852>|| শীতের সকাল ||
<----আদ্যনাথ--->
শীতের সকালে খেজুড়ের রস,
ভাবলেই মন প্রাণ হয়ে ওঠে চঞ্চল।
গ্রামের ওই বড় দীঘির পারে,
সারি সারি খেজুর গাছে হাড়ি ঝোলে।
শীতের শুরুতেই শিউলিদের আনা গোনা,
রোজ খেজুর গাছের রস জোগাড় করা।
প্রতি বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে গাছের মাথার সাদা অংশ পরিষ্কার করে গাছে হাড়ি ঝুলিয়ে দেওয়া।
সকাল হলে সেই হাড়ি নামিয়ে আনা।
খেজুরের রস ভর্তি মাটির হাড়ি,
টাটকা রসের স্বাদে মজাভারী।
খেজুর রসের ফিরনি, পুলি,
গাঢ় রসে মাখা চিড়ে, খই, মুড়ি,
আর জয়নগরের মোয়ারও নাই জুড়ি।
রসের গুড় আর নানান পিঠা পায়েস।
সাথে চিতই পিঠার মজারই বেশ।
শীতের সকালে মনে ফুর্তির যোগানে
খেজুর রসের জুড়ি নাই ভুবনে।
শীতের সকালে ঠান্ডায় কাঁপুনির সাথে,
খেজুর রসের ওপরে মুড়ি ছড়িয়ে,
আদরে চুমুক দিয়ে, আহা কি মজা।
ছোটবেলার সেই ছবি, স্মৃতি তে ভাসে,
মনেপড়লেই শিহরণ জাগে।
সেই শীত, সেই খেজুরের রস সবই যেন হারিয়ে গেছে।
আজ সেই শীতও নাই সেই খেজুরের রস ও নাই।
তাইতো শিউলির অভাব,
আমরা ভুলতে বসেছি খেজুর রস ও গুড়ের স্বাদ।
আজ প্রদুশনের কারণে লুপ্ত প্রায় খেজুরগাছ।
লুপ্ত প্রায় শীতের সকালের সেই সুন্দর মেজাজ।
লুপ্ত প্রায় আমাদের সেই
গ্রাম বাংলার শীতের সকালে
রোদ পোহান চাদয় মুরিদিয়ে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে উঠানে রোদে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে।
দুপুরে পুকুরে স্নানের পর একটু রোদ না পোহালে কেমন যেন কাঁপুনি লাগে।
তাই শীতের সকালের রোদের একটু মিষ্টি আমেজ গায়ে মেখে সুখে মেতে ওঠা।
শীতের সকালে চায়ের কাপ হাতেনিয়ে বারান্দার রোদে একটু উষ্ণতার খোঁজে বসে থাকা।
আজ মনেহয় সকলি যেন রূপকথা।
<----আদ্যনাথ--->
=========================
No comments:
Post a Comment