Wednesday, January 12, 2022

872>||12ই জানুয়ারির দুটি চিরস্মরণীয়||

  872>|| 12ই জানুয়ারির দুটি চিরস্মরণীয় ||


||-আজ12 ই জানুয়ারি -||

                      <-----আদ্যনাথ--->


12 ই জানুয়ারি,

তারে কি ভুলিতে পারি।

সপ্ত ঋষির এক ঋষি,তিনি,

এসেছিলেন ধরা ধামের পরে।

সমগ্র বিশ্ব মনে রেখেছেন যারে।

ভারত বাসি কীকরে ভুলিবে তাঁরে।


ব্রহ্মতেজে সদাই দীপ্ত,

প্রেমে ভাসমান নয়ন যুগল।

পুরুষ সিংহ তিনি বীরেশ্বর,

অমিত তেজা‍ঃ বিবেকানন্দ।

জ্ঞানে গরীয়ান,

তিনি যে মহা

স্বামী বিবেকানন্দ ভারত শ্রেষ্ঠ,

তাঁকে জানাই প্রণাম নিবিষ্ট।


সেদিন 12 ই জানুয়ারি 1863 সাল,

মহাকাশ হতে এক জ্যোতিষ্ক,

জন্ম নিলেন ভুবনেশ্বরী দেবীর কোলে।

কলিকাতার বিশ্বনাথ দত্ত মহাশয়ের গৃহে,

3নম্বর গৌর মোহন মুখোপাধ্যায় স্ট্রিটে।

আলোয় উদ্ভাসিত ধরিত্রী,

যেন আনন্দে মাতিল প্রকৃতি ।

পুরুষ সিংহ ব্রহ্মতেজে দীপ্ত,

আভির্ভূত হলেন এক জ্যোতিষ্ক,


কালে সেই ক্ষণজন্মা অমিত বীর্য,

রানিরাসমণির দক্ষিণেশ্বরে,

গুরু শিষ্যের হলো মিলন।

শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের শিষ্য হয়ে,

বীরেশ্বর বিবেকানন্দ নাম নিয়ে,

করিলেন বিশ্ব জয়।

হিন্দু ধর্মকে দিলেন শ্রেষ্ঠ আসন।

হিন্দু পুনর্জাগরণের প্রধান সেনাপতি

তিনি দার্শনিক,লেখক, সংগীতজ্ঞ।

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের

প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

এহেন পুরোধা ব্যাক্তিত্ব কে

ভুলতে কি পারি।


আমরা ভারত বাসি

কীকরে ভুলি

সেদিনের সেই গৌরব।

যেদিন বিশ্ব ধর্ম মহাসভায়

হিন্দু সনাতন ধর্মকে,

বসাইলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আসনে।


তাঁর মুখবানি

" ওঠো জাগো,

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থেমোনা"


তিনি বলে ছিলেন

" সম্মুখে তোমার ছাড়ি

কোথা খুঁজিছো ইশ্বর"।


আজ এই শুভ দিনে,মনে প্রাণে,

তাঁরে করি প্রণাম।

হে বিবেকানন্দ তুমি অনন্ত,

শুদ্ধ,পবিত্র,চিন্তায় ও গুনে

তুমি শ্রেষ্ঠ।

তুমি লও মোদের প্রণাম।

আজ 12ই জানুয়ারি  বীর সন্ন্যাসীকে

তাঁর জন্মদিনে জানাই আমার সাষ্টাঙ্গে প্রণাম।

       <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

==========================



           12 ই জানুয়ারি 

  এক বেদনাদায়ক দুঃখের দিন।


১২ই জানুয়ারী অর্থাৎ আজকের দিনে

 মাস্টারদা সূর্য সেনের মৃত্যু দিন৷ আজ তাকে ফাঁসি দিয়েছিলো তৎকালীন বৃটিশ সরকার ৷ বলা ভুল হলো বোধহয়, তাকে নয় তার মৃতদেহ কে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো আজ ৷ মৃত্যু তার আগেই হয়েছিলো জেলের ভিতর অকথ্য অত্যাচারে ৷ শুধু লোক দেখানো ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো তার প্রাণহীন দেহকে ৷ অনেকে অবশ্য বলেন তাকে অচেতন অবস্থায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো ৷ 


মৃত্যুর আগে কি করা হয়েছিলো তার সাথে ? পিটিয়ে শরীরের সমস্ত হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিলো ৷ ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে ভেঙে দেওয়া হয়েছিলো তার সব কটা দাঁত ৷ উপড়ে ফেলা হয়েছিলো হাত ও পা এর সমস্ত নখ ৷ তৎকালীন বৃটিশ সরকার এমনই বর্বর আচরণ করেছিলো তাঁর সাথে ৷ এমন কি মৃত্যুর পর তার দেহ তুলে দেওয়া হয়নি পরিজনদের হাতে৷ ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিলো সমুদ্রের বুকে, ঠিক যেভাবে আমরা ছুঁড়ে ফেলি কোনো আবর্জনা কে ডাস্টবিনে, তেমনভাবে ৷ 


চট্টগ্রাম সশস্ত্র বিপ্লবের এই নেতা যিনি আজীবন স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন ভারতের, যিনি প্রাণের মায়া না করে যুদ্ধ চালিয়েছিলেন অপরাজেয় বৃটিশদের সাথে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ৷ যিনি সাধারণ একজন স্কুল শিক্ষক হয়ে দেশের জন্য লড়াই করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন অগণিত ছাত্রদের।

তিনি কোনোদিনই ধরা পড়তেন না হয়তো ! কিন্তু বিশ্বাসঘাতকের তো ছিলোনা দেশে।

 অর্থ, পুরস্কার, উপাধি এসবের লোভে তার বিশ্বাসভাজন অনুচর নেত্র সেন বিশ্বাসঘাতকতা করে তাকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন ৷


সেই বিশ্বাসঘাতক নেত্র সেনের অবশ্য বেশীদিন আর ধরাধামে থাকা সম্ভব হয়নি এবং অর্থ, পুরস্কার কিছুই পাওয়া সম্ভব হয়নি কারণ মাস্টারদার অনুগামী এক বিপ্লবী যার নাম আজও আমরা জানিনা তাঁর দ্বারা নেত্র সেন খুন হয় কিছুদিন পরেই ৷ 

সেই বিপ্লবীর নাম জানতেন একমাত্র নেত্র সেন এর স্ত্রী, যিনি কোনোদিন সেই নাম প্রকাশ করেননি, কেন জানেন! কারণ তিনি মাস্টারদার আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন ৷ বিশ্বাস করতেন দেশ প্রেমের কাছে বাকি সব তুচ্ছ ৷


আসুন আমরা আজ নাহয় খানিকক্ষণ মৌন থাকি বিষাদে , মাস্টারদার কথা ভেবে ৷

             ( সংগ্রহীত )

     <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===========================


No comments:

Post a Comment