক্রমে----


১। কলা (রম্ভা)গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী ব্রহ্মাণী।

২। কচুগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কালিকা।

৩। হরিদ্রা(হলুদ),গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী উমা।

৪। জয়ন্তীগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কার্তিকী।

৫। বিল্বগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী শিবা।

৬। দাড়িম্ব(ডালিম) গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী রক্তদন্তিকা।

৭। অশোকগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী শোকরহিতা।

৮। মানগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী চামুণ্ডা।

৯। ধানগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী লক্ষ্মী।


সপ্তমীর সকালে পুরোহিত নবপত্রিকাকে  কোনও নদী বা পুকুরে স্নান করাতে নিয়ে যান। সঙ্গে মহিলারা উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনি করতে করতে যান।

শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী স্নান করানোর পর নবপত্রিকাকে নতুন লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরানো হয়। তারপর পূজামণ্ডপে নিয়ে এসে নবপত্রিকাকে মা দুর্গার ডানদিকে স্থাপন করা হয়। 


পূজা মণ্ডপে নবপত্রিকার প্রবেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল অনুষ্ঠানটির প্রথাগত সূচনা হয়। নবপত্রিকা প্রবেশের পর দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। এরপর বাকি দিনগুলিতে নবপত্রিকা প্রতিমাস্থ দেবদেবীদের সঙ্গেই পূজিত হতে থাকেন। বিশেষ ভাবে লক্ষ্যণীয় হল, নবপত্রিকা প্রবেশের আগে পত্রিকার সামনে দেবী চামুণ্ডার আবাহন ও পূজা করা হয়। 

          <--©➽--আদ্যনাথ-->

========================



   4>|| আজ মহাঅষ্টমী 2021 ||

            13/10/2021

  মহা অষ্টমী 13 অক্টোবর বুধবার 2021 ।

 মহা অষ্টমীতে মা মহা গৌরী রূপে পূজিত হন।


মহা গৌরী, হিমায়লকন্যা ছিলেন গৌরবর্ণা। শিবের তপস্যা করে রৌদ্রে পুড়ে তিনি কৃষ্ণ বর্ণা হন। মহাদেব গঙ্গাজল দিয়ে তাকে স্নান করলে তাঁর কৃষ্ণ বর্ন দূর হয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ফর্সা। 

তখন তাঁর এই রূপের নাম হয় মহাগৌরী।



||-অষ্টমীর আরাধনা-||

                 <----আদ্যনাথ--->( © )

শারদীয়া দুর্গা পূজার আজ অষ্টমী,

মহা অষ্টমী পূজার আয়োজন।

নির্মল আকাশ, উজ্জ্বল কিরণে,

আজ তোমারে স্বরণ করি আকুল হৃদয়ে।

সকল হৃদয়ে অনাবিল আনন্দের লহর,

নুতন পোশাক পরে মন উচাটন।

"মা" দশভূজা তোমারে করি আহ্বান,

প্রনমি মাগো তোমার শ্রী চরণে বার বার।

সমগ্র দেব দেবীর শক্তি তোমাতে নিহিত,

সমগ্র ব্রহ্মান্ড তোমার পদ তলে দলিত।

তুমি মাগো সর্বভূতে সনাতনী,

মর্ত বাসীর হৃদয়ে তুমি আনন্দ দায়িনী।

মহা অষ্টমী ও মহা নবমীর সন্ধিক্ষণে,

সন্ধি পূজার শুভ লগ্নে হর্ষিত মনে,

তোমার মাহাত্ম গাই উল্লসিত মনে।

তোমার বিরাট রূপেতে জগৎ মথিত,

তোমার আশীষে জগৎ সৃজিত।

নানান উপাচারে আজ পূজিব তোমায়,

ব্যাকুল হৃদয়ের আনন্দ অর্ঘ দিয়ে।

সৃষ্টির করুণাবৎসলা রূপে তোমায়,

জগৎ বাসী মাতা রূপে পূজিবে তোমায়।

তুমি মাগো দশ হাতে দশ দিগ শাসাইছ,

সর্ব অসুর বিনাশিনী ব্রহ্মান্ড জিয়াইছ।

তোমার করুণা ধারায় আপ্লুত মর্ত বাসী,

তোমার  আশীষে আহ্লাদিত জগৎ বাসী।

হে জগৎ মাতা তোমারে প্রনাম ।

" নমঃ মহিষগ্নি মহামায়ে চামুন্ডে মুন্ডমালিনী 

আয়ুরারোগ্য বিজয়ং দেহি দেবী 

নমোস্তুতে ||"

"সর্বমঙ্গল্য মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে,

শরণ্যে ত্রম্বকে গৌরি নারায়ণী নমোহস্তুতে|"

"নমঃসৃষ্টিস্তিতিবিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনী, 

গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণী নমোস্তু তে ||"

"নমঃ শরণাগতদীর্নাত পরিত্রাণপরায়ণে | 

সর্বস্যাতিহরে দেবী নারায়ণী নমোস্তু তে ||"

যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু চ্ছাযারূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মীরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু দযারূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা,

যা দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা,

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমঃ নমঃ।

"এষ সচন্দন-পুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমঃ 

দক্ষযঞ্জ বিনাশিন্যে মহাঘোরায়ৈ যোগিনী 

কোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ ||"

"জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী | 

দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোস্তু তে ||"

"নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমঃ নমঃ "

   ______××_______


 প্রচলিত বিশ্বাস, নবরাত্রির অষ্টম রাতে মহাগৌরীর পুজো করলে সব পাপ ধুয়ে যায়। দেবী সাদা পোশাক পরিহিতা, চার হাত বিশিষ্টা দেবীর বাহন ষাঁড়। দেবীর এক হাত শোভিত বরাভয় মুদ্রায়। বাকি তিন হাতে থাকে পদ্ম, ত্রিশূল এবং ডমরু |

দেবী এই গৌরী রূপে অষ্ট বর্ষি বালিকা রূপে শিব কে নৃত্য করে প্রমোদ দেন পরে শিব তার পরিচয় জানতে চাইলে দেবী পার্বতী নিজের রূপ প্রকাশ করেন


 এই মহা অষ্টমীতে দেবী দুর্গার সঙ্গে মহিষাসুরের  ভীষণ সংগ্রাম আরম্ভ হয়। মহিষাসুর ক্ষণে ক্ষণে রূপ পরিবর্তন করতে লাগলেন। 

এরপরেই দেবী মহিষাসুরকে ত্রিশূল  দিয়ে বধ করলেন। আর এই ক্ষণটিকেই বলা হয় সন্ধিক্ষণ ।

এই সন্ধিক্ষণেই হয় সন্ধি পূজা।


অষ্টমী তিথি শেষ হয়ে যাওয়ার শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথি শুরু হওয়ার প্রথম ২৪ মিনিটকে বলা হয় সন্ধিক্ষণ । ঠিক এই সময়েই দেবী দুর্গা চন্ড ও মুন্ড নামে দুই ভয়ঙ্কর অসুরের নিধন করেছিলেন। এই ঘটনাটি মনে রাখার জন্যই প্রতি বছর অষ্টমী এবং নবমীর সন্ধিক্ষণে এই সন্ধিপূজা করা হয়। চান্দ্রমাস ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই সময়টি প্রতিবছরই পরিবর্তিত হয়।


 সন্ধিপুজোর নৈবেদ্য- সন্ধিপুজোয় অন্যতম উল্লেখযোগ্য নৈবেদ্য হল পদ্ম। এই পুজোয় মা-কে ১০৮টি পদ্ম অর্পণ করা হয়, ১০৮ টি বেলপাতা এবং ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়। নৈবেদ্যয় দেওয়া হয় গোটা ফল, জবা ফুল, সাদা চাল, শাড়ি, গহনা, এবং সাজ-সজ্জার দ্রব্যও থাকে। এছাড়া সন্ধিপুজোর সঙ্গে বিভিন্ন আচার ও প্রথা জড়িয়ে আছে। আগে রাজপরিবার ও জমিদার পরিবারের দুর্গা পুজোয় সন্ধিপুজোর সময়ে কামান দেগে তোপধ্বনি করা হত। এখনও  সন্ধিপুজোয় বিশেষ ঢাক বাদ্য যন্ত্র বাজানোর হয়। 


এদিন পুষ্পাঞ্জলী দিয়ে দেবী দুর্গাকে মনের বাসনা ব্যক্ত করা হয়। এদিন চামুণ্ডারূপে দেবীর পুজো করা হয়। চালকুমড়ো, আখ বলি দেওয়ার রীতি আছে এদিন। এদিন কিশোরীদের দেবীর আসনে বসিয়ে পুজো করা হয়, যা কুমারী পুজো নামে খ্যাত।


"কুমারী পূজা":::---

  

মহাষ্টমীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হল 'কুমারী পূজা'। 

যেখানে একজন বালিকাকে দেবী দুর্গারূপে আরাধনা বা পূজা করা হয়। যেসব বালিকারা বয়:সন্ধিতে পৌঁছায়নি এদিন সকালে তাদের দেবীরূপে পুজো করা হয়। ১৬টি উপকরণ দিয়ে পূজার সূত্রপাত হয়। শুরুতেই গঙ্গাজল ছিটিয়ে কুমারী মা-কে শুদ্ধ করে তাঁর চরণযুগল ধুয়ে তাঁকে বিশেষ অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। অর্ঘ্যের শঙ্খপাত্রকে সাজানো হয় গঙ্গাজল, বেল পাতা, আতপ চাল, চন্দন, পুষ্প ও দূর্বাঘাস দিয়ে। দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। এরপর অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস- এই পাঁচ উপকরণ দেওয়া হয় 'কুমারী' পূজাতে। 

 কুমারী পূজার সম্বন্ধে কিছু লিখছি 

পরের অংশে।

                <--আদ্যনাথ-->

==========================


     4/a>  || কুমারী পূজা কি? ||

       --   13/20/2021

মহাষ্টমীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হল 'কুমারী পূজা'। 

যেখানে একজন বালিকাকে দেবী দুর্গারূপে আরাধনা বা পূজা করা হয়। 

 স্বামী বিবেকানন্দ 1901 সালে

কুমারী পুজোর প্রচলন করেন।

শাস্ত্রকাররা নারী জাতিকে শ্রদ্ধা-সম্মান

জানাতে এই পুজোর পক্ষে মত দিয়েছেন,

এবং এমনটাই এই কুমারী পুজোর মূল লক্ষ্য।

স্বামীজী বিশ্বাস করতেন যে সমাজ ও দেশ নারী জাতিকে  শ্রদ্ধা-সম্মান করেনা সেই সমাজ ও দেশ কোনদিন উন্নতি করতে পারেনা।

সনাতন ধর্মে তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে

কুমারী পূজা হলো এক বিশেষ পূজা অনুষ্ঠান, যেখানে ষোলো বছরের কম বয়সী অরজঃস্বলা কুমারী মেযে়কে দেবী রূপে পূজা করা হয়। শারদীয় দুর্গাপূজার অংশ হিসেবে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে । 


এই পুজোর আচার রীতি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের। চেন্নাইয়ের মাদুরাইতে মীনাক্ষি দেবী মন্দিরেও এই পুজো সম্পন্ন হয়। পুজো আচার অনুষ্ঠানে ভিন্নতা থাকলেও , কুমারী পুজোর ইতিহাস ও মাহাত্ম্য একই। এর নেপথ্যে যে পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে তাও একই। 


(এছাড়াও কালীপূজা, জগদ্ধাত্রীপূজা এবং অন্নপূর্ণা পূজা উপলক্ষে এবং কামাখ্যাদি শক্তিক্ষেত্রেও কুমারী পূজার প্রচলন রয়েছে।)


শাস্ত্র অনুসারে সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।


যোগিনীতন্য, কুলার্ণবতন্য, দেবীপুরাণ, স্তোত্র, কবচ, সহস্রনাম, তন্যসার, প্রাণতোষিণী, পুরোহিতদর্পণ প্রভৃতি ধর্মীয় গ্রন্থে কুমারী পূজার পদ্ধতি এবং মাহাত্ম্য বিশদভাবে বর্ণিত হযে়ছে।


আমি এখানে সামান্য কিছু বর্ণনা করছি।

কুমারী পুজোর বিভিন্ন প্রকার----


শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, যে কোনও শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্য দিয়েই ভগবতীর প্রকাশ হয়। আর সেই প্রকাশ পর্বেই বিশ্বের মধ্যে মমত্ব ও মানবিকতা বোধ জাগ্রত হয় বলে মনে করেন বহু মনীষী। রামকৃষ্ণদেবের সেই ভাবনা থেকে বেলুড়ে প্রবর্তিত হয় কুমারী পুজো। 


শ্রী দুর্গা পুজো বৎসরে দুইবার হয় চৈত্রমাসে এবং আশ্বিনমাসে।

মাসের শুক্লপক্ষের প্রতি পদ থেকে নবমী তিথি পর্যন্ত।

চৈত্র মাসের নবরাত্রিকে " বার্ষিক নবরাত্র"।

এবং অশ্বিন মাসের নবরাত্রিকে "শারদীয় নবরাত্র" বলাহয়।

এই দুই নবরাত্রে শাস্ত্র অনুসারে কন্যা তথা কুমারী পূজা করা হয়।

যেমন------

1>এক জন কন্যাকে পুজো করলে 

       ঐশ্বর্য প্রাপ্তি হয়।

2>দুইজন কন্যাকে  পুজো করলে 

      ভোগ এবং মোক্ষ প্রাপ্তি হয়।

3>তিনজন কন্যাকে পুজো করলে    

          ধর্ম,অর্থ,কাম প্রাপ্তি হয়।

 4>চারজন কন্যাকে পুজো করলে 

            রাজ্ পদ প্রাপ্তি হয়।

5> পাঁচজন কন্যাকে পুজো করলে 

            বিদ্যা প্রাপ্তি হয়।

6> ছয়জন কন্যাকে পুজো করলে 

             ছয় প্রকার সিদ্ধি প্রাপ্তি হয়।

7> সাতজন কন্যাকে পুজো করলে 

              রাজ্য প্রাপ্তি হয়।

8> আটজন কন্যাকে পুজো করলে 

              ধন সম্পদ প্রাপ্তি হয়।

9> নয়জন কন্যাকে পুজো করলে 

              পৃথিবীর প্রভুত্ব প্রাপ্তি হয়।

এই প্রকারে কুমারী পূজো তে কেবল দশ (10 ) সৎসর বয়সী পর্যন্ত কন্যাদেরই পূজো করার রীতি।



এছাড়া নব রাত্রির পুজোতে অষ্টমী বা নবমীর দিন কুমারী কন্যার পুজো হয়।

সামর্থ অনুসারে এই নয় দিন নবরাত্রির পুজো হয়।

কেউ কেউ এই নয়দিন কুমারী দের পূজন করেন বা ভোজন করান।কেউ কেউ অন্তিম দিনেই কুমারী কন্যাদের ভোজন করান।

এক থেকে দশ (10) বৎসরের কন্যা কেই পূজো করতে হয়। এর থেকে অধিক বয়সের কন্যা শাস্ত্র অনুসারে উপযুক্ত নয়।

কন্যার সংখ্যা নয় হলে এটি উত্তম,আথবা

কমসে কম দুইজন তো অবশ্যই চাই।

এক কন্যকে ভোজন করানোর কোন বিধান নাই।


1>দুই বৎসরের কন্যা কুমারী রূপে গণ্য। ।

   কুমারী পূজনে দুঃখ দারিদ্র দূর হয়।


2>তিন বৎসরের কন্যা ত্রিধা রূপে গণ্য।

  ত্রিধামুর্তি পূজন করলে ধর্ম,অর্থ,কাম 

   প্রভিতির সিদ্ধি প্রাপ্তি হয়।


3>চার বৎসরের কন্যা কল্যাণী রূপে গণ্য।

   কল্যাণী পূজনে বিদ্যা,বিজয় তথা

   সর্বপ্রকার কামনার পূর্তি হয়।


4>পাঁচ বর্ষরের কন্যা রোহিনী রূপে গণ্য।

     রোহিনী  পূজন করলে সুস্বাস্থ,

     সর্বরোগ থেকে মুক্তি লাভ।


5>ছয় বৎসরের কন্যা কালিকা রূপে গণ্য।

     কালিকা পূজনে শত্রু দমন,তথা  

    বিরোধী কে পরাস্ত করবার জন্য 

    বিশেষ উপযোগী।


6>সাত বর্শীয় কন্যা চন্ডিকা রূপে গণ্য,

     চন্ডিকা পূজনে ধন সম্পত্তির প্রাপ্তি 

     হয়।


7>আটবর্শীয় কন্যা শাম্ভবি রূপে গণ্য,

    শাম্ভবি পূজনে নির্ধনতা দূর হয়।

     ঝগড়া বিবাদে বিজয় প্রাপ্ত হয়।


8>নয় বর্শীয় কন্যা দুর্গা রুপে গণ্য,

    দুর্গা পূজনে ভক্তকে সর্ব প্রকার সঙ্কট 

    থেকে রক্ষা করে। কঠিন কার্যে সিদ্ধি 

     প্রদান করে, সর্ব ভয় দূর হয়।


9>দশ বর্শীয় কন্যা সুভদ্রা রুপে গণ্য,

     সুভদ্রা পূজনে ভক্তের ইহলোক 

     পরলোক , অর্থাৎ উভয় লোকের সুখ 

     প্রাপ্তি হয়।


এহেন নয় কন্যা নব দুর্গার প্রতিমূর্তি।


বর্ণনানুসারে কুমারী পূজায় কোন জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যে-কোন কুমারীই পূজনীয়, এমনকি বেশ্যাকুলজাত কুমারীকে ও পূজা করা যেতে পারে। 

তবে সাধারণত ব্রাহ্মণ কুমারী কন্যার পূজাই সর্বত্র প্রচলিত। এক্ষেত্রে এক থেকে ষোলো বছর বয়সী যে কোনো কুমারী মেযে়র পূজা করা যায়। বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে এই সকল কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।


এক বছরের কন্যা--- সন্ধ্যা,

দুই বছরের কন্যা--- সরস্বতী,

তিন বছরের কন্যা--- ত্রিধামূর্তি,

চার বছরের কন্যা--- কালিকা,

পাঁচ বছরের কন্যা ---সুভগা,

ছয় বছরের কন্যা --- উমা,

সাত বছরের কন্যা --- মালিনী,

আট বছরের কন্যা-- কুষ্ঠিকা,বা কুব্জিকা,

নয় বছরের কন্যা --- কালসন্দর্ভা,

দশ বছরের কন্যা --- অপরাজিতা,

এগারো বছরের কন্যা --- রূদ্রাণী

বারো বছরের কন্যা --- ভৈরবী,

তেরো বছরের কন্যা --- মহালক্ষ্মী,

চৌদ্দ বছরের কন্যা --- পীঠনাযি়কা,

পনেরো বছরের কন্যা --- ক্ষেত্রজ্ঞা,

ষোলো বছরের কন্যা --- অন্নদা বা   

      অমিবকা বা অম্বিকা।

 

কুমারী পূজায়  নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা। ঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চারদিক মুখরিত হয় শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে। 

আর এভাবেই সম্পন্ন হয় কুমারী পূজা।

              <--আদ্যনাথ-->

===========================


   5>|| আজ মহানবমী 2021 ||

          14/10/2021বৃহস্পতিবার।

 14 অক্টোবর বৃহস্পতিবার 2021 ।

 মহানবমীতে মা সিদ্ধিদাত্রী রূপে পূজিত হন।


সিদ্ধিদাত্রী: নবদুর্গার নবম তথা শেষ রূপ হল সিদ্ধিদাত্রী। সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে আশীর্বাদী মুদ্রা। তিনি সিদ্ধি দান করেন। অর্থাৎ‍ তার উপাসনায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি। সবাইকে বরাভয় দেন এই মাতৃকামূর্তি। দেবী ভগবত্‍ পুরাণে আছে, স্বয়ং মহাদেব দেবী পার্বতী কে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পুজো করেছিলেন। এবং তার ফলে মহাদেব সকল সিদ্ধি লাভ করেন। সিদ্ধিদাত্রীর আশীর্বাদেই সর্ব সিদ্ধি লাভ করেন মহাদেব |


নবমী তিথি শুরু হয় সন্ধিপূজা দিয়ে। পুরাণ মতে, অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী শুরুর ২৪ মিনিট অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিট সময়কে সন্ধিক্ষণ বলা হয়। আর এই সন্ধিক্ষণেই আয়োজিত হয় সন্ধি পুজো। এই সময়ই নাকি চিন্ময়ী দুর্গা পূজিতা হন মুণ্ডমালিনী চতুর্ভূজা চামুণ্ডারূপে। কারণ ঠিক ওই সময় দেবী দূর্গার ললাট থেকে জন্ম নেওয়া চামুণ্ডা, অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন বলে পুরাণে বর্ণিত আছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে সন্ধিপুজোর রীতি বহু প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে।



 এই নবমী পূজার আছে বিশেষ মাহাত্ম্য। এই দিন অগ্নিকে প্রতীক করে সব দেবদেবীকে আহুতি দেওয়া হয়। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। শাস্ত্র অনুযায়ী মহানবমী তিথি অন্যান্য তিথির তুলনায় ‘শুভ’। তাই এই শুভ তিথিতে দেবীর আরাধনা করলে পূণ্য লাভ হয়। নবমীর শুভ পূণ্য তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে পৃথিবীতে শুভ শক্তির প্রকাশ ঘটান দেবী দুর্গা। 

নবমী পুজোর পরেই দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে যাত্রার ক্ষণ। 


একদিকে মাতৃপুজোর শেষদিনের আনন্দ,  অন্যদিকে আর একদিন পরেই ভক্তদের বিদায় জানিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে যাত্রার ক্ষণ। 


আসলে এই মহানবমীর দিনে 

মর্ত্য বাসীর হৃদয়ে, মনের গভীরে বেজে ওঠে বিসর্জনের বাঁশি। 


শারদ বিসর্জনের প্রাক্কালে ধুনোর গন্ধের মত আকাশে বাতাসে,চারিদিকে ছড়িয়ে যায় গভীর নিস্তব্ধতার করুন হাতছানি।

সকলের অন্তর্নিহিত মনে একই সুর বাজে


  'নবমী-নিশিরে,না হইও ভোর'


 নবমীর দিন ভক্তরা গভীর আগ্রহ নিয়েই 

দিনটি পালন করেন, কারণ আর একদিন পরই বিজয়া দশমী! অর্থাৎ মাকে বিদায় দেবার পালা।

তারপরেই আবার এক বৎসরের অপেক্ষা।

এই এক বৎসর "মা" কে হৃদয়ে ধারণ করে তাঁর পদকমল যুগল চিন্তন করে আনন্দে দিন গুলি এগিয়ে চলে।


" দশকর ধারিণী শঙ্করী শুভদে,

  হরি-হর-বিধিনুত-মঙ্গল-বরদে।

  জয় জগদীশ্বরি শাম্ভবি বিমলে,

  মম নতিরেষা তব পদকমলে।।"

        <--©➽-আদ্যনাথ--->

===========================


       5/a> || আজ শুভ নবমী 2021 ||

                      <----আদ্যনাথ--->


শোকবিহ্বল মেনকা,

নবমী নিশি গো তুমি আর হয়োনা ভোর,

রাত পোহালেই উমাও চলে যাবে মোড়।

উমা চলে গেলে প্রাণ আর বাঁচবেনা মোড়।

নবমী নিশি রেখো এইটুকু মিনতি মোড়।


চার দিন আমি ছিলাম মনের সুখেতে

ওরে নবমীনিশি তুই কেন এলি আময় কাঁদতে।

ওরে নিশি জানি তুই রাখবিনা আমার মিনতি,

আজহতে আবার আগামী বৎসরের অপেক্ষায় বসে থাকি।


সকলকে শুভ মহানবমীর শুভেচ্ছা জানাই।    

        <----আদ্যনাথ--->

=========================

    

 6>|| আজ বিজয় দশমী 2021 ||


  অর্থাৎ আজ বিজয়া

15/10/2021

১৫ অক্টোবর শুক্রবার দশমী।


দিকে দিকে বাজে বিদায়ের বাজনা,

ঢাকের কাঠিতেও তাই বিদায় বেদনা।

ঢোলের সাথে বাজে কাশর ঘন্টা,

এমন দৃশ্যে বেদনায় ভরেজায় মনটা।


সকলের মুখে এক বুলি,

করোনার কারণে হবেনা কোলাকুলি।

দূর থেকে মিষ্টি মধুর হাসি আর বুলি,

শুভ বিজয়ায় লুপ্ত আজ কোলা কুলি।


মন্ডপে মন্ডপে সিঁদুর খেলা,

চলছে এয়োদের সিঁদুর খেলা।

বিজয়ার আনন্দে মন রাঙিয়ে,

একে অন্যের মুখ দিচ্ছে রাঙিয়ে।


ভুলে গেছি কোলা কুলির পালা,

দেখি এয়ো'দের মন রাঙানোর খেলা।

সকলে ব্যস্ত সেলফি নিতে,

সিঁদুর রাঙা মুখে,বরণ ডালা হাতে।


বরণের পালা শেষে জয় মা দুর্গা বোলে

প্রতিমা নিয়ে যাওয়া গঙ্গার ঘটে।

চারদিন মর্তে মায়ের সাথে আনন্দ করে,

উমা চললেন কৈলাশে নিজের ঘরে।



আজ মা চলেছেন কৈলাসের পথে,

রেল পথ তো নাই কৈলাস পর্বতে।

বই রোড,পথে তো ব্রিজ ভাঙার ভয়,

অসুর সিংহ নিয়ে প্লেনে এলাউ নয়।


সুগম পথ গঙ্গাই চিরদিনের ভরসা,

সেখানেও আছে বাঁধ গুলোর সমস্যা।

এবারের যাওয়াতো দোলায় চড়ে,

পৌঁছতে হবে কৈলাশে নিজের ঘরে।


ভলেনাথ বসে নন্দী-ভৃঙ্গির সাথে

নেশায় বিভোর চিলিম হাতে।

সকলে মিলে নেশায় বিভোর আজ,

উমার চিন্তায় বসে অঘোর নাথ।


মাদুর্গার পরিবারকে ট্রাকে চাপিয়ে,

লাইন দিয়ে সকলে চলেছে গঙ্গার ঘটে।

কর্পোরেশন করেছে সুচারু ব্যবস্থা,

গঙ্গার ঘাটে আছে ক্রেনের ব্যবস্থা।


আজকাল ক্রেনে করেই হয় বিসর্জন,

গঙ্গার পারে দাঁড়িয়েই দেখার নিয়ম।

প্রতিমাকে জলে চুবিয়েই তুলে আনে,

গঙ্গার জলে রঙে ও দূষণের ভয়ে।


চারিদিকে বাড়ন্ত করোনার প্রকোপ,

তবুও মানেনা মন  আনন্দের ঝোঁক।

আজ জানাই সুস্থ থাকার বার্তা,

দিকে দিকে চলছে নানান সতর্কতা।


এবার হোক করোনা মুক্ত শুভ বিজয়া,

আশাকরি করোনা মুক্ত হবে দুনিয়া।

ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন,

সুস্বাস্থ্যর জন্য আনন্দে নাচুন।


হৃদয়ে হাসিটুকু ধরে রাখুন,

রোজ হাঁ হাঁ হাঁ করে হাসুন।

জোরে জোরে উচ্চ স্বরে হাসুন,

হাসিই বেঁচে থাকার শ্রেষ্ঠ গুন।

   <--©--আদ্যনাথ--->

 ==========================


         আজ 'দশমী' 

   আজ শারদ দশমী অর্থাৎ আবেগ ও মনবেদনার মিশ্রিত এক অনুভূতি।

দুর্গা পূজার নবমীরাত্রির পরেই শুরু হয় 

মনখারাপের আবেগ অর্থাৎ 

"বিজয়া দশমী"।

আর এই দশমী মানেই সপরিবারে মায়ের কৈলাসে ফিরে যাওয়া।

সেই কারণেই 'দশমী' কথাটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আমাদের আবেগ পূর্ন 

মনখারাপের মিশ্রিত এক অনুভূতি। 

এই মনবেদনার অনুভূতিই  মনকে ভাবিয়ে তোলে আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে। আর এই তিথিতেই দেবীদুর্গা পিতৃ গৃহ ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে পাড়ি দেন।

তাইতো এই তিথিকে 'বিজয়া দশমী' বলা হয়। 


এই দশমীকে 'বিজয়া' বলার কারণ পৌরাণিক কাহিনীতে আছে,

 "মহিষাসুর বধ" কাহিনীতে বলা হয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে  ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে মা দুর্গা 

বিজয় লাভ করেছিলেন মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

 এই বিজয়ের কারণেই  'বিজয়া' বলা হয়। 


উত্তর ও মধ্য ভারতের কোন কোন স্থানে এই দিনে  পালিত হয় দশেরা উৎসব । তবে সেটির তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। 'দশেরা' শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ 'দশহর' থেকে। 

যার অর্থ দশানন রাবণের মৃত্যু। বাল্মীকি রামায়নে বলা হয়েছে, আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতেই লঙ্কেশ্বর রাবণকে বধ করেছিলেন পুরুষোত্তম রামচন্দ্র। 


তবে দুর্গাপুজোর শেষ দিন হিসাবে দশমী শোকের ছায়া বহন করলেও শাস্ত্রে এই বিষয়টিকে সেই ভাবে দেখা হয়নি। 


"এপ্রসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের একটি কাহিনী উল্লেখযোগ্য। রানী রাসমণীর জামাতা মথুরবাবু একসময় আবেগপ্রবন হয়ে দশমীর দিনেও মা দুর্গাকে বিসর্জন দেবেন না বলে জেদ ধরে বসেন। তখন রামকৃষ্ণদেব তাঁকে বোঝান, বিজয়ার অর্থ দেবীমা ও সন্তানের বিচ্ছেদ নয়। তিনি আরও বলেন যে, মা কখনও তার সন্তানের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেন না। এতদিন মা দালানে বসে পুজো নিয়েছেন এরপর মা হৃদয়মন্দিরে বসে পুজো নেবেন। এরপরেই মথুর শান্ত হন এবং বিসর্জন হয় মা দুর্গার প্রতিমা।"


15/10/2021 শুক্রবার।

দোলায় দেবীর কৈলাশে গমন, ফল– মড়ক।

 

" দশকর ধারিণী শঙ্করী শুভদে,

  হরি-হর-বিধিনুত-মঙ্গল-বরদে।

  জয় জগদীশ্বরি শাম্ভবি বিমলে,

  মম নতিরেষা তব পদকমলে।।"

        <--©➽-আদ্যনাথ--->

===========================

বিজয়ায় আন্তরিক শুভেচ্ছা৷

বিজয়া দশমী বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও শান্তি,পূর্ন হোক সকল মনকামনা।

শুভ হোক আগামী দিন গুলি।

ঈশ্বরের নিকট এই প্রার্থনা করি।

========================

   

 


Friday, October 8, 2021

845> || শরত আমাকে ভাবায় ||

 


   845> || শরত আমাকে ভাবায় ||

           <---আদ্যনাথ--->

কখনো শরত কে বুঝিনি তেমন করে,

আসলে শরতকে বুঝতে যে মন লাগে

তেমনি মন আমার নাই বা কোনদিন

ছিলোওনা বুঝি।

কলকাতার বাইরেই কেটেছে

চাকুরী জীবন,

দূরের নানান জনপদে।

পাহাড়-জঙ্গলে পরিপূর্ণ 

অপূর্ব সুন্দর প্রকৃতির মাঝে,

কখনো হিমালয়ের লাদাখে, 

বা নাগা হিলে অথবা

মেঘালয়ের গারো-খাসি রেঞ্জের 

গারো হিলে।

আবার কখনো সবুজে সবুজে পরিপূর্ণ, 

বঙ্গোপসাগরের তীরে,

মাটিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচেথাকা 

মেঠো পথে জীর্ন শরীরের 

মানুষদের সাথে। 

আবার কখনো মধ্যপ্রদেশের  

কিছু শ্বাপদ সঙ্কুল গভীর জঙ্গলে, 

কিছু বন্য প্রাণীদের সাথে।

হয়তো মহারাষ্ট্রে ভেন্ডারা আর

মধ্যপ্রদেশের ইন্দর অথবা চম্বল ঘাঁটিতে।

কলকাতায় কোনদিন শরৎকে 

খুঁজে পাইনি তেমন করে।

বায়ুদূষণ ও গাড়ি ঘোড়ার ভিড়ে, 

কলকাতায় শরৎ ঢুকতেই পারেনা 

তেমন করে।


হয়তো কখনো একটু উকি ঝুঁকি 

মারার চেষ্টা করে, 

কলকাতার আকাশে একটু 

টিকে থাকার  চেষ্টা করে,

কিন্তু ঠাঁই পায়না তেমন করে।


আমি দুইএক বার চেস্টা করেছি, 

ছুটে এসেছি, কোন রুক্ষ শুষ্ক 

বনাঞ্চল থেকে কলকাতায়,

মনের ভাবনা,আদরে কলকাতার

শরত কে একটু গায়ে মাখতে।

কিন্তু  হতাশা ছড়া কিছুই মেলেনি তেমন করে।

তাই হয়তো শরত কে উপভোগ করতে 

মনে ধরে রাখতে,

কলকাতার বাইরে পাহাড়ে জঙ্গলে, 

একটু নিরিবিলিতে, 

থাকতেই ভালো লাগে।

সেখানে যদিও দুই একটি ছাড়া

পূজো হয়না তেমন করে,

কিন্তু মানুষের মন, হৃদয় পাওয়া যায় 

প্রাণ খুলে আদোর করে।


বর্ষা বিদায় নিচ্ছে ।

গুটিয়ে নিচ্ছে তার কালো মেঘের চাদর,

ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে বাংলার আকাশ থেকে দূরে,

হয়তো হিমালয় পার করে চলে যাবে ওপারে দূরে।

অথবা মেঘ গুলি বরফ হয়ে মিশে যাবে হিমালয়ের সাথে।

আর সেখান থেকে হিমেল হওয়া

গ্রীষ্মকে সরিয়ে নীল আকাশে ধীরে ধীরে 

মিশে যাবে শরতের এই হালকা শীতের আকাশে।

এমন দিনে মন হারিয়ে যেতে চায় দূরে।

শরতের চঞ্চল মাদকতার খেলায়

মন পৌঁছে যায় সেই শিশু বেলায়,

অদ্ভুত এক মিষ্টি মধুর নেশায়।


শরতের দুর্গা পূজাকে গভীর ভাবে অনুভব করি,

পূজার চারটে দিন এক স্নিগ্ধ নেশায়

বুদ হয়ে পথে পথে ঘুড়ে বেরিয়ে,

আনন্দ মুখরিত শিশুদের দেখি  দুচোখ ভরে, 

আর এমনি করেই কিছু মনের খোরাক জোগাই।


এইতো সেদিনও শরতের সকালে 

অঝোরে কেঁদেছি একলা বসে,

যখন দেখেছি উলঙ্গ দুটি  শিশু 

সেই সকালে একটু পান্তা খেয়ে 

আবার দুপুরে একটু ভাত খাবার জন্য 

অঝোরে কাঁদছে, 

আর মায়ের আঁচল ধরে টানছে,

অসহায় মা বসে আছে মুখ ঢেকে,

ঘরে খাবার বাড়ন্ত, 

দুফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল মাতৃ ক্রোড়ে।


এমন দৃশ্য দেখে সব কাজ ফেলে রেখে 

দৌড়ে এসেছিলাম কলকাতায়, 

যতটা সম্ভব কিছু জামা কাপড় কিনে, 

ওদের দিয়ে পুজোর আনন্দ  

ভাগকরে নিয়েছিলাম ওদের সাথে ।

জানতাম ওদের প্রয়োজনের তুলনায়

সে ছিল অতি সামান্য।

তবুও ঐটুকুতেই একটু সুন্দর মিষ্টি হাসি 

খুঁজে পেয়ে ছিলাম,

ক্ষনিকের জন্য আদর করে।


শরৎ আসলেই আমাকে ভীষণ 

ভাবিয়ে তোলে। 

কারন এর পরেই শীত 

হানাদেবে ঘরে ঘরে। 

যেখানে ওরা দুমুঠো খাবার 

জোগাড় করতেই দিশেহারা। 

শীতে টিকে থাকতে কি আছে ওদের

ওই আগুন ছাড়া।

সেই আগুন জ্বালাবার খড়কুটো, 

শুকনো পাতা । 

তারও অকাল বর্ষনের বন্যায় 

সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

গরু ছাগল হাস,মুরগি গুলিও 

ওরা বাঁচাতে পারেনি।

মানুষ গুলি কোনমতে বেঁচে আছে।


এখন ধুকছে, সামান্য রিলিফ, 

তাতে সকলের পেট ভরে না।

দূরের গ্রামে ঢাকের আওয়াজ 

শিশুদের কানে পৌঁছে যায়,

মনে করিয়ে দেয়, দুর্গা পূজা হচ্ছে।

বাচ্ছা গুলো তখন থেকেই বায়না, 

মেলায় যাবার জন্য বায়না।

মায়ের চোখের জল কে মোছাবে?

সেইসব দিনের কথা চিন্তা করলে 

শরত কে বিভীষিকা মনে হয়।

তবুও  শরতের দুর্গা পূজাকে 

অনেক হাসি কান্নার মধ্যেও 

সুন্দর রূপে ভাবতে চেষ্টা করি।


2013 সালে শরতে গিয়ে ছিলাম আমেরিকায়, 

সেখানে আরব সাগরের তীরে,

 53 RalphAvenue, Babylon ,

New York 11702 তে আমি 

আমার মেয়ে ও জামাইয়ের কাছে ছিলাম।

ওখানে দেখেছি  ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবে 

সকলে একসাথে কিভাবে আনন্দ করছে।

দেখেছি বাংলা দেশের মুসলিমরাও দুর্গা পূজা করছে। 

খিচুড়ি লাবরা প্রসাদ সকলের জন্য, অবারিত দ্বার।

কি সুন্দর মিলে মিশে একাকার।

নাম ও পদবি না বললে বোঝাই যাবেনা 

কে মুসলিম আর কে হিন্দু কে খ্রিস্টান।

ও খানে ছুটির দিন শনিবার ও রবিবার পুজো হয়।

কলকাতার মতন  দিন ক্ষণ তিথি নক্ষত্র দেখে 

ওখানে পুজো হয়না।

আর ঠাকুরের মূর্তিও প্রতি বৎসর নুতন হয়না। 

পুরানো মূর্তিকে নুতন রূপে সাজিয়ে

গুছিয়ে পূজো করে।

ওরা শনিবার রবিবার আনন্দ করে,

ভক্তির সাথে আনন্দ মিশিয়ে পুজাকরে।

ওখানে বিশাল ডেকোরেশন,

চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জা দেখিনি,

দেখেছি মানুষে মানুষে মিলম মেলা।

ওদেশে পুজো মানে আনন্দ মুখরিত 

দুইদিনের এক মলিন মেলা।

ধর্ম থাকে সকলের হৃদয় মাঝে,

সকলে মিলিত হয় পূজা পেন্ডেলে

আনন্দ মনে।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->


==========================





     I think:---

DURGA PUJA IS ONE OF THE  

WORLD'S  GREAT MEETING OF  

 SPIRITUAL OCCASIONS AND

LARGEST CARNIVALS OF ART.

        <---ANRC--->


 ========================      


844> || আমার ভালোলাগার শরৎঋতু ||

 844> || আমার ভালোলাগার শরৎঋতু ||

               <---আদ্যনাথ--->


শরৎকাল মানেই কাশফুল, আকাশের 

অপূর্ব সুন্দর বাহারি রং আর সাদা সাদা পেঁজা তুলোর মতন ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ, শিউলি ফুলের গন্ধ মাখা শান্ত শীতল হওয়া ! 

মানুষের আহ্লাদ তো এই সকল নিয়েই। 

শরতের আছে নিজেস্ব অপরিহার্য সুন্দর কিছু ম্যাজিক আকর্ষণ যে আকর্ষণ 

পাগল করে দেয় মানুষ কে।


শরত মানেই পুজোর আনন্দে মেতে ওঠা,

শরত মানেই আকাক্ষিত দুর্গাপূজো,

শরত মানেই নুতন জামা জুতো,

শরত মানেই নুতনকে খুঁজে পাওয়া,

শরত মানেই প্যাডেলে প্যাডেলে ঠাকুর দেখা।

শরত মানেই মনের আনন্দে স্বপ্ন দেখা,

শরত মানেই মনের গভীরে ভালোবাসাকে খুঁজে পাওয়া।

শরত মানেই সকল পরিবার এক হওয়া,

শরতের পরেই আসে ভাই ফোঁটা,

বোন দেবে ভাইয়ের কপালে ফোঁটা,

চন্দন,কাজল,আর ঘিয়ের ফোঁটা,

এমন দিনকে তো যায়না ভোলা।


দেখেছিলাম ষ্টেশনের সিঁড়ির নীচে,

বোন দিচ্ছে ভাইকে ফোঁটা,

জানিনা চন্দন আর ঘি ছিলকিনা?

তবে কাজল দেখে ছিলাম 

বোধ হয় কিছু কাগজ পুড়িয়ে,

ভাইও দিয়েছিল বোনকে উপহার, 

নিজের অর্ধেক বর্ন রুটির উপহার।

তার পরে দুজনে খেলো ভাগকরে,

ভীষণ আনন্দে খাচ্ছিল দুজনে।

পাশেই ছিল লুচি তরকারির ঠেলা,

দুইপ্লেট দিলাম কিনে ওদের হাতে,

ওরা খেল এক প্লেট আনন্দে ভাগকরে, 

রেখে দিল একপ্লেট, মায়ের জন্য আদরে।

সেদিন ছিলাম স্কুলস্টুডেন্ট,

টিফিনের পয়সা টুকুই ছিল পকেটে।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================


Tuesday, October 5, 2021

843>|| টেরাকোটা দুর্গামূর্তি ||

 843> || টেরাকোটা দুর্গামূর্তি ||

 


এটি সম্পূর্ণ হস্ত নির্মিত টেরাকোটা শিল্পী দের দ্বারা নির্মিত দুর্গামূর্তি।

প্রত্যন্ত গ্রামীণ কারিগর দ্বারা তৈরি।

টেরাকোটা লাতিন শব্দ: 'টেরা' অর্থ মাটি, আর 'কোটা' অর্থ পোড়ানো। 

গ্রাম্য শিল্পীদের, মানুষের ব্যবহার্য পোড়ামাটির তৈরি সকল রকমের দ্রব্য টেরাকোটা নামে পরিচিত। আঠালো মাটির সঙ্গে খড়কুটো, তুষ প্রভৃতি মিশিয়ে কাদামাটি প্রস্তুত করা হয়। সেই মাটি থেকে মূর্তি, দৃশ্যাবলি তৈরি করে রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে টেরাকোটা ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। মানবসভ্যতার বিকাশকাল হতে পোড়ামাটির ভাস্কর্যের ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবীলনীয় সভ্যতা, মায়া সভ্যতায় এই শিল্পের প্রচলন ছিল।পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে মৌর্য সাম্রাজ্য, গুপ্ত সাম্রাজ্য-এর বহু টেরাকোটার নিদর্শন পাওয়া গেছে।পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহর টেরাকোটা শিল্পের জন্য বিখ্যাত।



দুর্গাপূজা বিশ্বের সর্ববৃহৎ  ধার্মিক মহা মিলন আনন্দ মেলা ও বৃহৎ শিল্প মেলা প্রদর্শনী। 

কলকাতার দুর্গা পূজা ভারতের সর্ববৃহৎ ভারতীয় উৎসব।

এই উৎসবে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ পূঁজাপ্যান্ডেলে একত্রিত হয়ে আনন্দ উপভোগ করে।

এই উৎসব বিশাল জনতাকে আকৃষ্ট করে।

এবং পূজা ও আনন্দের মাধ্যমে সকলে একত্রিত হয়।


কলকাতায় প্রতি বৎসর 4000 এর বেশি দুর্গা পূঁজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশাল বিশাল প্যান্ডেল ও তার কারুকার্য

চোখ ধাঁধানো আলোক আলোকসজ্জা,

যা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল হয়।


  <--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================



DURGA PUJA IS ONE OF THE WORLD'S  GREAT MEETING OF  SPIRITUAL OCCASIONS AND

LARGEST CARNIVALS OF ART.

        <-----anrc----->



( DURGA PUJA OF KOLKATA is one of the biggest Indian Festivals,

attracting huge crowds who delight in pandal hopping the favorite activity at the festival. Durga Puja , known locally as Puja, literally takes over the city of kolkata.

.

Over 4,000 Durga Puja pandals scattered throughout kolkata,and attendance by millions of people.

The Durga Puja Festival is the event that people of kolkata --- and all Bengalis--look forward to all year long.


Durga Puja celebrates the yearly visit of the goddess from her home in the Himalayas, and it's a festive time for Bengali families ( Bengalis

are affectionately known as Bongs).

Family members flock home to be together for the five days of the festival, to dress up in new clothes,feast on local specialties and sweets and attend Puja.


It is a Handmade Terracotta Durga.

Crafted by rural artisans from remote villages of West Bengal.

It is purely handmade and painted by the artisans.)


==================


Jhum এই টেরাকোটার মূর্তি টি সবিতাকে দিল। 30/09/2021.

Wednesday, September 29, 2021

842>|| সম্পর্ক ||--+বাপ বেটির আদর

 


        842>|| সম্পর্ক ||

                   <--আদ্যনাথ-->

সম্পর্ক যদি ভাবনায় জুড়ে থাকে,

সেই সম্পর্কই চিরদিন টিকে থাকে।

স্বার্থের সম্পর্ক সর্বদা ক্ষনিকের,

কখনোই খোঁজ রাখেনা মনের।


স্বার্থের সম্পর্ক হারিয়ে যায়

স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে।

ভাবনার সম্পর্ক নমের গভীরে,

সর্বদা টিকে থাকে হৃদয় জুড়ে।

 <--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

========================


|| বাপ বেটির আদর  ||

বাঃ কি সুন্দর বাপ বেটির আদর।
বাপ দিচ্ছেন স্নেহ আদর  উজাড় করে হৃদয় দিয়ে ।
বেটি করছে গ্রহণ মন প্রাণ দিয়ে।
এমন স্বর্গীয় সুখের স্পর্শ যেন
ঈশ্বর নেমেএসেছেন সেই মহাকাশ থেকে,
বিলাইছেন স্নেহআদর   নিজ সন্তানেরে ।
অপূর্ব অপূর্ব এমন দৃশ্য দেখে
আনন্দ পূর্ণ মনপ্রাণ ভরে। 
সত্য বলবো একটু হিংসা,
লোভও জাগে মনে।
তাই আবার বলবো
অপূর্ব অপূর্ব দৃশ্য এমন।
জীবনে দেখলাম প্রথম।
মনচায় ছুটেগিয়ে একটিবার
প্রনাম করি এমন পিতারে।
সত্য এমন পিতাই জানেন
" স্নেহ অতি বিষম বস্তু"
যে স্নেহ বিলায়ে দিতে পারে,
সন্তানেরে অকাতরে আপনমনে।
এমন পিতার সন্তান ধন্য তুমি ।
||-----<--- আদ্যনাথ----> 
||===========================||

841>|| চ্যালেঞ্জ ||

 


   841>|| চ্যালেঞ্জ ||


জীবনের প্রতিটি দিন

এক একটি চ্যালেঞ্জের দিন।

আজকের চ্যালেঞ্জ 

গত কালের থেকে কঠিন।


এমনি করেই বেড়ে চলা

রোজের অভিজ্ঞতা।

এমন  চ্যালেঞ্জ জেতাই

জীবনের স্বার্থকতা।


চ্যালেঞ্জ জেতার অর্থ

নিজেকে খুঁজে পাওয়া।

শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

নিজেকে প্রীতিষ্ঠিত করতে পারা।

          <--আদ্যনাথ-->

840>|| জলের জ্বালা ||

 840>|| জলের জ্বালা ||


গত 15 দিন পরে 

দেখা দিয়েছিল একটু সুখ,

রবি,সোম, মঙ্গল,তিনদিন

ছিলোনা রাস্থায় জল।

মঙ্গলবার রাতভর হোল বৃষ্টি,

তাই আবার শুরু সেই জল জমা।

ভোর সাড়ে চারটার 

ভোরেগিয়েছিল সব নিকাশি নালা।

এখন সততা চল্লিশ 

শুরু রাস্থায় জল জমা।

এখন অবশ্য পায়ের পাতা ভেজার মতন জমেছে জল।

তবে ঝির ঝির বৃষ্টি চলছে,

রাস্তার জলও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

উপচে পরে নিকাশি নালা

আবার শুরু হলো জলের জ্বালা।

6মাস আগে রাস্থা খুঁড়ে

পাইপ বসিয়েছে রাস্তার গভীরে।

সেই থেকেই ভঙ্কর বিপদ 

এই রাস্থায় পথ চলা।

তার উপরে বার বার 

একটু বৃষ্টিতেই

এই জলের জ্বালা।

  29/09/2021;; সকাল 07:50am

=======================






Thursday, September 23, 2021

839>|| প্রবল বর্ষায় ||--(1)sept 2021

839>|| প্রবল বর্ষায় ||--(1)sept 2021

      <--আদ্যনাথ-->

সকলেই চায় থাকি সাবধান,

কিকরে থাকবো সাবধান।

চলছে এমন বৃষ্টির বাড়ন্ত বার

চারিদিকে জলে জলাকার,

বুড়ো বুড়ি ঘরে বসে হাঁহাকার।

নাই কোন খাবার জোগাড়

কাকে বলবো 

কে করবে সামান্য উপকার,

এমনি করেই চলছে বার বার।

চার মাস ধরে ডুবছি বার বার,

যতবার ভাবি স্বস্তি বুঝি এইবার,

তারপরেই ঝাঁপিয়ে বৃষ্টি আবার।

অর্ধ সত্য জেনো লিখলাম এবার

দুঃখের মাঝেও একটু হাসি দরকার।

ভেবোনা আমরা অসহায়,

কাছে নাহোক fb এতে আছে সবার।

তোমরা সকলে থেকো সজাগ এবার

এই টুকুই আমাদের একান্ত দরকার।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

       21/09/2021;;11:00am

===========================


    (2)

আজকের মেনু ছিল

খিচুড়ি আর বাংলাদেশের ইলিশ,

খাওয়াটা জমেছিল বেশ।

সারাদিন বর্ষার জল মাপছি,

ঘরবন্দী হয়ে আকাশ কুসুম ভাবছি।

বাইরে মুসলধারায় ঝরছে বৃষ্টি,

দেখছি আর ভাবছি প্রকৃতির অনাসৃষ্টি।

আশ্বিনের শুরুতেও ঝরছে

অঝোর ধারায়,

আধা কোলকাতা শহর জলের তলায়।

শহর গ্রাম অস্থির প্রকৃতির খামখেয়ালিতে,

বাজার হাট সকলি জলের তলাতে।

সকলে দিশেহারা করোনা ভাইরাসে,

তার উপরে পথ ঘাট থৈ থৈ  বৃষ্টির জলে।

আসছে পুজো নাচছে মন,

ঘরে বন্ধি থাকতে চায় কি মন।

খিচুড়ির গ্রাসে গ্রাসে কত ভাবনা জাগে,

অশনি সংকেতে মন গভীরে ভাবে।

উপায় তো নাই প্রকৃতির খেলা,

এমনি করেই বাঁচতে হবে দুই বেলা।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

       21/09/2021;;11:14pm

========================

    (3)

বার বার মেপে দেখছি 

জল একটু একটু নামছে।

তাতে আর কি হবে,


জল নামছে আবার উপরে দেখছি 

বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, 

আকাশ কালো হয়ে আছে।

খবরে আরও তিনদিন বৃষ্টির ভবিষ্যদ্বাণী

 দিচ্ছে।

আমিও সেই ভয়েই ভীত হয়ে দিন গুনছি।

আর তো কিছু নয় এই 

ফ্রিজতটা নিয়েই ভাবনা।

আর একটুও জল উঠলেই ঘরে জল ঢুকবে।

তখন ফ্রিজ টা কি করে তুলবো উপরে।

হঠাৎ শুভ খবর হলো।

সবিতা উঠোন থেকে মাছ ধরলো।

এবার আর কিসের চিন্তা।

মৎস মারিব খাইব সুখে।

আমরা আছি দুজনে,

মাছ খাবো আনন্দে।

ভেসে যাই যাক অলিন্দে,

মাছ ধরিব সুখে।

===================

        (4)


দীর্ঘ দিন হলো 

ভাসছি জলে

জানিনা কবে মুক্তি 

কিভাবে হবে।


বর্ষার শুরুতেই

এক্সকাভেটর দিয়ে রাস্থা খুঁড়ে

পাইপ বসিয়েছে এলাকা জুড়ে

বিশাল পাইপ রাস্থা খুঁড়ে গভীরে।


সেই রাস্থায় বহুদিন জলজমে,

মানুষের দুরবস্থা বাড়ছে ক্রমে।

কে করবে সুরাহা কী ভাবে

সেই ভাবনাই ভাবাচ্ছে বারে বারে।


জানিনা কবে হবে মুক্তি 

আবহাওয়া দেখাচ্ছে ভ্রুকুটি,

আবার আসছে ঝঞ্ঝা বুঝি

ভীত সন্ত্রস্ত এবার বুঝি প্রাণের ঝুঁকি।


এখন হাসবো, নাকি ভাববো

নাকি অশনি সঙ্কেতের চিন্তা করবো,

কিভাবে কবে এই বিপদের মুক্তি

ভেবেও পাইনা কোন যুক্তি।


পথ ঘাটের করুন দশা

বৃষ্টির জল দিচ্ছে সাজা।

বেঁচে থাকার কী আছে উপায়,

দিনরাত সেই ভাবনা ভাবায়।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

  23/09/2021;;12:02 দুপুর

=======================


Thursday, September 16, 2021

838>|| চাওয়া পাওয়া ||

   838>|| চাওয়া পাওয়া ||

          <---আদ্যনাথ-->

বৃদ্ধ বয়সে,অবসর সময়ে,

মাছ ধরা, জাল বাওয়া, 

মনের এক অদ্ভুত প্রেরণা।

আবার ভরা ভদ্রে

নিম্নচাপ হলে সমুদ্রে,

অতিষ্ঠ জীবন অতি বৃষ্টিতে।

জলে থৈ থৈ একাকার,

পথ ঘাট পুকুর ডোবা নদী নালা,

যখন জলে ভেসে যায়

চারিদিকে জল আর জল।

 

বন্যার জলে ভাসমান সব একাকার,

ঘর দোর, খেত খতিয়ান,

তখন নৌকা বাওয়া যেন

যৌবনকে খুঁজে পাওয়া,

ফেলেআস দিনগুলিকে ফিরে পাওয়া।

পুরনোকে নুতন উদ্যমে খুঁজে নেওয়া, একটু নুতন করে আদর পাওয়া।

নূতনের গন্ধে মনের ক্লান্তি দূর করা,

একটু জিরিয়ে নেওয়া।

দুটো মনের কথা বলা,

একটু ভালো লাগা।

একটু জড়িয়ে ধরা,

নুতন কিছু খুঁজে পাওয়া।

মনের গভীরে হারিয়ে যাওয়া,

আরো গভীরে যেন মুক্ত খুঁজে পাওয়া।

এ পাওয়া সীমা হীন পাওয়া,

মন প্রাণ ভরে পাওয়া।

শুধুই খুঁজে পাওয়া,

প্রতিটি মুহূর্ত খুঁজে পাওয়া।

প্রতিটি নিঃস্বাস কে আপন করে পাওয়া,

এ পাওয়া মনের চাওয়া পাওয়া।

একটু ঘামে ভিজে যাওয়া,

শরীরের গন্ধে নুতন নেশা ধরা,

পুরনো স্মৃতি কে জাগিয়ে তোলা।

মনের আনন্দকে খুঁজে পাওয়া,

এটাইতো শ্রেষ্ঠ পাওয়া।

বাসনার তৃপ্তি হওয়া।

স্বপ্নে ভিভোর হওয়া।

অবসর বয়সে আর বেশিকি চাওয়া।

না চাইতেই যা পাওয়াজায়,

সেটাইতো প্রকৃত পাওয়া।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

      15/09/2021;;01:20:pm

==========================

আপনি বললেন

তাই যা কিছু লিখলাম।

========================

শঙ্কর দাম::-

দারুন দারুন দারুন । 👏👏👏

=========================

ছোট গিন্নি::--

Bah..etateo likhe fellen👌🤓

Apnar haathe✋jaadu ache👌👌

=====================


Tuesday, September 14, 2021

837>|| success +| আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন ||

    

837>|| success +| আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন ||


    >|| success ||

           <---আদ্যনাথ-->

  Success এক অলীক স্বপ্নের নাম

  success  এক না দেখা ভূতের নাম,

  success  এক না পাওয়া দুঃখের নাম

  success  এক বামুনের চাঁদ ধরার নাম,

 

আসলে success কি, কোথায়, কিসে,

কেমনে পাওয়া যায় কেউ জানেনা,

 success  এর শেষ কোথায় তাও কেউ জানেনা।

তবুও success  এর জন্য হাঁহাকার করে যায়।

Success এর পিছনে ছুটেই জীবন যায়।

এক পথের ভিখারিও success হতে চায়,

এক আরব পতি ও ছোটে success এর নেশায়।


আসলে success  নামের ভূত শুধুই দৌড় করায়।

শেষে এই success এক গভীর গাড্ডার

সামনে এনে দাঁড় করায়।

যেখান থেকে ফেরবার উপায় থাকেনা আর।

শেষে ওই success  রুপি গাড্ডায় জীবনের হাঁহাকার আর বেদনা নিয়ে

চির দিনের জন্য ঘুমায়।

এভাবেই বোধ হয় success খুঁজে পায়।

  <--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===========================


     || আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন ||

            <--আদ্যনাথ-->


এক দম্পতির সুন্দর ফর্সা এক সন্তানের জন্ম দিয়ে ভাবনা Success এর।

 শিশুটি হাঁটতে শিখলো 

 দম্পতি উভয়ে হাসলো

  নামের ভাবনা Success হলো।

 শিশুটি কথা বলতে শুরু করলো

দম্পতির ভাবনা Success হলো,


  শিশুটি ইংলিশ মিডিয়ামে চান্স পেল

   দম্পতির মনে ভীষণ আনন্দ পেল

   তাদের ভাবনা Success হলো।


 স্কুলে তোতা পাখির মতন ইংরেজি শিখলো,পরীক্ষায় A+ পেল।

 বাবামা এর ভাবনা Success হলো।


এবার সন্তানের মাথায় Success এর 

ভূত বাসা বাঁধলো।

সন্তানকে ভাবতে শিখতে হলো

মাধ্যমিকে স্টার পেলেই success হবে।


তার পরে উচ্চমাধ্যমিকে এমনি করেই 

 Success হতেই হবে।

 

তারপরে আবার নুতন উদ্যমে

 ভাবা শুরু হয়ে গেল নুতন ভাবে।

ভালো সাবজেক্ট নিয়ে ভালো কোনো জায়গায় চান্স পাওয়াটাই success হবে, 


যেটা পড়লে একটা ভালো চাকরি 

পাওয়া যাবে।

আর  অনেক রোজগার করাটাই success হবে।

তারপরে একটি  বাড়ি করতে পারলেই success হবে। 


এরপরে  গাড়ি কেনাটাই আসল 

success হবে।

এর পরে স্বপ্ন দেখা শুরু বিয়ে করে 

সুখে সংসার করাটাই আসল success হবে।

স্বপ্ন সত্যি করতে দিল্লিকা লাড্ডু খাওয়া,

অর্থাৎ বিয়ে করা তেই success হবে।


বিয়ের পরে বছর ঘুরতে না ঘুরতে

বংশধর এবার success হবে।

এইবার আবার সেই পুনঃ মুশিকঃ ভবঃ।


আবার সেই Success এর দৌড়।


সাথে সেই  রিটায়ারমেন্ট এর জীবন।

সারা জীবনের জমানো টাকার সঠিক investment করে utilization করতে পারাই success হবে।

তারপরে মৃত্যু শয্যায় শুয়ে ভাবতে হচ্ছে

সত্যি Success বলে কোন কিছুর কুল কিনারা নাই।


আছে শুধু আকাশ ছোঁয়া অলীক স্বপ্নের ভাবনা যে ভাবনা আকাঙ্খা, যা কখনো পূর্ণ হয় না।

সেই কারণেই Success এক অলীক 

ভূতের ভাবনা।

Success এর পেছনে দৌড়ে আযথায়

প্রাণ যায়।

 <--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================




Sunday, September 12, 2021

836>|| বিচিত্র এই প্রকৃতি

   

 836>|| বিচিত্র এই প্রকৃতি ||

               <--আদ্যনাথ-->


প্রকৃতি আমাদের অনেক শিক্ষা দেয়,

কতো গাছ শীতে সব পাতা ঝড়ে যায়,

কিন্তু শীতের পরেই আবার 

নুতন করে নুতন কিশলয় নিয়ে বাঁচে।


কতো পশু পাখির কতো পরিবর্তন হয়।

শিশু কালে মানুষের দুধের দাঁত পরে যায়

আবার নুতন দাঁত জন্মায়।


কতো প্রাণী কীট পতঙ্গ আছে

সময় অনুসারে নানান বিবর্তনের পরে

পূর্ণাঙ্গ জীবন পায়।


পাখিদের মধ্যে খুঁজে পাই---

  ঈগল পাখির জীবন কাহিনী,

 ঈগল পাখি প্রায় ৭০ বছর বাঁচে। 

কিন্তু তার 40 বছর বয়সেই

তাকে লড়তে হয় ভীষণ সংগ্রাম 

সে সংগ্রাম নিজের সাথে সংগ্রাম,

সে সংগ্রাম নিজে বাঁচার সংগ্রাম,

প্রায় 4 মাস ধরে চলতে থাকে তার

নুতন  জীবন ফিরে পাবার সংগ্রাম।

সে এক অক্লান্ত জীবন মরনের প্রচেষ্টা।

কিছু ঈগল এমন অবস্থায় মারা যায়।

কিছু ঈগল অনাহারে জল পর্যন্ত না খেয়ে--

চালিয়ে যায় বাঁচার জন্য তার সংগ্রাম,

নূতন করে বাঁচবার সেই অপূর্ব সংগ্রাম।


তারপরে প্রায় 120 দিনের সংগ্রামে

কঠোর কৃচ্ছ সাধনের সেই সংগ্রামে,

ঈগল নুতন জীবন নিয়ে নুতন করে 

আরও 30 বৎসর বাঁচে।


শুধু বেঁচে থাকা নয় দাপিয়ে বেড়ায় 

নুতন ঠোঁট, নখ, নুতন ডানা নিয়ে

সমগ্র আকাশ, বন, জঙ্গল,

শহর ময় গ্রাম অঞ্চল।


মনুষ্যমন বুদ্ধিশুদ্ধি চেতনাময়,

তবুও মানুষ কেন ভোগে হতাশায়।

প্রকৃতি তো নিত্য দিন শেখায়,

নানান রূপে সদা সন্মুখে দেখায়।


প্রকৃতি চলে নিজের গতিতে,

প্রকৃতির সাথে চলতে হয় মানিয়ে নিয়ে।

যে সয় সেই রয় বাকিরা হারিয়ে যায়,

মানুষকেও মানিয়ে নিয়ে বাঁচতে হয়। 

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

        12/09/2021;;09:00 pm

=========================


835>|| সত্যি অবাক কান্ড ;;--||

  835>|| সত্যি অবাক কান্ড ;;--||

রসগোল্লার ইংরেজি নাম খুঁজতে গিয়ে

ভীষণ ব্যাপার, অবাক কান্ডই বটে,

যখন জানলাম ইংরেজিতে রসগোল্লাকে সিরাপ ফিল্ড রোল (Syrup Filled Roll) বলা হয়। 

তবে রসগোল্লাকে গুগলে Rasgulla-ই বলে। কিন্তু এর সঠিক নাম সিরাপ ফিল্ড রোল।

           <--আদ্যনাথ-->

==========================



  || সনাতন ধর্মে বার মাস ||

             <--আদ্যনাথ-->

যেমন খুঁজে পেয়েছিলাম,

রসগোল্লার ইংরেজি নাম।

তেমনি খুঁজে পেলাম 

সনাতন ধর্মের বার মাসের নাম::-

১,মধুসুধন বৈশাখ। 

২,ত্রিবিত্রুম জ্যৈষ্ঠ।

৩,পুরুযোত্তম আষাঢ়।

৪,শ্রীধর শ্রাবণ।

৫,হৃষীকেশ ভাদ্র। 

৬,পদ্মনাভ আশ্বিন।

৭,দামোদর কার্তিক।

৮,কেশব অগ্রহায়ন।

৯,নারায়ন পৌষ। 

১০, মাধব মাঘ।

১১, গোবিন্দ ফাল্গুন।

১২, বিষ্ণু চৈত্র। 

তাইতো ভাবি আমি যতো জানি

তার থেকে হাজার গুণ না জানি।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================


834>|| বার্ধক্য সত্য ||

 


   834>|| বার্ধক্য সত্য ||

             <--আদ্যনাথ-->

বৃদ্ধ কালে উপস্থিত বুদ্ধির অভাবে,

দুঃখ পেতেহয় কারনে অকারণে।

এ ছাড়া উপায় তো কিছুই নাই, 

সকল কিছু সহ্য করতেই হয়।


বৃদ্ধ বয়স আর নানান রোগ ভোগ,

রাখা কি যায়  সকলের মনের খোঁজ?

স্মৃতি গুলি কেমন যেন গুলিয়ে যায়

অনেক কিছুই মন থেকে হারিয়ে যায়।


তবুও সারাদিন নানা কথা শুনতে হয়,

নিজের অক্ষমতা নিজেকেই বুঝতে হয়।

হেঁটে চলে বেড়াবার উপায় কোথায়,

করোনার কারনে গৃহ বন্ধি অযথায়।


কতো ভাবনা ছিল যৌবন কালে,

খুব মজা আর আরাম বুঝি বৃদ্ধকালে।

সারাদিন অলস অবসর কর্ম হীন,

আজ বুজেছি বার্ধক্য কতো কঠিন।


সবইতো আছে বুঝি না অভাব কোথায়, 

তবুও অভাব বোধ কুঁড়ে কুড়ে খায়।

বার্ধক্যই বুঝি আজ সীমাহীন অপরাধ,

বার্ধক্যে নীরব থাকাই সুস্থ সমাধান।


সত্তরের পরে জীবনকে বার্ধক্য বলে,

বার্ধক্য জীবন আত্ম বিশ্বাসের বলে।

বার্ধক্যই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় সত্য,

বার্ধক্যই শেখায় সংসার সদা অনিত্য।

  <--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

      11/09/2021;; 09:10:00 pm

=========================

 Shankar Dam:--

দারুন দারুন দারুন বার্ধক্য ।👏👏

=======================

Choto bowdi::--

Kotha gulo khub ee satti

======================


Tuesday, September 7, 2021

833> || जीबन ||

    833> || जीबन ||

         <---आद्यनाथ--->

जीवन कभी भी निर्बाध नहीं होता है।

बाधाएं जीवन में अपरिहार्य हैं।

बाधाओं को दूर करने के लिए चाहिए

 साहस,आत्मनिर्भर बनने की तीव्र इच्छा,

और एक बड़े उद्देश्य के लिए जीने की दृढ़ प्रतिबद्धता। 


 वास्तविक बलवान वही हैं,

    जिसने जानते हैं 

    अपनी जीवन को

 उत्तम क्रम में रखने की तरीका,

     आंसुओं से भी,

    वह कह सकता है, 

       "मैं ठीक हूँ",

एक प्यारी सी मुस्कान के साथ।

       <---आद्यनाथ-->

==========================






  


Sunday, September 5, 2021

832>|| হাসির কথা + হাসির হাড়ি ||

 832>|| হাসির কথা + হাসির হাড়ি ||



  || হাসির কথা ||

           <--আদ্যনাথ-->


      হাসি শুধু হাসি,

     হাসতে ভালবাসি,

 হাসিই জীবন, হাসি ই সব,

 হাসিই জীবনের আনন্দউৎসব।

    হাসিতেই ভালোথাকা,

    হাসিতেই কথা বলা,

    হাসিটি মাখিয়ে ঠোঁটে

    সারাদিন আনন্দে কাটে।

    হাসির থেকে সুন্দর 

    আর কিছুনাই জগতে,

   হাসির থেকে আনন্দের

   আর কিছুনাই সুন্দরের।

        <--আদ্যনাথ-->


=======================    


    ||  হাসির হাড়ি ||

               <--আদ্যনাথ-->

   হাসির বুড়ি হাসবে বলে 

  বসে ছিলো জানালা খুলে,

 হাসতে গিয়েও হাসতে মানা

 আসল কিছু নাই যে জানা।


অনেক ভেবে শেষের আগে

সবাই খুশি চাঁদকে দেখে।

চাঁদের বুড়ি হাসির বুড়ি,

হাসির হাড়ি সব গেছে চুরি।


অনেক ভেবে শেষের আগে,

কেউ বুঝি হাসির বুড়িকে খোঁজে।

পড়শীরা সব  হাসির হাড়ি চাঁছে,

কাছের মানুষ সব পালিয়ে গেছে।


চাঁদ দেখেজা চাঁদ দেখেজা 

চাঁদের ভাবনা কেউ ভাবেনা।

চাঁদকে নিয়েই অধিক ভাবনা,

হাসতে গেলেই ওই হাড়ির ভাবনা।


  চাঁদের বুড়ি হারিয়ে  চড়কা

  এখন শুধু বায়ু দূষণের ভাবনা।

  আকাশ বাতাস ভরেছে দূষণ,

  কেমনে বাঁচবে ভবিষৎ জীবন।

 <--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================