816>|| মুক্ত,শুদ্ধ হও ||
<-----আদ্যনাথ------>
মধ্যপ্রদেশের ভেটেন্ডার গভীর জঙ্গলে
দেখা হয়েছিল সেই মহান সাধুর সঙ্গে।
যাঁর সাথে আমার বহুদিনের পূর্ব পরিচয় ছিল।
হিমালয়ের নানা স্থানে ঘুরেছি ওনার সাথে।
ওনার ব্যবহারে মুগ্ধ নাহয়ে উপর থাকেনা কারুর, একবার কথা বললেই ওনার প্রেমে পড়তেই হবে। মনেরাখতে হবে চির কাল।
জঙ্গলের সকল জীবই যেন ওনার আদরের পরিচিত বন্ধু।
সকল মানুষ, পশু পাখি এবং কীট, পতঙ্গ সকলেই ওনার আদরের, সকলকেই উনি ভীষণ ভালোবাসেন।
একটি পিপরাও ওনাকে কামরায় না।
জঙ্গলের মশা গুলি আসে পাশে উড়ে বেড়ায় কিন্তু ওনাকে শরীরে হুল বসায় না।
এমন কথা ভাবনার অতীত। কিন্তু আমি ওনার সাথে রাতের পর রাত থেকে দেখেছি।মনে হয় যেন ভালোবাসার প্রতি মূর্তি।
ভালোবাসার কি অপূর্ব ক্ষমতা,
না দেখলে বিশ্বাস করাই অসম্ভব।
আমি তখন বিলাসপুরে পোস্টিং,
একদিন রতন রাম নামে এক জন বিলাস পুরী ড্রিলার,যার বাড়ি ওই জঙ্গলের সীমানার কাছে। তিনি জানালেন,
পেনড্রা থেকে 30 কিলোমিটার দূরে ভাটিন্ডার গভীর জঙ্গলে এক দন্ডী সাধু বাবা কুটি বেঁধে আছেন নর্মদার তীরে।
আমি অমন কথা শুনে ভাবলাম হয়তো কোন অজানা সাধু হবেন।
মনের জিজ্ঞাসা কে জানতে তৈরি হলাম
সাধু বাবার সাথে দেখা করতে।
তখন সন্ধ্যা উত্তীর্ণ প্রায়,
আমি পৌঁছলাম সাধুর জীর্ণ প্রায় কুটিরে।
যদিও বহুদিনের পরে দেখা, তবুও দেখা হতেই বুঝলাম ইনি সেই আমার পূর্ব পরিচিত সাধু বাবা। আর উনিও আমাকে ঠিক চিনতে পারলেন।
গভীর জঙ্গলে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই অন্ধকার নেমে আসল।
অন্ধকারের সাথে শীত ও বাড়তে লাগলো।
আমরা দুজনে কুটিরের ভিতরে, দুজনের মাঝে এক যজ্ঞকুন্ড, তাতে ধিকি ধিকি করে আগুন জ্বলছে।
ওই যজ্ঞের আগুনের কারনে শীত একটু হলেও কম লাগছে।
সাধু বাবা আর আমি নানান কথা আদান প্রদানে ব্যস্ত।
হঠাৎ কুটিরটি বেশ জোরে নড়তে শুরু করল। মনে হচ্ছিল বাইরে থেকে কে যেন ধাক্কা মারছে কুটিরে।
জীর্ণ প্রায় কুটিরে ভীষণ আলোড়ন শুরু হতেই সাধু বাবা বলে উঠলেন ---
" কেয়ারে কুটি তোরেঙ্গে কেয়া? ইহা মেরা এক জানপহেচান,চেলা আয়া হায়।
কেয়া ইরাদা তেরা। যা যা কিসি পেড়মে
যা কর পিঠ রগর।"
আকি উকি দিয়ে দেখি এক বিশাল আকৃতির বাঘ । বাঘটি গা ঘসছে সাধুর কুঠিরের বেড়াতে।
সাধুর এমন কথা শুনে, বাঘটি বেড়ার ফাঁক দিয়ে মনে হয় আমাকে একবার দেখে নিয়ে একটু দূরে একটি গাছে পিঠ ঘষতে শুরু করলো। আর দুই পায়ে দাঁড়িয়ে নখ দিয়ে গাছে আঁচড় কেটে চলে গেল।
আমি দম ছেড়ে বাঁচলাম।
সাধু বাবা আমায় বললেন ---/
" নয়া আদমি কে ঘ্রাণ মিলা উসিকো, ইস লিয়ে আয়েথে দেখনে কে লিয়ে।
কই বাত নেহি, ঘাবরাও মৎ, মেয়নে বোল দিয়া , অভি তুমহারা কই ডর নেহি"।
সেদিন আমি রাতভর ওখানে ছিলাম,
সাধু বাবা রাতভর জোগাসনে বসে ছিলেন, আমি সামনে বসে রাত ভর ঘুমে ঢুলছিলাম।
হয়তো ভোরের দিকে ওখানেই ঘুমে ঢুলে পড়ে বাবার দেওয়া কম্বলেই ঘুমিয়ে পরে ছিলাম।
সকাল হতেই সাধু বাবা আমায় ডেকে তুললেন স্নান করার জন্য।
আমরা দুজনে জঙ্গলের পাকদন্ডী ধরে হাটতে হাটতে নর্মদা নদীর দিকে যাচ্ছিলাম।
হঠাৎ দেখি সামনে এক ঝাঁক ভয়ানক ভিমরুল। লক্ষ লক্ষ ভিমরুল।
এতো বড় সাইজের ভিমরুল আমি জীবনে কখনো দেখিনি,
ওর একটি হুলেই আমার ভব লীলা সাঙ্গ হতে পারে।
আমি খানিকটা ভয় পেয়ে একটু থেমে গিয়ে দেখলাম সাধুবাবা যখন ওদের মাঝখান দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ভিমরুল গুলি ওনাকে যেন পথ ছেড়ে দিয়ে দুভাগে ভাগ হয়ে গিয়ে ওনাকে রাস্তা দিয়ে আবার একসাথে জড়ো হয় উড়তে লাগলো।
সাধু বাবা আমার ব্যাপার টা অনুভব করে ওই ভিমরুল গুলির উদ্দেশ্যে বলেন
" এ বেটা হাট যা ওহ মেরা দোস্ত হাট যা"
ব্যাস এমন কথা বলতেই মনে হলো ভিমরুল গুলি ওনার কথা বুঝতে পারলো এবং সেই আগের মতন দুই ভাগ হয়ে সরে গেল।
আমি ভয়ে ভয়ে এক দৌড়ে ওই জায়গা পাড় হলাম।
আমাকে দেখে সাধু বাবা একটু হাসলেন।
আমি এমন সব ঘটনায় একটু অবাক বিস্ময়ে সাধু বাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম।
পশু ও পতঙ্গ দের এমন এমন আচরণের কারন কি?
এ কি কোন গুপ্ত বিদ্যা?
সাধু বাবা সেদিন আমাকে বলেছিলেন -----
" बेटा अगर आप अपना चित्त
शुद्ध, मुक्त, कर सकते हैं,
तो सहज मैं सारे जीव
आपसे प्यार करेंगे।
आपके आदेशकी मान्यता देंगे।"
আমি এমন কথা শুনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কিকরে, কি ভাবে মানুষ
এমন শুদ্ধ, মুক্ত হতে পারে।
সাধু বাবা বলেছিলেন --------
"गुस्सा,गौरव,लालच,घृणा,
ए सारे दुश्मन जब तक किसी
आदमी के अंदर रहते हैं,
तब तक कुछ भी नेही होंगे शुन्दर।
दुनिया सारे होंगे आपकी दुश्मन।"
সেই ঘটনা মনে পড়তেই আজ লিখলাম
সাধুবাবা নির্দেশের সেই কথা।
যদি নিজে মুক্ত,শুদ্ধ হও,
তাবে জীবমাত্রে সকলের মন,
সহজেই করতে পারবে জয়।
অহঙ্কার,ক্রোধ,লোভ,ঘৃণা,
রুপি শত্রু, থাকলে নিজের ভিতর,
কেমনে করবে সকলের মন জয়।
<-----আদ্যনাথ------>
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
जब होंगे अपना
चित्त शुद्ध, मुक्त,
तब सहज मैं सारे जीव जगत
करेंगी आपको बिस्वास,
समझेंगे आपका प्यार,
मान्यता देंगे आपके आदेशकी।
गुस्सा,गौरव,लालच,घृणा
ए सारे दुश्मन जब तक हैं अंदर,
तब तक कुछ भी नेही होंगे शुन्दर।
दुनिया सारे होंगे आपकी दुश्मन।
<--------आद्यनाथ----->
============================
No comments:
Post a Comment