863>|| শীতের সমারোহ ||
<--আদ্যনাথ-->
বর্ষার পরেই শীত আসে ধীরে,
প্রকৃতি সেঁজে ওঠে নুতন করে।
বৃক্ষ লতা পাতায় শিশিরের পরশ,
প্রকৃতিতে শান্ত শীতল আনন্দ হরষ।
শীত আগমনের প্রস্তুতির বেলা,
শুরু হয় গাছে গাছে পাতাঝরা।
চিনারের পাতা তাই রঙিন হলো,
ঝড়েপড়ার আগে সেঁজে উঠলো।
শীতের হিমেল হাওয়ায় আনন্দ বাহার,
ফুলের সমারোহ যেন আনন্দ বিহার।
মন ব্যাকুল ফুলের সমারোহ দেখে,
নূতনের গন্ধে মনে শিহরণ জাগে।
শীতে অজস্র রঙিন ফুলের সমারোহ,
প্রকৃতি যেন সুন্দরের পসরা সাজিয়ে,
বসে আছে মেঘের আঁচল বিছিয়ে,
কলঙ্ক রূপ কালমেঘ তবু থাকে ঘিরে।
দক্ষিণায়নের হেলেপরা সূর্য রশ্মি,
উত্তরের হিমেল হওয়ায় বাড়ন্ত শীত।
কুয়াশার কালো মেঘ আকাশকে ঢাকে
শীতকে ফিরিয়ে দিতে চায় বারে বারে।
কুয়াশা আজ সূর্যকে রেখেছে ঢেকে
প্রকৃতি মায়াময় আবরণে আছে ঘিরে।
শিউলিদের কপালে চিন্তার ঘাম জমে, একটু ভালো সাজোখেজুর রসের সন্ধানে।
শীতে জিরেনকাটের নলেন গুড়,
একটু ভালো খৈএর জন্য চাই কনকচুড়
তাই শীতে শিউলিদের বাড়ন্ত উৎসাহ
সাজো রসের গুড়ের সেই স্বাদের জন্য।
শীতের পিঠে পুলি জয়নগরের মোয়া
নলেন গুড়ের মিঠে গন্ধের ছোঁয়া।
বোধহয় শীতেই সর্বসুন্দর প্রকৃতি,
হৃদয়ের মাঝে তাই সুন্দরকেই খুঁজি।
শীতের মায়াময় রূপেই নানা ছন্দ
ফুলে ফুলে দেখি মধুকরের আনন্দ
নানান ফুলে সজিয়ে রঙিন ডালি।
শীতের সকাল যেন সুন্দরীপরি।
<--আদ্যনাথ-->
======================
শীতের সময়ে খেজুর গাছ বিশেষ পদ্ধতিতে চেঁছে তা থেকে রস নামানো হয়। এ পেশায় নিয়োজিত বলা হয় ‘গাছি’ বা শিউলি।
সাধারণত সপ্তাহে তিন দিন গাছ কাটা হয়। এর মধ্যে সপ্তাহের প্রথমে যে রস নামানো হয় সেটিই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। সপ্তাহের প্রথম দিন নামানো রসকে ‘জিরান কাটের রস’ বলে, দ্বিতীয় দিনেরটিকে বলে ‘দো কাটের রস’ আর তৃতীয় দিনের রসকে বলে ‘ঝরা রস’। প্রথদিনের রস থেকে ভালো মানের গুড় ও পাটালি তৈরি হয়। ঝরা রস থেকে হয় ‘তোয়াক গুড়’ ও ‘ঝোলা গুড়’।
No comments:
Post a Comment