Tuesday, January 25, 2022

877> || ওরা দেখে ||

         877> || ওরা দেখে ||

             <---আদ্যনাথ--->


ওরা ঠান্ডা কাঁচের ঘরে বসে দেখে,

জানি ওরা অনেক কিছুই দেখে।

স্যাটেলাইটে সবকিছু খুঁজে দেখে,

অণুবীক্ষণ যন্ত্রে চোখ রেখে দেখে,

বড় টিভির পর্দায় তাকিয়ে দেখে।

ওরা কাঁচের ঠান্ডা ঘরে বসে দেখে,

রাতভর আকাশে খুঁজে খুঁজে দেখে।

বনের জন্তুরা কে কোথায় আছে দেখে

সবকিছু ওরা খুঁজে দেখে, গুনে রাখে।


ওরা কাঁচের ঠান্ডা ঘরে বসে দেখে,

স্যাটেলাইটে সবকিছু খুঁজে দেখে।

দুর্বিনে চোখ রেখে দেখে,

পথের কুকুর গুলিকেও কেউ 

কতো আদর করে খাওয়ায়।

মাঘের শীতে রাস্তার ধারে বসা 

ছেড়া চটের বস্তা গায়ে জড়িয়ে,

একটু হাত বাড়িয়ে চাইছে, 

একটু খাবার চাইছে,

নোংরা কাপড়ে ঢাকা মুখ দেখা যায়না,

কেউ দেখে ও দেখে না,

কেউ দেখতে ও চায় না।

ওতো রোজ এভাবেই চায়,

শুধু হাতটাই বাড়িয়ে দেয়,

একটু খাবার চায়।

কেউ দিলে বড় তৃপ্তি করে খায়।

কথা বলতে পারেনা, 

তাই হাত বাড়িয়ে চেয়ে থাকে,

এই শীতে কুঁকড়ে থাকে।

ওরা কুকুর গুলিকে ডেকে ডেকে

বিস্কুট পাউরুটি কিনে খাওয়ায়,

রোজ দেখি অফিস যাবার পথে।


ওই মূক/বোবা কে দেখেও দেখেনা কেউ,

ওরাজে মানুষ সেটাই ভাবে না কেউ।

স্যাটেলাইটে সবকিছু দেখে খুঁজে,

দেখেও অনেক দেখেনা বুঝি বুঝে।

সামনের বিশাল ফ্ল্যাটের কোন মানুষ,

হয়তো কখনো কেউ কিছু দিয়ে যায়।

রাত্রের উদ্বৃত্ত কিছু বাসি খাবার,

প্লাস্টিকের প্যাকেটে ছুড়ে দিয়ে যায়,

ও কিন্তু তৃপ্তি করেই খায়।

ওর মুখের হাসিটুকু 

দেখলেই বোঝা যায়।


ওরা কাঁচের ঠান্ডা ঘরে বসে দেখে

স্যাটেলাইটে সবকিছু খুঁজে দেখে,

ওটা নাকি পরিসংখ্যার অফিস

সবকিছুই সংখ্যার বিচারে দেখে।

ওই উপর থেকে ওরা দেখে,

সব কিছুই ছোট ছোট দেখে।

স্যাটেলাইটে সবকিছু খোঁজে,

জঙ্গলের বাঘ গোনে, জল খোঁজে।

সকল জন্তু দের হিসাব লিখে রাখে,

পথে কতো মানুষ হেঁটে যায় দেখে,

গাছ গুলি কারা কেটে নিয়েযায়, দেখে,

দিনদিন জঙ্গল ছোট হয়ে যাচ্ছে, দেখে।

পাড়ার ছেলেরা কুকুর গুলোকে চেনে,

কোন পাড়ার কোন কুকুর তাও জানে।

ওই পথের মানুষ গুলির খোঁজ কে রাখে!


ওরা সামান্য একটু খাবার পেলে 

মনের আনন্দে তৃপ্তির হাসি হাসে।

স্যাটেলাইটে নাকি সবকিছু খুঁজে দেখে,

ঐযে পথের সিগনালে গাড়ি থামলেই 

ওরা দলবেঁধে গাড়ি কে ঘিরে ধরে।

কাঁচ বন্ধ গাড়ির জানালায় টোকা দেয়,

পাঁচ দশ টাকা পাবার লোভে টোকা দেয়।

টোকা দিয়ে হাজিরার জানান দেয়,

এক দুই টাকা দিলে মুখ ভেঙচে দেয়।

ওরা রোজ সিগনালেই ভিক্ষা করে,

শুনেছি ওদেরও মালিক আছে।

সকলেই ওদের রোজ রোজ দেখে,

পুলিশ, সাধারণ পথ চলা মানুষ,দেখে।

স্কুল কলেজ বন্ধ, পথে পথে সতর্ক বার্তা,

ওরা সিগনালে ভিড় করতে ভোলে না।

ওই মুখ বধির,ছেড়া চটের বস্থা গায়ে,

বসে রাস্তার ধারে চুপ করে অসহায়।

ওরা কাঁচের ঠান্ডা ঘরে বসে দেখে

স্যাটেলাইটে সবকিছু খুঁজে দেখে।

  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================

No comments:

Post a Comment