811> ||সে এক রেজা ||
<-----আদ্যনাথ----->
দেখেছি ওদের নিজে থেকে,
দেখেছি ওদের একটু কাছে থেকে।
ধৈর্য আর সহিষ্ণুতার পরাকাষ্ঠা।
স্ত্রী জাতীর সহনশীলতা ও নিষ্ঠা।
পেটের জ্বালায় একমুঠো অন্ন চায়।
শেষে না পেয়ে শিশু গুলি কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে যায়।
ওরা দিনআনা দিন খাওয়া ঘরে,
রান্না হবে মা ফিরলে তবে।
বাপটার কাজ গেছে কিছুদিন আগে,
দুর্বল শরীর যক্ষা রোগে ভুগে ভুগে।
বউটা এখন রেজার কাজ করে,
আজ শুক্রবার তাই আজ হপ্তা পাবে।
কিছু খাবার কিনে নিয়ে আসবে ঘরে,
তিনটি শিশুকে রেখে, গেছে কাজে।
ঘর বলতে ঐতো এক ভাঙা কুড়ে,
বৃষ্টি হলেই বসে থাকে প্লাস্টি মুড়ে।
ফুটপাথের ধারে ট্রাসফমারের নীচে,
পুলিশ ঘর ভেঙে দিয়ে যায় মাঝে মাঝে।
বউটা রাজ মিস্তিরির সাথে দিন ভর খাটে,
পাঁচ মাসের বাচ্চা ওর পেটে।
খাটতে হয়, ছুটি নাই সাতদিনে,
কষ্ট হয়, তবুও বউটা খাটে মুখ বুজে।
কালকের কিছু পান্তা ছিল ঘরে,
একটা ছাগল সব টুকু খেয়ে গেছে সাফ করে।
ছোট্ট ছেলেটি কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়েছে,
মেয়ে দুটি বসে আছে মায়ের পথ চেয়ে।
সন্ধ্যায় মা ফিরলে উনুন জ্বলবে,রান্না হবে,
মা,চাল ডাল তরকারি নিয়েই আসবে।
অনেকদিন পরে কাজটা জুটেছে,
তাও মুন্সিকে অর্ধেক বখড়া দিতে হয়েছে।
ফেরার পথে চাল ডাল নিয়েই ফিরছে,
এমনি করেই ওদের কষ্টে দিন চলছে।
একদিন খোঁজ নিয়ে জানলাম।
বউটি দশ ক্লাস পাস,ভালোবেসে বিয়ে করে পালিয়ে এসেছে ঝাড়খণ্ডে।
হঠাৎ ওর স্বামী যক্ষায় ভুগছে।
সেদিন সন্ধ্যায় আমি আর ইব্রাহিম,
বোস বাবুকে ধরে ওনার কারখানায় বউটিকে কাজে লাগিয়ে দিলাম।
ছেলেটিকে লাগিয়ে দিলাম দারোয়ানের কাজে।
ওরা কাজ পেল থাকার মতন ঘর পেল,
বোস বাবু ছেলেটির চিকিৎসা করাল।
এখন বাচ্ছা গুলি স্কুলে ভর্তি হয়েছে,
সকলের অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
ছেলেটি আজ কাল আর মদ খায় না,
রেজা টি এখন গুছিয়ে সংসার করছে।
বড় মেয়েটি পড়াশুনায় খুবই ভালো,
বোস বাবুর স্ত্রীই সকল জানালো।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
==========================
No comments:
Post a Comment