807>>দেহ রথ-----
<--আদ্যনাথ-->
আমাদের শরীর ও জগন্নাথ দেবের রথ
যেন একই সূত্রে গাঁথা।
রথযাত্রা আসলে সফর/পথচলা।
ব্রক্ষ্মের সঙ্গে মিলনের বাহন রথ।
প্রভু জগন্নাথ দেবের রথ
সত্যই মানব দেহের প্রতিরূপ।
প্রভুর রথে আছে কাঠ 206 টি,
মানব দেহে আছে হাড় 206 টি ।
রথের 16 টি চাকা/চক্র এ যেন
মানব দেহের পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়,
পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় সহ ষড় রিপুর প্রতীক।
সারথি দারুক যেন আমাদের বুদ্ধি
আর সেথায় রথী প্রভু জগন্নাথ
আমাদের আত্মা।
আত্মা শরীর নামক রথের রথী,
সেথায় সারথি বুদ্ধি।
মন রুপি লাগাম আর
পঞ্চেন্দ্রিয় রুপি ঘোড়া।
মন, বুদ্ধি স্থির থাকলে
শরীর রথ নিবাত-নিষ্কম্প।
তখন সাফল্য নিশ্চিত করায়ত্ত।
কিন্তু মন-বুদ্ধি-হৃদয়,
যদি বিপথগামী হয়,
শরীর নামক রথও তখন,
নিশ্চিত বেসামাল হয়।
রথের অশ্ব বিশৃঙ্খল হলে,
সারথি বা রথীর অতিশয়
প্রাণসংশয়ের সম্ভাবনা বাড়ে।
রথী জীবাত্মা, সারথি পরমাত্মা।
ঘোড়ারাদের ক্ষ্যাপামিতে,
সারথি হন বেসামাল
রথ নিশ্চিৎ হয় ভারসাম্য হীন।
তখন সঠিকপথে রথ চলা হয় কঠিন।
শরীর রথের ভিতরে,
সমাসীন জীবাত্মা হৃদয়ে।
মন-বুদ্ধি তাকে পথ দেখিয়ে
নির্দিষ্ট লক্ষে পরমাত্মার সঙ্গে মিলিয়ে দেবে।
তারপরে উল্টো রথের যাত্রা শেষে,
প্রভু জগন্নাথ রথ থেকে নেবে গেলে,
রথের সেই কাঠ আগুনে পোড়ে।
যেমন দেহ থেকে আত্মা চলে গেলে,
শরীরকে আগুনে দাহ করে।
কঠ উপনিষদেই পাই,
জীবের দেহ রথ, জীবাত্মা রথী,
মন হচ্ছে রথের রশি আর বুদ্ধি সারথি।
অর্থাৎ আমাদের শরীর রথে
অবস্থিত আত্মাই রথের রথী,
সেই আত্মাকে নির্গুণ স্তরে পৌঁছাতে সারথি বুদ্ধি, রশি মনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে দশ ইন্দ্রিয় এবং ষড় রিপু গুলোকে।
তারপরে আত্মা দেহ ত্যাগ করলে, শরীরকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মাধ্যমে নষ্ট করাই রীতি।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
=====================
No comments:
Post a Comment