859>|| জিরেনকাট ||
<---আদ্যনাথ-->
শীত যখন আসে জাঁকিয়ে
জিভে জল আসে হাঁকিয়ে।
হরেকরকম সুখাদ্যের লোভ
শাক সবজি ও নানান মিষ্টান্নের ভোগ।
শীতে জিরেনকাটের নলেন গুড়,
আর বাহারি কনকচুড়ের খৈ।
রকমারি খাবারের আনন্দে,
খাওয়ার আগেই মন ভরেজায় গন্ধে।
গ্রাম গঞ্জে শিউলিদের বাড়ন্ত উৎসাহ,
হাড়ি ভরা খেজুরের রসের সমারোহ।
রসের জন্য শিউলিদের উৎসাহ বাড়ে
খেজুরের সাজো রসেই স্বাদ নলেন গুড়ে।
নলেন বা নুতন গুড়ের মিষ্টি ও মোয়া
গুড়ের স্বাদে,গন্ধে জিভে জল খাসা।
শীতের সকালে খেজুরের রসে চুমুক,
সে এক বিভৎস ভালোলাগার হুজুক।
যে খায় সেই জানে খেজুর রসের স্বাদ,
এক চুমুকেই স্বর্গীয় আনন্দের আশ্বাস।
সকালের রস যেমন মিষ্টি তেমনি মধুর,
দুপুরের পরেই সেই রসেই নেশার ধুম।
শীত মানেই নানা সুখাদ্যের রমরমা,
শীত মানেই দুপুরে অলস দিবা নিদ্রা,
আর রাতে লেপ কম্বলের নীচে সুখ নিদ্রা,
দুবেলা পেটপুরে মন্ডা মিঠাই খাওয়া।
মনেপড়ে ছোটবেলার হাড় কাঁপানো শীত,
সেই শীত আজ আর নাই।
সকালে মাদুর বিছিয়ে উঠোনে বসে
একসাথে পড়াশুনা ভাই বোন মিলে।
শীতের দুপুরে পুকুরে স্নানের মজা,
গামছা ছুড়ে ফেলে জলে ঝাঁপিয়ে পড়া।
গামছা ডুবে যাবার ভয়ে লাফিয়ে পড়া,
শীতের ঠান্ডা জলে দাপাদাপি করা।
শীতের জল কেলির সেই আনন্দ,
ছিলনা বাদ বিবাদ ভালো মন্দ।
ছিল শিশুমনে অনাবিল ছন্দ,
হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার সেই আনন্দ।
<---আদ্যনাথ-->
=========================
শীতের সময়ে খেজুর গাছ বিশেষ পদ্ধতিতে চেঁছে তা থেকে রস নামানো হয়। এ পেশায় নিয়োজিত বলা হয় ‘গাছি’ বা শিউলি।
সাধারণত সপ্তাহে তিন দিন গাছ কাটা হয়। এর মধ্যে সপ্তাহের প্রথমে যে রস নামানো হয় সেটিই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। সপ্তাহের প্রথম দিন নামানো রসকে ‘জিরান কাটের রস’ বলে, দ্বিতীয় দিনেরটিকে বলে ‘দো কাটের রস’ আর তৃতীয় দিনের রসকে বলে ‘ঝরা রস’। প্রথদিনের রস থেকে ভালো মানের গুড় ও পাটালি তৈরি হয়। ঝরা রস থেকে হয় ‘তোয়াক গুড়’ ও ‘ঝোলা গুড়’।
No comments:
Post a Comment