Saturday, January 29, 2022

881>|| পর্বান্ত্ররের ছায়া চারটি পর্বে,

  881>|| পর্বান্ত্ররের ছায়া চারটি পর্বে,

      'সুন্দরের সৃষ্টি',

      'রূপান্তর',

      'আমি ভালোবাসা',

      'এতুমি কেমন তুমি' ||


=====================

         || সুন্দরের সৃষ্টি ||

                  <--আদ্যনাথ-->


প্রকৃতি ও পুরুষ সৃষ্টির কল্যানে,

জন্ম মৃত্যুর চক্র সৃষ্টির প্রয়োজনে।

সৃষ্টি যেমন তেমন নয় প্রকৃতির ধর্ম,

সুন্দরের সৃষ্টি প্রকৃতির উৎকৃষ্ট কর্ম।

সৃষ্টির আনন্দে প্রকৃতির গর্ভধারণ,

প্রকৃতির গভীর সুখ সৃষ্টির কারণ।

সৃষ্টি রচনা নয় অলীক স্বপ্ন,

সৃষ্টির কারণ হেতু বেদনাই বিকল্প।

প্রকৃতি নিজেই ভালোবাসা,

ক্লান্তি, অসীম আনন্দের ভাষা।

প্রলয়ের শেষে শান্ত বনাঞ্চলে,

পাখিরা ভীত মনে উড়ে চলে।

শ্মশানে ঝলসানো মাংসের কুট গন্ধ,

চিতাভষ্মেই সকল অহঙ্কার জব্দ।

<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

=========================



         || রূপান্তর ||

                  <--আদ্যনাথ-->

 প্রকৃতিই ভালোবাসা,

তরুণ মনে স্বপ্নের আশা।

রূপান্তর মনের এক লুকানো বেদনা,

চাওয়া পাওয়ার মাঝে সূক্ষ্ম তুলনা।

চিন্তাকে, মনে আঁকড়ে ধরে,

প্রকৃতি নিজেকে লুকিয়ে রাখে।

গভীর সমুদ্র তলে সৃষ্টির বীজে,

দিগন্তে সূর্যাস্তের শেষ আলোতে।

হতাশা বুঝি ভালোবাসার স্বপ্ন,

মনে অনেক জিজ্ঞাসার কল্প।

রূপান্তরের রূপরেখার বিস্তারে,

প্রেমে নিবেদন অন্তর হতে অন্তরে।

সমাজে আজ লোভ লালসার দম্ভ,

প্রকৃতির সাজ যেন রূপান্তরের স্বপ্ন।

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

========================

|| আমি ভালোবাসা ||

                <---আদ্যনাথ--->

আমি ভালোবাসা,

আমি দুরাশা।

আমি প্রচণ্ড পিপাসা,

আমি হৃদয় বিদারী সর্বনাশা।

হৃদয় নিয়ে করি তামাশা,

মনে আছে অনেক আশা।

আছে বুকভরা ভালবাসা,

অলীক স্বপ্ন নয় ভালবাসা।

উলঙ্গ নৃত্যের তিশা,

প্রকৃতির মাঝে আমি ভালোবাসা।

নাচি হংস মিথুন নৃত্য,

হৃদয় বিদারী তান্ডব নৃত্য।

আছি প্রকৃতির মাঝে ব্যাপৃত,

হয়তো কোন ভাবনায় সমাদৃত।           

<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

==========================



   || এতুমি কেমন তুমি ||

                     <---আদ্যনাথ--->

এতুমি কেমন তুমি,

মনে পড়ে সেই কথা গুলি,

জানিনা এ কেমন তোমার খেলা,

মনেহয় চোরাবালির বালুকা বেলা।

কিসুন্দর কত মধুর ছিল সেই ব্যবহার,

অবারিত দ্বার, ছিলনা কোন অহংকার।

আমি আজও আছি সেই ভালবাসা,

আজও আছে মনে অনেক আশা।

চাই শুধু আপন করে প্রকৃতিকে জানতে,

তোমার হৃদয়ের আবেগে প্রসিক্ত হতে।

বহুপথ চলেছি প্রকৃতিকে জানতে,

একলা ঘুড়েছি অজানা নানা প্রান্তে।

প্রভাতের আলোতে পূর্ন যে হৃদয়, মরীচিকার ভ্রমেই বুঝি জীবন হারায়।

       <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

=========================


880>|| সৃষ্টি সত্য ||

       880>|| সৃষ্টি সত্য ||

              <---আদ্যনাথ-->

           

সৃষ্টি যখন নাচে প্রকৃতির অন্তরে,

প্রকৃতি ঘুমায় একান্ত নীরবে।

সৃষ্টি যখন ব্যস্ত প্রকৃতির কারণে

প্রকৃতির উল্লাস সৃষ্টিকে ধারণে।


সৃষ্টি হাসে প্রকৃতির তাণ্ডবে,

প্রকৃতি নিতান্ত শান্ত সাগর সলিলে।

সাগরের গভীরে রত্নের ভান্ডার,

প্রকৃতির লীলা ভয়ঙ্কর মরু কান্তার।


প্রকৃতির অসীম শক্তি সৃষ্টির কল্যানে,

সৃষ্টির অফুরন্ত তেজ প্রকৃতির কারণে।

প্রকৃতির লীলা খেলা সৃষ্টির প্রয়োজনে,

সৃষ্টির সদা ব্যস্ততা অফুরন্ত আয়োজনে।


প্রকৃতির অন্তরেই হয় শক্তি বিলীন,

সৃষ্টির রূপ,রস,গন্ধে পূর্ন অনিল।

প্রকৃতির কারণেই সৃষ্টি চির সত্য,

সৃষ্টির কামভূমিতে সংসার অনিত্য।

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

=========================




Tuesday, January 25, 2022

879>|| তৃষিত মন ||

 


 879>|| তৃষিত মন ||

            <---আদ্যনাথ--->

বড় সাধ যাগে পৌঁছতে

তোমার চরণ তলে,

মনকে বেঁধে রাখতে চাই

একান্ত নিজের মনবলে।


চারিদকে এতো প্রলোভন

কছুতেই স্থির থাকেনা মন।

স্মৃতির জানালা খুলে চেয়ে থাকি

নিত্য নুতন আশায় বুক বাঁধি।


তাপিত এ জীবন হইবে শীতল,

যদি তোমার চরণ পাই।

আশায় ভ্রমি দেশ হতে দেশান্তর,

ভ্রান্তির চক্রবুহে নিজেকেই খুঁজি নিরন্তর।


তোমার করুণা লাগি অস্থির মন,

ক্ষনিকের এ জীবন হয় বুঝি বিকল।

তোমার স্বপ্নে বিভোর সর্বক্ষণ,

সকল আশাই যায় বুঝি বিফল।


বড় সাধ যাগে পৌঁছতে তোমার দুয়ারে,

আশাহত,তৃষিত, ব্যাকুল এই মন।

দিবা রাত্র সংগোপনে ডাকি তোমারে,

ধ্যানজ্ঞানচিন্তন তোমার শ্রী চরণ।

             <---আদ্যনাথ--->

==========================


878> || আজব দুনিয়া ||

 


  878> || আজব দুনিয়া ||

         <---আদ্যনাথ--->

বড়ই আজব দুনিয়া,

আবল তাবল সব ভাবনা।

গুলিয়ে ফেলে শেষে

ভাবতে হবে কেমনটা কিসে!

সবকিছু যদি যায় গুলিয়ে,

ভাবতে হবে জলে ডুব দিয়ে।

আসলে কথাগুলি তেমন নয়

সব কিআর ভাবনার মতন হয়।


বড়ই আজব দুনিয়া,

মিথ্যা নয় এমন ভাবনা।

যারা আছেন তাদের করি কি যতন?

বয়ঃ বৃদ্ধজনের সামান্য চাহিদা কেমন?

একটু ভালোবাসা একটু আদর,

আমরা করীকি তাদের চাহিদার সমাদর?

যারে চাইনি করতে আপন,

তার মৃত্যুতেও কাঁদি,

যেন কতো আপন।


বড়ই আজব দুনিয়া,

তাইতো যত ভাবনা।

মিথ্যা কথায় নাকি পাপ হয়,

সত্যি কথা বলতে ভয় হয়,

চুপ থাকলে কু কথা শুনতে হয়।

আজকাল একটু বেশিই ভাবায়,

একটু স্বাস নিতে খোলা হওয়ায়,

সেখানেও বাড়ন্ত করোনার ভয়।

             <---আদ্যনাথ--->

========================


877> || ওরা দেখে ||

         877> || ওরা দেখে ||

             <---আদ্যনাথ--->


ওরা ঠান্ডা কাঁচের ঘরে বসে দেখে,

জানি ওরা অনেক কিছুই দেখে।

স্যাটেলাইটে সবকিছু খুঁজে দেখে,

অণুবীক্ষণ যন্ত্রে চোখ রেখে দেখে,

বড় টিভির পর্দায় তাকিয়ে দেখে।

ওরা কাঁচের ঠান্ডা ঘরে বসে দেখে,

রাতভর আকাশে খুঁজে খুঁজে দেখে।

বনের জন্তুরা কে কোথায় আছে দেখে

সবকিছু ওরা খুঁজে দেখে, গুনে রাখে।


ওরা কাঁচের ঠান্ডা ঘরে বসে দেখে,

স্যাটেলাইটে সবকিছু খুঁজে দেখে।

দুর্বিনে চোখ রেখে দেখে,

পথের কুকুর গুলিকেও কেউ 

কতো আদর করে খাওয়ায়।

মাঘের শীতে রাস্তার ধারে বসা 

ছেড়া চটের বস্তা গায়ে জড়িয়ে,

একটু হাত বাড়িয়ে চাইছে, 

একটু খাবার চাইছে,

নোংরা কাপড়ে ঢাকা মুখ দেখা যায়না,

কেউ দেখে ও দেখে না,

কেউ দেখতে ও চায় না।

ওতো রোজ এভাবেই চায়,

শুধু হাতটাই বাড়িয়ে দেয়,

একটু খাবার চায়।

কেউ দিলে বড় তৃপ্তি করে খায়।

কথা বলতে পারেনা, 

তাই হাত বাড়িয়ে চেয়ে থাকে,

এই শীতে কুঁকড়ে থাকে।

ওরা কুকুর গুলিকে ডেকে ডেকে

বিস্কুট পাউরুটি কিনে খাওয়ায়,

রোজ দেখি অফিস যাবার পথে।


ওই মূক/বোবা কে দেখেও দেখেনা কেউ,

ওরাজে মানুষ সেটাই ভাবে না কেউ।

স্যাটেলাইটে সবকিছু দেখে খুঁজে,

দেখেও অনেক দেখেনা বুঝি বুঝে।

সামনের বিশাল ফ্ল্যাটের কোন মানুষ,

হয়তো কখনো কেউ কিছু দিয়ে যায়।

রাত্রের উদ্বৃত্ত কিছু বাসি খাবার,

প্লাস্টিকের প্যাকেটে ছুড়ে দিয়ে যায়,

ও কিন্তু তৃপ্তি করেই খায়।

ওর মুখের হাসিটুকু 

দেখলেই বোঝা যায়।


ওরা কাঁচের ঠান্ডা ঘরে বসে দেখে

স্যাটেলাইটে সবকিছু খুঁজে দেখে,

ওটা নাকি পরিসংখ্যার অফিস

সবকিছুই সংখ্যার বিচারে দেখে।

ওই উপর থেকে ওরা দেখে,

সব কিছুই ছোট ছোট দেখে।

স্যাটেলাইটে সবকিছু খোঁজে,

জঙ্গলের বাঘ গোনে, জল খোঁজে।

সকল জন্তু দের হিসাব লিখে রাখে,

পথে কতো মানুষ হেঁটে যায় দেখে,

গাছ গুলি কারা কেটে নিয়েযায়, দেখে,

দিনদিন জঙ্গল ছোট হয়ে যাচ্ছে, দেখে।

পাড়ার ছেলেরা কুকুর গুলোকে চেনে,

কোন পাড়ার কোন কুকুর তাও জানে।

ওই পথের মানুষ গুলির খোঁজ কে রাখে!


ওরা সামান্য একটু খাবার পেলে 

মনের আনন্দে তৃপ্তির হাসি হাসে।

স্যাটেলাইটে নাকি সবকিছু খুঁজে দেখে,

ঐযে পথের সিগনালে গাড়ি থামলেই 

ওরা দলবেঁধে গাড়ি কে ঘিরে ধরে।

কাঁচ বন্ধ গাড়ির জানালায় টোকা দেয়,

পাঁচ দশ টাকা পাবার লোভে টোকা দেয়।

টোকা দিয়ে হাজিরার জানান দেয়,

এক দুই টাকা দিলে মুখ ভেঙচে দেয়।

ওরা রোজ সিগনালেই ভিক্ষা করে,

শুনেছি ওদেরও মালিক আছে।

সকলেই ওদের রোজ রোজ দেখে,

পুলিশ, সাধারণ পথ চলা মানুষ,দেখে।

স্কুল কলেজ বন্ধ, পথে পথে সতর্ক বার্তা,

ওরা সিগনালে ভিড় করতে ভোলে না।

ওই মুখ বধির,ছেড়া চটের বস্থা গায়ে,

বসে রাস্তার ধারে চুপ করে অসহায়।

ওরা কাঁচের ঠান্ডা ঘরে বসে দেখে

স্যাটেলাইটে সবকিছু খুঁজে দেখে।

  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================

876> || নামতত্ত্ব ||

     876> || নামতত্ত্ব ||

              <--আদ্যনাথ-->

আদরের মনরূপ কলসীকে 

(গোপনে )

পূর্ণ রাখলে নাম,প্রেম,ভক্তিতে।

নিশ্চই সেথা পাবেনা ঠাঁই,

ঈর্ষা,ক্রোধ,হিংসা,দ্বেষ,কোনমতেই।


সদা নামেরস্রোত  ঈড়া,পিঙ্গলা,সুষুম্নাতে,

সকল আসক্তির অন্ত নাম-প্রেম-ভক্তিতে।

ভক্তিতে বাড়ে শান্তির নেশা,

শান্তিই চৈতন্যের একমাত্র দিশা।


শুদ্ধ মনে ঈশ্বর প্রেমে,

অনাবিল আনন্দ ও শান্তি মেলে।

শান্তি ভিন্ন অন্য কিছুনাই

হরে মুরারে শ্রীকৃষ্ণের  চরণ তলে।

       ||   "রামকৃষ্ণ শরণম" ||

     <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

=======================

875>|| বন্ধু তো সকলের প্রিয় || + || বন্ধুত্বের প্রীতি ||

 


875>||  বন্ধু তো সকলের প্রিয় || +    

         || বন্ধুত্বের প্রীতি  ||

========================

  ||  বন্ধু তো সকলের প্রিয় || ++

               <---আদ্যনাথ--->

বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে খানিক পাগলামি।

বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে মনের কথা বলা বলি।


বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে চাওয়া পাওয়ার উর্দ্ধে।

বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে স্বার্থপরতার উর্দ্ধে।


বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে সকল প্রেমের বাড়া।

বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে সকল শ্রেষ্ঠত্বের ঠিকানা।


বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে না ভোলা কিছু কথা।

বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে চিরদিন ভালো থাকা।


বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে একে অন্যের হাতধরে পথ চলা।

বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে একে অন্যের দুঃখে সাথে চলা।


বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে সকল প্রাপ্তির শ্রেষ্ঠ পাওয়া।

বন্ধু তো সকলের প্রিয়,

বন্ধু মানে সকল শান্তির শ্রেষ্ঠ ঠিকানা।

  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================



      || বন্ধুত্বের প্রীতি  ||

                 <---আদ্যনাথ--->        

বন্ধুত্ব তো বন্ধু কেবলি,

বন্ধুত্বের থাকেনা কোন পদবী।

বন্ধুর থাকেনা ধনী দরিদ্রের বাদ বিচার,

বন্ধুর থাকেনা কোন বয়সের অহঙ্কার।


বন্ধুত্বের খোলা জানালায় গতি অবাধ,

বন্ধুর কথোপকথনে থাকেনা কোন বাঁধ।

বন্ধুত্ব বলে অনেক না বলা কথা

বন্ধু ছাড়া অন্য কাউকে বলা যায় না যে কথা।


বন্ধুত্ব বাঁধ নামানা সম্পর্কের শৃংখল,

বন্ধুত্ব সকল নিয়ম, অনিয়মের শৃঙ্খল।

বন্ধুত্বের নির্ভরতা অনেক শেখায়, 

বন্ধুত্ব হয়তো সকল দুষ্টুমির মাত্রা ছাড়ায়।


বন্ধুত্ব মানে মনের বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস, 

বন্ধু মনের আবেগ আনন্দ ছেলেমানুষী, 

বন্ধুত্বের নামই হৈ হুল্লোড়ের,ইচ্ছা যা খুশি,

বন্ধুত্ব না চায় অর্থ না চায় শারীরিক শক্তি।


বন্ধুত্বের আধান বিশেষ গুণের পরিপূর্ণতা,

বন্ধুত্বের প্রীতি আবেগের স্বতঃস্ফুর্ততা।

বন্ধুত্ব চিরকালের,দুঃসময়ে পাশে থাকা,

বন্ধুই অন্ধকার পথে একমাত্র সঙ্গী সাথে থাকা।


বন্ধুত্বে একে অন্যের শুভাকাঙ্ক্ষি হওয়া,

বন্ধুত্বে একে অন্যের ভালো শ্রোতা হওয়া।

বন্ধুত্বে একে অন্যের ইচ্ছেকে সম্মান দেওয়া,

বন্ধুত্বে একে অন্যের ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখা।


বন্ধুত্ব পৃথক শরীরে এক মন হওয়া।

বন্ধুত্ব হয়তো কঠিন টিকিয়ে রাখা। 

বন্ধুত্বের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি, রাগ, অনুরাগ, ব্যস্ততা, এড়িয়ে চলা,


বন্ধুত্ব প্রকৃতির খেলা ভাগ্যের ব্যাপার,

বন্ধুত্বের চেয়ে মূল্যবান কিছুই নেই আর।

বন্ধুত্ব এক কঠিন দায়িত্বের বোঝা,

বন্ধুত্বের হৃদয় কলঙ্ক হীন সরল সোজা।


বন্ধুত্বের খোলা হওয়া নির্মল সত্য,

বন্ধুত্বের হৃদয় আয়নার মতন সত্য।

বন্ধুত্বের মাঝে সকল কথা হৃদয় দিয়ে বুঝতে হয়,

বন্ধুত্বের মাঝে সকল ভাবনা আদরে গ্রহণ করতে হয়।


বন্ধুর মতন আদরের কিছুই নাই আর,

বন্ধুর মনে গোপন কিছুই থাকেনা আর।

বন্ধু ছাড়া জীবনকে যায়না বোঝা,

বন্ধুর বিরহ বেদনা যায়না মোছা।

    <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===========================

Sunday, January 16, 2022

874>|| অক্ষর জ্ঞান ||

  874>|| অক্ষর জ্ঞান ||

            <---আদ্যনাথ--->

এক,দুই,তিন,চার,

মায়াজাল,জগৎ সংসার,

জড়িয়ে যায় বার বার।

ঈশ্বর সত্য চির কাল।

শব্দই শ্রেষ্ঠ,

শব্দই ব্রহ্ম,

শব্দেই বদ্ধ সংসার।

অভেদ্য মায়া জাল।

অক্ষরে প্রেম সবাকার

এক অক্ষরের শ্রেষ্ঠ শব্দ 'মা',

দুইঅক্ষরের শ্রেষ্ঠ শব্দ 'বাবা',

তিনঅক্ষরের শ্রেষ্ঠ শব্দ 'বিবেক',

চারঅক্ষরের শ্রেষ্ঠ শব্দ 'ভালবাসা',

এক,দুই,তিন,চার,

অক্ষর ছাড়া অন্ধকার জগৎ সংসার।

             <---আদ্যনাথ--->

=========================


Saturday, January 15, 2022

873>|| গঙ্গাসাগর তীর্থ ||

   873>|| গঙ্গাসাগর তীর্থ ||

               <----আদ্যনাথ--->


সকল তীর্থ বার বার,

গঙ্গাসাগর একবার।

মকরসংক্রান্তির সাগরে স্নান,

তারপরে হাত খুলে করো দান।

গঙ্গা সাগরের মেলা

পুন্য স্নানের মেলা।

যেস্থানে গঙ্গা মিশেছে বঙ্গোপসাগরে,

মেলা বসে কপিল মুনির আশ্রমটি ঘিরে।


গঙ্গাসাগরের বেলাভূমি,

মানুষের মিলন তীর্থ ভূমি।

এখানে আশেপাশে আছে 51 দ্বীপ,

580 বর্গ কিমি জুড়ে সাগরদ্বীপ। 

ভগীরথ এনেছিল গঙ্গাকে মর্ত্যে,

সগর রাজার পুত্রদের পুনর্জীবিত করতে।

অনন্তসাগর মাঝে কপিল মুনির মন্দিরটি,

ভক্তের সমাগমেপূর্ন তিথি মকরসংক্রান্তি।


এহেন মহা তীর্থে জীবনে একবার,

বিশ্বাস জীবনমুক্তির উপায় নাই আর।

পুণ্যতোয়া গঙ্গা হিমালয় থেকে সাগরে,

বয়ে চলেছে ভারতভূমিতে মাতৃ রূপে।

ভারতের সকল তীর্থের আঙ্গন ধুয়ে,

মাতৃ রূপে গঙ্গা মিশেছে সাগরে গিয়ে।

তাইতো মহাতীর্থ এই সাগর সঙ্গম,

যেথায় ধ্যানমগ্ন মানবশ্রেষ্ঠ মুনির আশ্রম।


পৌষের প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে,

লক্ষ লক্ষ মানুষ মিলেছে সাগর সঙ্গমে।

মকরস্নানে ধন্য করতে মানব জীবন,

ধন্য প্রকৃতির মকরসংক্রান্তি পাবন।

এমন পুণ্য ক্ষণে মনে পরে,

ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের সাগর দর্শনের উক্তিটি,

("কপালকুণ্ডলা" উপন্যাসে নবকুমারের

সেই উক্তি,)

'' দূরাদয়শ্চক্রনিভস্য তন্বী তমালতালীবনরাজিনীলা।

আভাতি বেলা লবণাম্বুরাশের্দ্ধারানিবদ্ধের কলঙ্করেখা॥”

            <---আদ্যনাথ-->     

=========================


    || গঙ্গাসাগরের অমর কথা ||

                     <---আদ্যনাথ--->

       সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্ ||

শিব স্বয়ং পরমেশ্বর তিনিই পরম ব্রহ্ম। তিনিই সত্য,  সুন্দর এবং সদা মঙ্গলময়।

একদা শিব গোলোকে শিঙ্গা ও ডম্বরু সহযোগে তাঁর পঞ্চমুখে বিভোর হয়ে রামনাম গান করছিলেন। লক্ষ্মীর সঙ্গে বসে সেই গান শুনতে শুনতে বিষ্ণু দ্রবীভূত হয়ে যান এবং তার ফলে পতিত-পাবনী গঙ্গার জন্ম হয়। ব্রহ্মা পরম আদরে গঙ্গাকে নিজ কমণ্ডুলুতে রাখেন।জীব ও জগতের  উদ্ধারের জন্য ত্রিলোক পাবনী গঙ্গাদেবীর এই জগতে আগমন। ভগীরথ সগর সন্তানগণের উদ্ধারার্থে কঠোর তপস্যা করে গঙ্গাকে ভূতলে নিয়ে আসেন। সূর্যের পুত্র মনু। মনুর ছেলের মধ্যে একজন ছিল ইক্ষাকু। মনুর ছিল এক মেয়ে ইলা। এই ইলার সাথে বিয়ে হয় চন্দ্রের ছেলের। আর এইভাবে বিখ্যাত সূর্য বংশ আর চন্দ্র বংশের প্রতিষ্ঠা হয়। দশরথের ছেলে রাম ছিল এই সূর্য বংশের। কিন্তু তার আগে আমরা পাই এই সূর্য বংশে এক সগর রাজাকে।

সগর রাজার দুই পত্নী – প্রভা আর ভানুমতী। দুজনেই সন্তান কামনা করে পূজা করে বর লাভ করেন।একজনের ষাট হাজার পুত্র হবে, যারা করিতকর্মা হবে, আর আর একজনের একটি মাত্র পুত্র হবে কিন্তু তার প্রজন্মের নাম বিশ্ববিদিত হবে। প্রভা একটি অলাবু প্রসব করেছিলেন যা ঘি'য়ে ডুবিয়ে রাখার পর তার থেকে ষাট হাজার পুত্র হয়েছিল। ভানুমতির একটাই ছেলে হল, যার নাম অসমঞ্জ।  এই অসমঞ্জ ছিল অত্যন্ত অত্যাচারী। তার একটা সখ ছিল নবজাত শিশুদের ধরে নদীতে ছুঁড়েফেলা যাতে তারা ডুবে মারা যায়।  এই অসমঞ্জের পরে আমরা যদি সপ্তদশ পুরুষে যাই, তবে আমরা পাব রাজা রাম কে।

সগর রাজা একবার এমন এক অশ্বমেধ যজ্ঞ শুরু করলেন যা সম্পন্ন করতে পারলে তিনি দেবরাজ ইন্দ্রের সমান শক্তিশালী হয়ে যাবেন। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে ইন্দ্র যজ্ঞের পবিত্র ঘোড়া অপহরণ করেন এবং ঘোড়াটিকে কপিল মুনির আশ্রমের কাছে বেঁধে রেখে চলে যান। মুনি তখন ধ্যানমগ্ন থাকায় কিছুই জানতে পারেন না। তখন কপিল মুনির আশ্রমের পাশে গঙ্গা বলে কোন নদী ছিল না। কপিলমুনি ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর চব্বিশ গৌণ অবতারের একজন। যিনি সাংখ্য দর্শন এবং যোগের মাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যেই আবির্ভূত হন। ইনিই একমাত্র মুনি যে জন্ম হওয়া মাত্রই যোগশক্তি লাভ করেন।

সগর তাঁর ষাট হাজার পুত্রকে অশ্বের অন্বষণে প্রেরণ করেন। তাঁরা অনেক খুঁজে খুঁজে অবশেষে ধ্যানমগ্ন মহর্ষি কপিলের আশ্রমে ঘোড়াটিকে দেখতে পান। মহর্ষিকে চোর সন্দেহ করে তারা সবাই চিৎকার করে তাঁকে গালমন্দ করতে থাকে। এর ফলে কপিল মুনির বহু বছরের ধ্যান ভঙ্গ হয়ে যায় এবং মহর্ষি তাদের দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাদের ভস্ম করে দেন। সগর রাজার ষাট হাজার সন্তানের আত্মা পারলৌকিক ক্রিয়ার অভাবে প্রেতরূপে ওইখানেই আবদ্ধ হয়ে থাকে।

সগরের নাতি, অসমঞ্জের ছেলে অংশুমান তার জ্যাঠাদের খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে কপিলের আশ্রমে হাজির হলেন। কপিল মুনি তাঁকে বললেন, হ্যাঁরে বাপ, তাঁদের তো আমি ছাই করে ফেলেছি। অংশুমান কপিল মুনির কাছে গিয়ে অনেক কাকুতি মিনতি করতে থাকেন তাদের প্রেতরূপ থেকে মুক্তি দেবার জন্য। তখন মুনি তাঁর উপর একটু সদয় হন এবং তাঁকে বলেন তোমার বংশের কেউ যদি স্বর্গ থেকে মা গঙ্গাকে নিয়ে এসে এদের অস্থির উপর দিয়ে বইয়ে নিয়ে যেতে পারে, তবে তারা প্রেতরূপ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বর্গলোকে গমন করবে। অংশুমান গেল ফেরত, গঙ্গা কোথায় ইত্যাদির খোঁজ খবর নিয়ে তাঁকে নিয়ে আসার বন্দোবস্ত করতে। কিন্তু গঙ্গাকে নিয়ে আসা কি সোজা কথা। তাঁকে পৃথিবীতে নামাতে হবে, আর তার পরে সেই কপিল মুনির আশ্রম পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।

ভগীরথ যখন জন্মাল তখন কোশল রাজ্যের আর বিশেষ কিছু আভিজাত্য নেই। অল্প বয়সেই নিঃসন্তান অবস্থায় অসমঞ্জের নাতি রাজা দিলীপ ও মারা যান।  তখন রাজার দুই স্ত্রী বংশের ধারা রক্ষা করার জন্য অষ্ট্রাবক্র মুনির কাছে গেলে মুনির পরামর্শে দিলীপের দুই স্ত্রী শারীরিক মিলন করে। তাদের গর্ভে একটি মাংসপিণ্ড উৎপন্ন হয়। অষ্ট্রাবক্র মুনি সেই মাংসপিণ্ড দ্বারা একটি পুত্র সন্তান তৈরি করে মন্ত্রবলে প্রাণ সঞ্চার করে নামকরণ করেন ভগীরথ। 

(সগরপুত্র অসমঞ্জের নাতি দিলীপের দুই বিধবা রাণীর ভগে ভগে কেলির ফলে ভগীরথের জন্ম হয় এবং ওইভাবে জন্ম হওয়ার জন্যই তার নাম ভগীরথ। ভগে ভগে জন্ম হেতু ভগীরথ নাম।)

ভগীরথ গঙ্গাকে মর্ত্যে আনতে সংকল্প করেন এবং ইন্দ্র, মহেশ্বর, নারায়ণ ও ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। অষ্ট্রাবক্র মুনির আদেশে হিমালয়ে গিয়ে বিষ্ণুকে তপস্যা করে সন্তুষ্ট করেন গঙ্গাকে মর্তে অবতরণের জন্য। 

ভগবান ভগীরথকে বলেন গঙ্গার প্রবল বেগ স্বর্গ থেকে মর্তে আছড়ে পড়লে মর্তলোক ধ্বংস হয়ে যাবে। তার এই প্রবল গতিরোধ করার জন্য তুমি শিবের আরাধনা কর।ভগীরথ শিবকে তপস্যায় তুষ্ট করলে তিনি রাজি হলেন গঙ্গার প্রবল বেগকে তাঁর জটাজালে আবদ্ধ করতে। এরপর ক্রুদ্ধ গঙ্গা প্রবল বেগে শিবের মস্তকে পতিত হন। কিন্তু শিব শান্তভাবে নিজ জটাজালে গঙ্গাকে আবদ্ধ করেন এবং ছোটো ছোটো ধারায় তাঁকে মুক্তি দেন। এইজন্য শিবের আরেক নাম গঙ্গাধর।

ভগীরথ আগে আগে শাঁখ বাজিয়ে এগিয়ে চলেন আর পিছনে পিছনে গঙ্গানদী তাকে অনুসরণ করে চলে। ভগীরথকে অনুসরণ করার সময় গঙ্গা ঋষি জহ্নুর আশ্রম প্লাবিত করেন। উগ্রতপা জহ্নু ক্রুদ্ধ হয়ে গঙ্গার সমস্ত জল পান করে ফেলেন। তখন ভগীরথ গঙ্গার মুক্তির জন্য ঋষির কাছে প্রার্থনা করতে থাকলে নিজের জঙ্ঘা বা জানু চিরে তিনি গঙ্গাকে মুক্তি দেন। তাই গঙ্গার অপর নাম হয় জাহ্নবী। ভগীরথ তাঁকে নিয়ে আসায় তিনি ভাগীরথী নামে পরিচিত হন। 

এরপর ভগীরথ রাস্তা দেখিয়ে গঙ্গাকে নিয়ে যাওয়া শুরু করলেন। সেই গোমুখ থেকে হরিদ্বার, সেখান থেকে কাশী। তার পরে নবদ্বীপ হয়ে কপিল মুনির আশ্রম। এইভাবে গঙ্গা এই মকর সংক্রান্তির দিনেই কপিল মুনির আশ্রমের পাশ দিয়ে সগর রাজার ষাট হাজার পুত্রের অস্থির উপর দিয়ে বয়ে যান। গঙ্গার পবিত্র স্পর্শে তাদের সব জ্বালা জুড়িয়ে যায় এবং তারা প্রেতরূপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গলোকে গমন করে।

সগর রাজার সেই অশ্বমেধ যজ্ঞ আর হয়নি, কিন্তু সেই থেকে প্রত্যেক বছর কপিল মুনির আশ্রমে গঙ্গাসাগর মেলা হচ্ছে। যেদিন সগর রাজার ষাট হাজার সন্তানের পরম মুক্তি ঘটেছিল সেই পবিত্র মকর সংক্রান্তির দিনে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে আসেন মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।প্রকৃতপক্ষে আপামোর ভারতবাসীর বিশ্বাস, গঙ্গাসাগর তীর্থে যে একটিবার স্নান করবে সে জীবনের সমস্ত পাপ মুক্ত হয়ে পরম মোক্ষ লাভ করবে। এমনটি আর কোন স্থানে নেই। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, -- 

সর্বত্র পাবনী গঙ্গা ত্রিশু স্থানেশু দুর্লভ ||

গঙ্গাদারে,প্রয়াগে চ গঙ্গাসাগর সঙ্গমে ||

গঙ্গায়াং চ জলে মোক্ষ, বারাণস্যাং জলে স্থলে |

জলে স্থলে অন্তরীক্ষে গঙ্গায়াং গঙ্গাসাগর সঙ্গমে ||

গঙ্গা সর্বত্রই পবিত্র। কিন্তু গঙ্গাদার (হরিদ্বার), প্রয়াগ ও গঙ্গাসাগর এই তীর্থে সে শ্রেষ্ঠ। পুরানকাররা বলেন, প্রয়াগে মৃত্যু হলে মোক্ষ লাভ হয়, বারাণসীর জলে, স্থলে মৃত্যু হলে মোক্ষ লাভ হয়। কিন্তু গঙ্গাসাগরে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষেও মৃত্যু হলে মহামুক্তি লাভ হয়।

গঙ্গাসাগর মেলার প্রধান আকর্ষন শ্রীকপিল মুনির মন্দির। শ্রীমন্দিরে কপিল মুনি পদ্মাসনে যোগারূঢ় অবস্থায় উপবিষ্ট। তাঁর বাম হাতে কমণ্ডুল, ডান হাতে জপমালা, শিরোদেশে পঞ্চনাগ ছত্রবৎ অবস্থিত। শ্রীকপিল মুনির দক্ষিণে শ্রীগঙ্গাদেবীর বিগ্রহ। ইনি চতুর্ভুজা এবং মকর বাহন। শ্রীহস্ত সমূহে শঙ্খ, পদ্ম, অমৃতকুম্ভ ও বরাভয়। সম্মুখে মহাতাপস ভগীরথ। কপিল মুনির বিগ্রহের বামদিকে সগর রাজ ভক্তি বিনম্র চিত্তে করজোড়ে অবস্থান রত।

গঙ্গাসাগর সঙ্গমে মকর স্নানের বিশেষ মন্ত্র --

“ত্বং দেব সরিতাং নাথ ত্বং দেবী সরিতাম্বরে।

উভয়োঃ সঙ্গমে স্নাত্বা মুঞ্চামি দুরিতানি বৈ।।”

এই মন্ত্র উচ্চারণ করে স্নান করা অবশ্য কর্তব্য। স্নানের শেষে দান কার্য জরুরী।

মা গঙ্গা, সবার মা হলেন, পাপী, তাপী, আপামর জনসাধারণের শান্তির আশ্রয়। কেউ যদি ভক্তি শ্রদ্ধা সহকারে “গঙ্গা গঙ্গা” বলে ডাকেন সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্ত হয়ে তিনিও ভগবান বিষ্ণুর লোকে গমন করেন।

             (অনুবাদও সংকলন)

     <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================

Wednesday, January 12, 2022

872>||12ই জানুয়ারির দুটি চিরস্মরণীয়||

  872>|| 12ই জানুয়ারির দুটি চিরস্মরণীয় ||


||-আজ12 ই জানুয়ারি -||

                      <-----আদ্যনাথ--->


12 ই জানুয়ারি,

তারে কি ভুলিতে পারি।

সপ্ত ঋষির এক ঋষি,তিনি,

এসেছিলেন ধরা ধামের পরে।

সমগ্র বিশ্ব মনে রেখেছেন যারে।

ভারত বাসি কীকরে ভুলিবে তাঁরে।


ব্রহ্মতেজে সদাই দীপ্ত,

প্রেমে ভাসমান নয়ন যুগল।

পুরুষ সিংহ তিনি বীরেশ্বর,

অমিত তেজা‍ঃ বিবেকানন্দ।

জ্ঞানে গরীয়ান,

তিনি যে মহা

স্বামী বিবেকানন্দ ভারত শ্রেষ্ঠ,

তাঁকে জানাই প্রণাম নিবিষ্ট।


সেদিন 12 ই জানুয়ারি 1863 সাল,

মহাকাশ হতে এক জ্যোতিষ্ক,

জন্ম নিলেন ভুবনেশ্বরী দেবীর কোলে।

কলিকাতার বিশ্বনাথ দত্ত মহাশয়ের গৃহে,

3নম্বর গৌর মোহন মুখোপাধ্যায় স্ট্রিটে।

আলোয় উদ্ভাসিত ধরিত্রী,

যেন আনন্দে মাতিল প্রকৃতি ।

পুরুষ সিংহ ব্রহ্মতেজে দীপ্ত,

আভির্ভূত হলেন এক জ্যোতিষ্ক,


কালে সেই ক্ষণজন্মা অমিত বীর্য,

রানিরাসমণির দক্ষিণেশ্বরে,

গুরু শিষ্যের হলো মিলন।

শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের শিষ্য হয়ে,

বীরেশ্বর বিবেকানন্দ নাম নিয়ে,

করিলেন বিশ্ব জয়।

হিন্দু ধর্মকে দিলেন শ্রেষ্ঠ আসন।

হিন্দু পুনর্জাগরণের প্রধান সেনাপতি

তিনি দার্শনিক,লেখক, সংগীতজ্ঞ।

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের

প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

এহেন পুরোধা ব্যাক্তিত্ব কে

ভুলতে কি পারি।


আমরা ভারত বাসি

কীকরে ভুলি

সেদিনের সেই গৌরব।

যেদিন বিশ্ব ধর্ম মহাসভায়

হিন্দু সনাতন ধর্মকে,

বসাইলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আসনে।


তাঁর মুখবানি

" ওঠো জাগো,

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থেমোনা"


তিনি বলে ছিলেন

" সম্মুখে তোমার ছাড়ি

কোথা খুঁজিছো ইশ্বর"।


আজ এই শুভ দিনে,মনে প্রাণে,

তাঁরে করি প্রণাম।

হে বিবেকানন্দ তুমি অনন্ত,

শুদ্ধ,পবিত্র,চিন্তায় ও গুনে

তুমি শ্রেষ্ঠ।

তুমি লও মোদের প্রণাম।

আজ 12ই জানুয়ারি  বীর সন্ন্যাসীকে

তাঁর জন্মদিনে জানাই আমার সাষ্টাঙ্গে প্রণাম।

       <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

==========================



           12 ই জানুয়ারি 

  এক বেদনাদায়ক দুঃখের দিন।


১২ই জানুয়ারী অর্থাৎ আজকের দিনে

 মাস্টারদা সূর্য সেনের মৃত্যু দিন৷ আজ তাকে ফাঁসি দিয়েছিলো তৎকালীন বৃটিশ সরকার ৷ বলা ভুল হলো বোধহয়, তাকে নয় তার মৃতদেহ কে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো আজ ৷ মৃত্যু তার আগেই হয়েছিলো জেলের ভিতর অকথ্য অত্যাচারে ৷ শুধু লোক দেখানো ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো তার প্রাণহীন দেহকে ৷ অনেকে অবশ্য বলেন তাকে অচেতন অবস্থায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো ৷ 


মৃত্যুর আগে কি করা হয়েছিলো তার সাথে ? পিটিয়ে শরীরের সমস্ত হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিলো ৷ ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে ভেঙে দেওয়া হয়েছিলো তার সব কটা দাঁত ৷ উপড়ে ফেলা হয়েছিলো হাত ও পা এর সমস্ত নখ ৷ তৎকালীন বৃটিশ সরকার এমনই বর্বর আচরণ করেছিলো তাঁর সাথে ৷ এমন কি মৃত্যুর পর তার দেহ তুলে দেওয়া হয়নি পরিজনদের হাতে৷ ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিলো সমুদ্রের বুকে, ঠিক যেভাবে আমরা ছুঁড়ে ফেলি কোনো আবর্জনা কে ডাস্টবিনে, তেমনভাবে ৷ 


চট্টগ্রাম সশস্ত্র বিপ্লবের এই নেতা যিনি আজীবন স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন ভারতের, যিনি প্রাণের মায়া না করে যুদ্ধ চালিয়েছিলেন অপরাজেয় বৃটিশদের সাথে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ৷ যিনি সাধারণ একজন স্কুল শিক্ষক হয়ে দেশের জন্য লড়াই করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন অগণিত ছাত্রদের।

তিনি কোনোদিনই ধরা পড়তেন না হয়তো ! কিন্তু বিশ্বাসঘাতকের তো ছিলোনা দেশে।

 অর্থ, পুরস্কার, উপাধি এসবের লোভে তার বিশ্বাসভাজন অনুচর নেত্র সেন বিশ্বাসঘাতকতা করে তাকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন ৷


সেই বিশ্বাসঘাতক নেত্র সেনের অবশ্য বেশীদিন আর ধরাধামে থাকা সম্ভব হয়নি এবং অর্থ, পুরস্কার কিছুই পাওয়া সম্ভব হয়নি কারণ মাস্টারদার অনুগামী এক বিপ্লবী যার নাম আজও আমরা জানিনা তাঁর দ্বারা নেত্র সেন খুন হয় কিছুদিন পরেই ৷ 

সেই বিপ্লবীর নাম জানতেন একমাত্র নেত্র সেন এর স্ত্রী, যিনি কোনোদিন সেই নাম প্রকাশ করেননি, কেন জানেন! কারণ তিনি মাস্টারদার আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন ৷ বিশ্বাস করতেন দেশ প্রেমের কাছে বাকি সব তুচ্ছ ৷


আসুন আমরা আজ নাহয় খানিকক্ষণ মৌন থাকি বিষাদে , মাস্টারদার কথা ভেবে ৷

             ( সংগ্রহীত )

     <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===========================


871>|| "মৃত্যু বা কালীকে উপাসনা করিতে সাহস পায় কয়জন? ||

 871>||  "মৃত্যু বা কালীর  উপাসনা করতে 

               সাহস পায় কয়জন? ||

             এস, আমরা মৃত্যুর উপাসনা করি।

আমরা যেন ভীষণকে 

ভীষণ জানিয়াই, 

আলিঙ্গন করি—

তাহাকে যেন কোমলতর হইতে ,

অনুরোধ না করি, 

আমরা যেন দুঃখের জন্যই দুঃখকে বরণ করি।''

                      ----------স্বামী বিবেকানন্দ



    ||-বীরেশ্বর বিবেকানন্দ-|।

                   <---আদ্যনাথ --->

হে বীর বীরেশ্বর বিবেকানন্দ,

জগৎকে দেখাইলে আলো আনন্দ।

গুরুর আজ্ঞা করতে পালন,

প্রতিজ্ঞা বদ্ধ ছিলে আজীবন।


হে বীর মনেপরে সেই 4ঠা জুলাই,

তুমি হাসতে হাসতে নিয়েছো বিদায়।

তোমার বাণী সকল আমাদের প্রেরণা,

এই জীবনে তোমায় ভুলতে পারবনা।


পৃথিবীর যেদেশেই পৌঁছেছি,

সর্বত্রই তোমার ছবি দেখেছি।

দেখেছি তাঁদের,

যাদের কাছে তুমি ঈশ্বর,

যাদের কাছে তুমিই জীবন।

যাদের তুমি করেছিলে আপন।

যাদের তুমি ভাল বেসেছিলে।

যাদের তুমি আলো দেখিয়ে ছিলে।


দেশ বিদেশের কত শত জনকে,

দেখিয়েছে জীবন মুক্তির আলো।

তোমার শ্বাশত বাণী

দিগ্-দিগন্তে জাগিয়েছে প্রাণের আলো।


হে বীর গুরুর আদেশের শক্তি বলে,

সনাতন ধর্ম আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আসনে।

তুমিই শিখায়েছ জীবই শিব সর্বত্র।

জীবের সেবাই শিব সেবার মন্ত্র।


তোমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারতবর্ষ,

আজ জগতের শ্রেষ্ঠ আসনে আসীন।

শান্তির বাণী বিলায়ে বিশ্ব জয় করিলে,

আর্তজনের সেবায় নিজেরে বিলাইলে।


তুমিইতো শিখাইলে সকল যুব ছাত্র জনে,

স্বাস্থ্য,শিক্ষা,ধ্যান,জীবনের শ্রেষ্ঠ জ্ঞান।

জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু,গুরু,পিতা,মাতা,

আর্ত দুঃখীরে জেন কভু নাকরি হেলা।


তোমার শিক্ষা ধ্যানের জ্ঞান,

জীবন গড়ার সর্বউৎকৃষ্ট জ্ঞান।

তোমার অপরূপ জ্যোতির্ময় মূর্তি,

সর্বদাই জাগায় অন্তরে অনাবিল ভক্তি।


হে বীর শ্রেষ্ঠ লহো মোর প্রনাম,

প্রভাতের উজ্জ্বল কিরণে নমি তোমারে।

নমি তোমার কর্মচিন্তা সমাজ কল্যানে,

প্ৰণমি তোমারে একান্ত মনে প্রানে।

-------<-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->


===========================