845> || শরত আমাকে ভাবায় ||
<---আদ্যনাথ--->
কখনো শরত কে বুঝিনি তেমন করে,
আসলে শরতকে বুঝতে যে মন লাগে
তেমনি মন আমার নাই বা কোনদিন
ছিলোওনা বুঝি।
কলকাতার বাইরেই কেটেছে
চাকুরী জীবন,
দূরের নানান জনপদে।
পাহাড়-জঙ্গলে পরিপূর্ণ
অপূর্ব সুন্দর প্রকৃতির মাঝে,
কখনো হিমালয়ের লাদাখে,
বা নাগা হিলে অথবা
মেঘালয়ের গারো-খাসি রেঞ্জের
গারো হিলে।
আবার কখনো সবুজে সবুজে পরিপূর্ণ,
বঙ্গোপসাগরের তীরে,
মাটিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচেথাকা
মেঠো পথে জীর্ন শরীরের
মানুষদের সাথে।
আবার কখনো মধ্যপ্রদেশের
কিছু শ্বাপদ সঙ্কুল গভীর জঙ্গলে,
কিছু বন্য প্রাণীদের সাথে।
হয়তো মহারাষ্ট্রে ভেন্ডারা আর
মধ্যপ্রদেশের ইন্দর অথবা চম্বল ঘাঁটিতে।
কলকাতায় কোনদিন শরৎকে
খুঁজে পাইনি তেমন করে।
বায়ুদূষণ ও গাড়ি ঘোড়ার ভিড়ে,
কলকাতায় শরৎ ঢুকতেই পারেনা
তেমন করে।
হয়তো কখনো একটু উকি ঝুঁকি
মারার চেষ্টা করে,
কলকাতার আকাশে একটু
টিকে থাকার চেষ্টা করে,
কিন্তু ঠাঁই পায়না তেমন করে।
আমি দুইএক বার চেস্টা করেছি,
ছুটে এসেছি, কোন রুক্ষ শুষ্ক
বনাঞ্চল থেকে কলকাতায়,
মনের ভাবনা,আদরে কলকাতার
শরত কে একটু গায়ে মাখতে।
কিন্তু হতাশা ছড়া কিছুই মেলেনি তেমন করে।
তাই হয়তো শরত কে উপভোগ করতে
মনে ধরে রাখতে,
কলকাতার বাইরে পাহাড়ে জঙ্গলে,
একটু নিরিবিলিতে,
থাকতেই ভালো লাগে।
সেখানে যদিও দুই একটি ছাড়া
পূজো হয়না তেমন করে,
কিন্তু মানুষের মন, হৃদয় পাওয়া যায়
প্রাণ খুলে আদোর করে।
বর্ষা বিদায় নিচ্ছে ।
গুটিয়ে নিচ্ছে তার কালো মেঘের চাদর,
ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে বাংলার আকাশ থেকে দূরে,
হয়তো হিমালয় পার করে চলে যাবে ওপারে দূরে।
অথবা মেঘ গুলি বরফ হয়ে মিশে যাবে হিমালয়ের সাথে।
আর সেখান থেকে হিমেল হওয়া
গ্রীষ্মকে সরিয়ে নীল আকাশে ধীরে ধীরে
মিশে যাবে শরতের এই হালকা শীতের আকাশে।
এমন দিনে মন হারিয়ে যেতে চায় দূরে।
শরতের চঞ্চল মাদকতার খেলায়
মন পৌঁছে যায় সেই শিশু বেলায়,
অদ্ভুত এক মিষ্টি মধুর নেশায়।
শরতের দুর্গা পূজাকে গভীর ভাবে অনুভব করি,
পূজার চারটে দিন এক স্নিগ্ধ নেশায়
বুদ হয়ে পথে পথে ঘুড়ে বেরিয়ে,
আনন্দ মুখরিত শিশুদের দেখি দুচোখ ভরে,
আর এমনি করেই কিছু মনের খোরাক জোগাই।
এইতো সেদিনও শরতের সকালে
অঝোরে কেঁদেছি একলা বসে,
যখন দেখেছি উলঙ্গ দুটি শিশু
সেই সকালে একটু পান্তা খেয়ে
আবার দুপুরে একটু ভাত খাবার জন্য
অঝোরে কাঁদছে,
আর মায়ের আঁচল ধরে টানছে,
অসহায় মা বসে আছে মুখ ঢেকে,
ঘরে খাবার বাড়ন্ত,
দুফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল মাতৃ ক্রোড়ে।
এমন দৃশ্য দেখে সব কাজ ফেলে রেখে
দৌড়ে এসেছিলাম কলকাতায়,
যতটা সম্ভব কিছু জামা কাপড় কিনে,
ওদের দিয়ে পুজোর আনন্দ
ভাগকরে নিয়েছিলাম ওদের সাথে ।
জানতাম ওদের প্রয়োজনের তুলনায়
সে ছিল অতি সামান্য।
তবুও ঐটুকুতেই একটু সুন্দর মিষ্টি হাসি
খুঁজে পেয়ে ছিলাম,
ক্ষনিকের জন্য আদর করে।
শরৎ আসলেই আমাকে ভীষণ
ভাবিয়ে তোলে।
কারন এর পরেই শীত
হানাদেবে ঘরে ঘরে।
যেখানে ওরা দুমুঠো খাবার
জোগাড় করতেই দিশেহারা।
শীতে টিকে থাকতে কি আছে ওদের
ওই আগুন ছাড়া।
সেই আগুন জ্বালাবার খড়কুটো,
শুকনো পাতা ।
তারও অকাল বর্ষনের বন্যায়
সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
গরু ছাগল হাস,মুরগি গুলিও
ওরা বাঁচাতে পারেনি।
মানুষ গুলি কোনমতে বেঁচে আছে।
এখন ধুকছে, সামান্য রিলিফ,
তাতে সকলের পেট ভরে না।
দূরের গ্রামে ঢাকের আওয়াজ
শিশুদের কানে পৌঁছে যায়,
মনে করিয়ে দেয়, দুর্গা পূজা হচ্ছে।
বাচ্ছা গুলো তখন থেকেই বায়না,
মেলায় যাবার জন্য বায়না।
মায়ের চোখের জল কে মোছাবে?
সেইসব দিনের কথা চিন্তা করলে
শরত কে বিভীষিকা মনে হয়।
তবুও শরতের দুর্গা পূজাকে
অনেক হাসি কান্নার মধ্যেও
সুন্দর রূপে ভাবতে চেষ্টা করি।
2013 সালে শরতে গিয়ে ছিলাম আমেরিকায়,
সেখানে আরব সাগরের তীরে,
53 RalphAvenue, Babylon ,
New York 11702 তে আমি
আমার মেয়ে ও জামাইয়ের কাছে ছিলাম।
ওখানে দেখেছি ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবে
সকলে একসাথে কিভাবে আনন্দ করছে।
দেখেছি বাংলা দেশের মুসলিমরাও দুর্গা পূজা করছে।
খিচুড়ি লাবরা প্রসাদ সকলের জন্য, অবারিত দ্বার।
কি সুন্দর মিলে মিশে একাকার।
নাম ও পদবি না বললে বোঝাই যাবেনা
কে মুসলিম আর কে হিন্দু কে খ্রিস্টান।
ও খানে ছুটির দিন শনিবার ও রবিবার পুজো হয়।
কলকাতার মতন দিন ক্ষণ তিথি নক্ষত্র দেখে
ওখানে পুজো হয়না।
আর ঠাকুরের মূর্তিও প্রতি বৎসর নুতন হয়না।
পুরানো মূর্তিকে নুতন রূপে সাজিয়ে
গুছিয়ে পূজো করে।
ওরা শনিবার রবিবার আনন্দ করে,
ভক্তির সাথে আনন্দ মিশিয়ে পুজাকরে।
ওখানে বিশাল ডেকোরেশন,
চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জা দেখিনি,
দেখেছি মানুষে মানুষে মিলম মেলা।
ওদেশে পুজো মানে আনন্দ মুখরিত
দুইদিনের এক মলিন মেলা।
ধর্ম থাকে সকলের হৃদয় মাঝে,
সকলে মিলিত হয় পূজা পেন্ডেলে
আনন্দ মনে।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
==========================
I think:---
DURGA PUJA IS ONE OF THE
WORLD'S GREAT MEETING OF
SPIRITUAL OCCASIONS AND
LARGEST CARNIVALS OF ART.
<---ANRC--->
========================
No comments:
Post a Comment