Wednesday, September 1, 2021

828>|| 'আই এ ডি' র ভাবনা ||

  

   828>|| 'আই এ ডি' র ভাবনা ||

                     <--আদ্যনাথ-->


ইন্টারনেটের দুনিয়া আজ ভাবায়,

সহজেই দুনিয়াটা মুঠোয় পাওয়া যায়।

বর্তমান কোভিডি কালে অথবা 

অবসর সময়ে আমারা ব্যস্ত থাকি

ইন্টারনেট দুনিয়ায় নিজেকে জুড়ে 

নিয়ে।

অনেক জানা, অজানা কে জানতে।

অতি সহজেই অনেক কিছু শিখতে।

যে কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে,

নুতন কিছু জানতে বা বুঝতে।

আনন্দে অবসর সময় কাটাতে,

প্রিয় জনের সাথে আড্ডা দিতে।

আজ ইন্টারনেটের কোন বিকল্প নাই,

"আই এ ডি"র আসক্তি বাড়ছে তাই।

("আই এ ডি" অর্থাৎ ইন্টারনেট অ্যাডিকসন ডিসঅর্ডার) 


বাড়ন্ত ইন্টারনেটের আসক্তির কারনে,

প্রভাব ফেলছে শিশুদের শরীর ও মনে।

আজ শিশুদের স্কুল, খেলাধুলা অথবা অবসর যাপন,

সকল কিছুতেই ইন্টারনেটই তার একমাত্র সঙ্গী আপন।

আর সেই কারণেই বাড়ন্ত আসক্তির রাশ টানা একান্ত উচিত।

আর এই ক্ষেত্রে পিতা মাতার ভূমিকাই প্রধান একথা মনে রাখা উচিত।


আজ অন লাইনে চলছে স্কুল, অফিস,

মা বাবা সারাদিন মোবাইলে অফিস।

তাছাড়া মা বাবা যদি সারাদিন মোবাই নিয়ে সোশাল  মিডিয়ায় ব্যস্ত থাকেন,

তবে সন্তানের মনেও তার প্রভাব পড়বেই।


বাবা মা বাচ্চাকে পড়তে দিয়ে নিজে মোবাইলে ব্যস্ত রয়।

বাবা মা শিশুদের পাশে বসে মোবাইলে

খেলেন গেম,

অথবা সোশাল মিডিয়ায়  চ্যাট করতে, 

বা জোক্স পড়তে ব্যস্ত থাকেন,

আর মনে মনে ভাবেন, সন্তান মন দিয়ে পড়বে, 

সেটা কিকরে সম্ভব? 

এমন অবাস্তব চিন্তা করাই বৃথা।


এটাইতো স্বাভাবিক,

আপনার দেখা দেখি বাচ্ছাও সুযোগ খুঁজবে মোবাইলে গেম খেলতে।


এখানে মনে রাখতে হবে, শিশু মস্তিষ্ক প্রচন্ড প্রখর ও নানান নুতন বিষয়ে জানবার চেষ্টায় শিশুর মস্তিষ্ক সদা চঞ্চল।


আর শিশুরা তো বড়দের, বিশেষ করে মা বাবাকে অনুকরণ করবেই।

অনুকরণ করাই শিশুদের স্বভাব।

এই সকল চিন্তা করেই প্রবাদ বাক্য মেনে চলাই শ্রেয়----

"আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও"


কিন্তু উপদেশ দেওয়ার মানুষ অনেক।


 আমাদের আসে পাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা উপদেশ দিতে খুবই ভালো বাসেন।

কিন্তু তাদের নিজেদের জীবনে সে কাজের প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায় না। 


এমন ব্যক্তিরা যখন কাউকে  কিছু শিক্ষা বা উপদেশ দিতে চেষ্টা করেন, তখন সেটা  গ্রহণযোগ্য না হওয়াই স্বাভাবিক।


কারন ভালো কাজ করতে বলা খুবই সহজ, কিন্তু ভালো কাজ করা বা করে দেখানোটা সহজ সাধ্য নয়।


মানুষের অবুঝ বা লঘু  মনে  অন্ধকার ও নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি প্রবল আকর্ষণ। 

সেই কারণে খারাপ কাজে কিছু মানুষ সহজাত প্রবৃত্তিগত কারণেই আকৃষ্ট হয়। 


কিন্তু এইসকল থেকে দূরে থেকে, 

জীবনে সুন্দর ও সত্যের বিকাশ ঘটানোই প্রতিটি মানুষের করণীয়। 

কিন্তু এসব মিথ্যা ও অন্ধকারের হাতছানিকে উপেক্ষা করে জীবনে সততার পথ অবলম্বন করা ভীষণ কঠিন। 

আর এই কঠিন কাজটি নিজে সম্পাদন করার পরই কেবল অন্যকে শিক্ষা দেওয়া উচিত। তবেই সেই শিক্ষা অর্থবহ হয়ে উঠবে। নচেৎ নয়।


একজন নীতিবান মানুষ তার সারাজীবনে ন্যায়, নীতি ও অনুশীলন করলেই কেবল অন্যরা তার নিকট থেকে উপদেশ গ্রহন করবে। 

উপদেশ দেয়ার আগে আমাদের অবশ্যই চিন্তা করতে হবে আমরা নিজেরা কাজটি করতে কতটুকু সক্ষম।

অর্থাৎ যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে উপদেশ প্রদানের পূর্বশর্ত হলো নিজে সেই কাজের যথার্থ অনুশীলন করা। নিজে সে কাজ করে দেখাতে না পারলে উপদেশ অর্থহীন হয়ে পড়ে। নিজে করে অপরকে শিক্ষা দিলেই, কেবলমাত্র সেই শিক্ষা গ্রহণযোগ্য হয়।

আর তখনই 

"আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও"

এই শিক্ষার যথার্থতা উপলব্ধি হয়।

আর এহেন উপলব্ধির মাধ্যমে শিশু মনকে

সুন্দর করে গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।


খেয়াল রাখতে হবে শিশু যেন কোন মতেই

"আই এ ডি" অর্থাৎ ইন্টারনেট অ্যাডিকসন

ডিসঅর্ডারের শিকার না হয়।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================


9/1, 3:44 PM-ShankarDam: সত্যিই "আই এ ডি "  র ভাবনা নিয়ে লেখাটি অসাধারণ অসাধারণ হয়েছে । একদম বাস্তবধর্মী লেখা । ভীষন ভীষন ভালো লাগলো ।

9/1, 4:45 PM  Adyanath Roy Choudhuriবেশ বেশ প্রশংসা মূলক লেখা পড়ে আনন্দে আটখানা।

মনে থকবে আপনার সুন্দর জবাব খানা।

========================

No comments:

Post a Comment